অনুমোদনহীন টোল আদায়কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত চর আষাড়িয়াদহ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বিদিরপুর ও ফুলতলা-ভাটোপাড়া ফেরিঘাটে জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া টোল আদায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে বিদিরপুর ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রতিবাদকারীরা ঘাটের দিকে অগ্রসর হলে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর আষাড়িয়াদহ, আলাতুলি, ভগবন্তপুর, বড়গাছি, বিদিরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারও মানুষ প্রতিদিন এসব ঘাট ব্যবহার করে পদ্মা পারাপার হন। শুক্রবার সকাল থেকে কয়েকজন ব্যক্তি যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা করে টোল আদায় শুরু করলে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মাইকিং করে প্রতিবাদের ঘোষণা এবং ঘাটের দিকে অগ্রসর হন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বড়গাছি-পেটাও বিদিরপুর এবং ফুলতলা-ভাটোপাড়া ফেরিঘাট দুটি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা দেওয়
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের বিদিরপুর ও ফুলতলা-ভাটোপাড়া ফেরিঘাটে জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া টোল আদায়কে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে বিদিরপুর ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রতিবাদকারীরা ঘাটের দিকে অগ্রসর হলে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চর আষাড়িয়াদহ, আলাতুলি, ভগবন্তপুর, বড়গাছি, বিদিরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারও মানুষ প্রতিদিন এসব ঘাট ব্যবহার করে পদ্মা পারাপার হন। শুক্রবার সকাল থেকে কয়েকজন ব্যক্তি যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা করে টোল আদায় শুরু করলে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মাইকিং করে প্রতিবাদের ঘোষণা এবং ঘাটের দিকে অগ্রসর হন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বড়গাছি-পেটাও বিদিরপুর এবং ফুলতলা-ভাটোপাড়া ফেরিঘাট দুটি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। ফলে ঘাট দুটি ইজারা না হওয়া পর্যন্ত খাস আদায়ের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জেলা পরিষদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পূর্বের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খাস আদায় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আদায়কৃত অর্থ প্রতি মাস শেষে জেলা পরিষদের অনুকূলে জমা দিতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, জেলা পরিষদের অনুমোদন ছাড়াই একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ঘাট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সেখানে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এরপরও কিছু ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে টোল আদায় করছে।
চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘যারা টাকা আদায় করেছে, তাদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কাউকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেইনি।’
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, ‘ঘাট দুটি চলতি অর্থবছরে ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো দরপত্র পাওয়া যায়নি। বিধি অনুযায়ী বর্তমানে খাস আদায়ের দায়িত্ব আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে সরাসরি টোল আদায়ের অনুমতি দেয়নি। চেয়ারম্যানের অনুমোদিত প্রতিনিধি বা ইউনিয়ন পরিষদের মনোনীত ব্যক্তিরাই কেবল খাস আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।’
মনির হোসেন মাহিন/এএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?