অবৈধ অভিবাসনে উৎসাহ: বাংলাদেশির ভিডিও নিয়ে গ্রিক মিডিয়ায় তোলপাড়!
‘পুলিশ আসবে না, নিশ্চিন্তে থাকুন’ এমন শিরোনামে বাংলাদেশি যুবকের ভিডিও নিয়ে গ্রিক মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে। গ্রিসের একটি গ্রামীণ অঞ্চলে অবৈধ অভিবাসীদের আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রচার করে গ্রিস প্রবাসী মৌলভীবাজার জেলার হাসান নামের এক যুবক। ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা গ্রিসের নাফপ্লিওতে কাজের জন্য আছি, যাদের কাগজপত্র নেই তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। ৫০ বছর এই জায়গাগুলোতে থাকলেও পুলিশ আসবে না।’ এই ভিডিও নিয়ে গ্রিক পত্রিকা *Banking News*-এর এক প্রতিবেদনে এই ঘটনাটিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে এক বাংলাদেশি যুবককে রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘নাফপ্লিও’ নামক একটি এলাকায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ওই যুবক সেখানে বসবাসরত এবং নতুন আসতে চাওয়া কাগজপত্রহীন (অবৈধ) অভিবাসীদের আশ্বস্ত করেন এই এলাকায় নিরাপদে থাকা যাবে। সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যমটির দাবি, ওই ব্যক্তি মূলত একজন মধ্যস্থতাকারী বা দালাল হিসেবে কাজ করছেন, যিনি নবাগত অবৈধ অভিবাসীদের স্বাগত জানানো এবং স্থানীয় কৃষি ও আধা-শহু
‘পুলিশ আসবে না, নিশ্চিন্তে থাকুন’ এমন শিরোনামে বাংলাদেশি যুবকের ভিডিও নিয়ে গ্রিক মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে।
গ্রিসের একটি গ্রামীণ অঞ্চলে অবৈধ অভিবাসীদের আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও প্রচার করে গ্রিস প্রবাসী মৌলভীবাজার জেলার হাসান নামের এক যুবক।
ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা গ্রিসের নাফপ্লিওতে কাজের জন্য আছি, যাদের কাগজপত্র নেই তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। ৫০ বছর এই জায়গাগুলোতে থাকলেও পুলিশ আসবে না।’
এই ভিডিও নিয়ে গ্রিক পত্রিকা *Banking News*-এর এক প্রতিবেদনে এই ঘটনাটিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে এক বাংলাদেশি যুবককে রাজধানী এথেন্স থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘নাফপ্লিও’ নামক একটি এলাকায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ওই যুবক সেখানে বসবাসরত এবং নতুন আসতে চাওয়া কাগজপত্রহীন (অবৈধ) অভিবাসীদের আশ্বস্ত করেন এই এলাকায় নিরাপদে থাকা যাবে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যমটির দাবি, ওই ব্যক্তি মূলত একজন মধ্যস্থতাকারী বা দালাল হিসেবে কাজ করছেন, যিনি নবাগত অবৈধ অভিবাসীদের স্বাগত জানানো এবং স্থানীয় কৃষি ও আধা-শহুরে অঞ্চলে তাদের কাজের ব্যবস্থা করার সাথে জড়িত। তিনি ওই অঞ্চলটিকে আইনি ঝামেলামুক্ত এবং কাগজপত্র ছাড়া থাকার জন্য অত্যন্ত ‘নিরাপদ’ একটি জায়গা হিসেবে প্রচার করছেন।
সংবাদে উল্লেখ্য করা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গ্রিসে অনিয়মিত বা অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের প্রবণতা বৃদ্ধির মধ্যেই এই ভিডিওটি সামনে এলো। বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোর বাইরে, যেখানে প্রশাসনের নজরদারি কিছুটা কম, সেসব অঞ্চলের কৃষি খাতে অভিবাসীদের এভাবে সংগঠিত করার বিষয়টি এখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
সম্প্রতি গ্রিসে অবস্থানরত কিছু বাংলাদেশি টিকটকারের বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। হাসান নামের এই যুবকের ভিডিওটি নিয়ে গ্রিসের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রবাসীদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রিসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রবাসীদের অভিযোগ, গত দুই-তিন বছরে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে গ্রিসে প্রবেশ করা কিছু টিকটকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার করছেন। বিশেষ করে কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও টিকটক অ্যাকাউন্টে নিয়মিতভাবে এমন কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, যা প্রবাসীদের জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
তাদের দাবি, এসব কনটেন্টে অনেক সময় গ্রিসের আইন, অভিবাসন প্রক্রিয়া, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে ভুল বা অতিরঞ্জিত তথ্য তুলে ধরা হয়। ফলে নতুন অভিবাসীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছেও বাংলাদেশিদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
সম্প্রতি এই ভিডিও গ্রিক গণমাধ্যমে প্রকাশ ও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রবাসীদের আশঙ্কা, বিষয়টি গ্রিক কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, এর প্রভাব বৈধভাবে বসবাস ও কর্মরত বাংলাদেশিদের ওপরও পড়তে পারে।
গ্রিসে বসবাসরত কয়েকজন প্রবাসী বলেন, ব্যক্তিগত প্রচারণা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা উচিত। তারা বাংলাদেশ দূতাবাস, বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠন এবং কমিউনিটির নেতাদের এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রবাসীরা বলছেন, কয়েকজন ব্যক্তির দায়িত্বহীন আচরণের কারণে পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া উচিত নয়। তাই দেশের ভাবমূর্তি ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় এখনই তথাকথিত এসব কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকারদের লাগাম টানতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
What's Your Reaction?