অনিদ্রায় বাড়তে পারে ফ্যাটি লিভার
ফ্যাটি লিভারের কথা উঠলেই সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব এবং স্থূলতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শুধু খাবার বা ওজন নয়, আপনার ঘুমের অভ্যাসও লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দিনের পর দিন কম ঘুম, অনিদ্রা কিংবা মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফ্যাটি লিভার একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যায় পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনো পর্যায়ে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এর মধ্যে অনেকেই শুরুতে কোনো উপসর্গ অনুভব করেন না। ফলে রোগটি নীরবে শরীরে ক্ষতি করতে থাকে। গবেষণা কী বলছে? গবেষকদের মতে, যাদের রাতে ঘুমের সমস্যা রয়েছে, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায় অথবা দিনে অতিরিক্ত ঘুমানোর প্রবণতা রয়েছে, তাদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। একই গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের মান উন্নত করা গেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি প্রায় ২৯ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। ঘুম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? আমরা সাধারণত সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়
ফ্যাটি লিভারের কথা উঠলেই সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চার অভাব এবং স্থূলতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শুধু খাবার বা ওজন নয়, আপনার ঘুমের অভ্যাসও লিভারের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
দিনের পর দিন কম ঘুম, অনিদ্রা কিংবা মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফ্যাটি লিভার একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যায় পরিণত হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনো পর্যায়ে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত। এর মধ্যে অনেকেই শুরুতে কোনো উপসর্গ অনুভব করেন না। ফলে রোগটি নীরবে শরীরে ক্ষতি করতে থাকে।
গবেষণা কী বলছে?
গবেষকদের মতে, যাদের রাতে ঘুমের সমস্যা রয়েছে, ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায় অথবা দিনে অতিরিক্ত ঘুমানোর প্রবণতা রয়েছে, তাদের মধ্যে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। একই গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের মান উন্নত করা গেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি প্রায় ২৯ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
ঘুম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
আমরা সাধারণত সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের কথা শুনে থাকি। কিন্তু অনেক সময় ঘুমকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম বা মেটাবলিক স্বাস্থ্যের জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর শক্তি ব্যবস্থাপনা, ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণ এবং ফ্যাট বিপাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারে না। এর ফলে ধীরে ধীরে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে।
ঘুমের অভাবে যেভাবে লিভারের ক্ষতি করে
রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। বিশেষ করে কর্টিসল নামের হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে, যা ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ।
এছাড়া ঘুমের অভাব ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলে। ফলে বেশি ক্ষুধা লাগে এবং বিশেষ করে মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। নিয়মিত এমন খাবার খাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রম কম হলে লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
অবাক করার বিষয় হলো, শুধু স্থূল ব্যক্তিরাই নন, স্বাভাবিক ওজনের মানুষের মধ্যেও ঘুমের সমস্যার কারণে ফ্যাটি লিভার দেখা দিতে পারে।
ভালো ঘুম কি ফ্যাটি লিভার কমাতে সাহায্য করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে বা স্টেজ-ওয়ানে থাকে, তাহলে ঘুমের মান উন্নত করা রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভালো ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করার সুযোগ পায়। এতে শরীরের প্রদাহ কমে এবং লিভারের ওপর চাপও হ্রাস পায়।
তবে শুধু বেশি ঘুমালেই যে ফ্যাটি লিভার সম্পূর্ণ সেরে যাবে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়। এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, যার সমাধানে জীবনযাত্রার সামগ্রিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
ফ্যাটি লিভার এড়াতে যা করবেন
ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, আঁশসমৃদ্ধ খাবার এবং স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখুন। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম বা অন্য কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ।
রাত জেগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমানো, ঘুমানোর আগে ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা উচিত
ফ্যাটি লিভার শুধু খাদ্যাভ্যাস বা ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; ঘুমের সঙ্গেও এর গভীর যোগ রয়েছে। তাই সুস্থ লিভার এবং ভালো বিপাকীয় স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন
- আরও পড়ুন:
গরমে অতিরিক্ত ঘাম শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফলের উপকারিতা জানুন
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?