অনিশ্চয়তার দোলাচলে শাকসু নির্বাচন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত এই নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে শাকসু নির্বাচন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এর ফলে শাকসু নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে কি না এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা। এদিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সোমবার রাতভর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভকারীরা সিদ্ধান্ত জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আজ ঢাকায় ইসি কার্যালয়ে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করবেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আগামী ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত এই নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তায় পড়েছে শাকসু নির্বাচন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এর ফলে শাকসু নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে কি না এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা।
এদিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সোমবার রাতভর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেন ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভকারীরা সিদ্ধান্ত জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আজ ঢাকায় ইসি কার্যালয়ে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করবেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, অনিশ্চয়তা কাটিয়ে দ্রুতই শাকসু নির্বাচন নিয়ে একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসবে।
এ বিষয়ে শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিনিধিত্ব চাই, এটা আমাদের মৌলিক অধিকার। জাতীয় নির্বাচনের দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ছাত্রসংসদ নির্বাচন আবারও বন্ধের এই ষড়যন্ত্র আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। প্রশাসনকে অবশ্যই এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, অন্যথায় আমরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঘরে ফিরব না।’
স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকেই আমরা শাকসুর জন্য আন্দোলন করেছি। ক্যাম্পাসে আমরা নিরলসভাবে পরিশ্রম করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছিলাম। এই মুহূর্তে ইসি কর্তৃক নির্বাচন স্থগিত সিদ্ধান্তের কারণে সবার মাঝে অনিশ্চয়তার দেখা দিয়েছে। আমরা চাই ইসি থেকে শাকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো বাধা যেন না থাকে।’
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবুল মুকিত মোহামম্মদ মুকাদ্দেছ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ সকল প্রকার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছে এখনো কোনো অফিসিয়াল চিঠি আসেনি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে জানাবো।’
এদিকে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশন অফিসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ সকল নির্বাচন কমিশনারবৃন্দের সঙ্গে শাকসু নিয়ে আলোচনা করেন শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।
আলোচনা সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারি তারিখে শাকসু নির্বাচন হওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে জানানো হয়।
অন্যদিকে শাকসু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত ছিলেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, কোনো আশ্বাসে আমরা বিশ্বাস করছি না। আমাদের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, ‘ইসি থেকে জানানো হয়েছে প্রত্যেক প্যানেলের প্রার্থীরা যেন নির্বাচন নিয়ে অঙ্গিকারনামা পেশ করেন, যা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে।’
What's Your Reaction?