অফিসে এসি নষ্ট, কাজ বন্ধ! জেন-জি কর্মীদের ভাইরাল কাণ্ড
অফিসে সময়মতো কাজ শেষ করে সবাই একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া, সপ্তাহ শেষে অফিসের ফোন না ধরা, বসের দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরাসরি মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগে অভিযোগ করা- এমন কর্মসংস্কৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ভারতের একটি অফিসের জেন-জি কর্মীদের গল্প। বিশেষ করে, অফিসের এসি নষ্ট হওয়ার পর কর্মীদের প্রতিক্রিয়া ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে শীতল রিজওয়ানি নামে এক ব্যবহারকারীর করা একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়। তিনি জানান, তার জেন-জি প্রজন্মের এক কাজিন এমন একটি অফিসে কাজ করেন, যেখানে তরুণ কর্মীরা প্রতিদিন নির্ধারিত সময় শেষ হলেই সবাই একসঙ্গে অফিস ত্যাগ করেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে কেউ বসকে খুশি করার জন্য অফিসে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করেন না। কাজের সময় শেষ হয়ে গেলে ও সপ্তাহের শেষে কেউ অফিসের ফোনও ধরেন না। কোনো ম্যানেজার অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে কর্মীরা সরাসরি এইচআর বিভাগে অভিযোগ করেন ও এইচআরও বসের পরিবর্তে কর্মীদের পক্ষ নেয়। তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ার পর। রিজওয়ানির ভাষ্য অনুযায়ী, এসি নষ্ট হ
অফিসে সময়মতো কাজ শেষ করে সবাই একসঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া, সপ্তাহ শেষে অফিসের ফোন না ধরা, বসের দুর্ব্যবহারের বিরুদ্ধে সরাসরি মানবসম্পদ (এইচআর) বিভাগে অভিযোগ করা- এমন কর্মসংস্কৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ভারতের একটি অফিসের জেন-জি কর্মীদের গল্প। বিশেষ করে, অফিসের এসি নষ্ট হওয়ার পর কর্মীদের প্রতিক্রিয়া ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে শীতল রিজওয়ানি নামে এক ব্যবহারকারীর করা একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়। তিনি জানান, তার জেন-জি প্রজন্মের এক কাজিন এমন একটি অফিসে কাজ করেন, যেখানে তরুণ কর্মীরা প্রতিদিন নির্ধারিত সময় শেষ হলেই সবাই একসঙ্গে অফিস ত্যাগ করেন।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে কেউ বসকে খুশি করার জন্য অফিসে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করেন না। কাজের সময় শেষ হয়ে গেলে ও সপ্তাহের শেষে কেউ অফিসের ফোনও ধরেন না। কোনো ম্যানেজার অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে কর্মীরা সরাসরি এইচআর বিভাগে অভিযোগ করেন ও এইচআরও বসের পরিবর্তে কর্মীদের পক্ষ নেয়।
তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ার পর। রিজওয়ানির ভাষ্য অনুযায়ী, এসি নষ্ট হওয়ার পর জেন-জি কর্মীরা চুপচাপ গরম সহ্য করেননি। তারা সবাই কাছের একটি ক্যাফেতে চলে যান ও এইচআরকে একটি বার্তা পাঠান।
বার্তাটিতে লেখা ছিল, এসি ঠিক হলে আমরা আবার ফিরে আসবো। এরপর আসে এমন একটি মন্তব্য, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে মিলেনিয়াল প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
রিজওয়ানি যখন তার কাজিনকে জিজ্ঞাসা করেন, ওই দলের সবাই কি জেন-জি প্রজন্মের, তখন দ্রুত উত্তর আসে, হ্যাঁ। মিলেনিয়ালদের এমনটা করার সাহস নেই। আপনারা (মিলেনিয়ালরা) চুপচাপ সবকিছু সহ্য করতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছো।
এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজওয়ানি নিজেই লেখেন, এটি যেন ছিল এক ধরনের ‘ইমোশনাল ড্যামেজ’ বা মানসিক আঘাত।
পোস্টটি এরই মধ্যে এক লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে ও এতে অসংখ্য ব্যবহারকারী মতামত দিয়েছেন। মন্তব্যগুলোতে প্রজন্মভিত্তিক এই বিতর্ক নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে।
একজন মন্তব্যকারী রিজওয়ানির বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, মিলেনিয়ালরা সাধারণত ঝুঁকি নিতে চান না, কারণ তাদের ওপর ঋণসহ বিভিন্ন আর্থিক দায়-দায়িত্ব থাকে। অন্য একজন ভবিষ্যতে জেন-জি কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ওপেনএআই ও ক্লডের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) টুল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
আবার আরেকজন ব্যবহারকারী তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, কর্মক্ষেত্রে উন্নত সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জেন-জির ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে তিনি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন যে মিলেনিয়ালদের সাহস নেই। তার মতে, আগের প্রজন্মের গড়ে দেওয়া আর্থিক ভিত্তি ও নিরাপত্তার সুবিধা পেয়েই জেন জি আজ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এসএএইচ
What's Your Reaction?