অনুগত নয়, রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে জনবান্ধব করতে হবে: সুব্রত চৌধুরী

গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে জনবান্ধব এবং রাষ্ট্রের বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা উচিত, কোনো নির্দিষ্ট দলের অনুগত বাহিনী হিসেবে নয়। তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করে জনস্বার্থে কাজ করাই তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত । সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা : গণতান্ত্রিক শাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক পলিসি ডায়লগে আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন। সুব্রত চৌধুরী বলেন, সামরিক ও গণতান্ত্রিক সরকারগুলো বিভিন্ন সময়ে বাহিনীকে যেভাবে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে, তা ভয়াবহ। বিশেষ করে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর প্রায় ৫৭ জন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাটি আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। একদিকে হত্যাকাণ্ড চলছিল, অন্যদিকে, যমুনাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছিল, কিন্তু কোনো অ্যাকশন নেওয়া হয়নি, যার উত্তর আজও অজানা। তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে, বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী যেভাবে সম্পৃক্ত হয়ে রাতের বেলায় ভোটগ্রহণের মতো অপকর্মে অংশ নিয়েছে, তা আম

অনুগত নয়, রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে জনবান্ধব করতে হবে: সুব্রত চৌধুরী

গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে জনবান্ধব এবং রাষ্ট্রের বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা উচিত, কোনো নির্দিষ্ট দলের অনুগত বাহিনী হিসেবে নয়।

তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ করে জনস্বার্থে কাজ করাই তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা : গণতান্ত্রিক শাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক পলিসি ডায়লগে আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, সামরিক ও গণতান্ত্রিক সরকারগুলো বিভিন্ন সময়ে বাহিনীকে যেভাবে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছে, তা ভয়াবহ। বিশেষ করে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর প্রায় ৫৭ জন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাটি আমাদের চোখের সামনে ঘটেছে। একদিকে হত্যাকাণ্ড চলছিল, অন্যদিকে, যমুনাতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছিল, কিন্তু কোনো অ্যাকশন নেওয়া হয়নি, যার উত্তর আজও অজানা।

তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে, বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনী যেভাবে সম্পৃক্ত হয়ে রাতের বেলায় ভোটগ্রহণের মতো অপকর্মে অংশ নিয়েছে, তা আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের স্বপ্নকে অনেক নিচে নামিয়ে দিয়েছে।

নিজেদের সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে বর্ডার দিয়ে বিভিন্ন লোকের (অপরাধীদের) পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের আশ্রয়ের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, আমাদের বর্ডার গার্ড কেন তাদের আটকাতে পারছে না? নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করে আমরা অন্য বিষয় সামনে নিয়ে আসি। তাই এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, এই বাহিনীগুলোকে জনবান্ধব এবং রাষ্ট্রের বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা, কোনো নির্দিষ্ট দলের অনুগত বাহিনী হিসেবে নয়।

বর্তমানে বিভিন্ন বাহিনীর লোকজনের মধ্যে যে অশুভ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের এগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগ বা গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করলেই আমাদের মনোজগতের পরিবর্তন হবে না, যদি না আমরা সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট বার্তা জাতিকে দিতে পারি। এই বিষয়গুলো নিয়ে জাতীয়ভাবে আরও বেশি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন যাতে নীতি-নির্ধারকরা এর থেকে উপকৃত হতে পারেন।

এমএইচএ/এসএনআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow