অভিযানেও থামছে না বালু লুট, হুমকির মুখে পরিবেশ
মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর বিভিন্ন এলাকা ও প্রায় শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে বালু লুটপাট চলছে। এতে করে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। বিশেষ করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি। জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় সরকারি তালিকা অনুযায়ী ২৭ টি বালু মহাল থাকলেও অবৈধভাবে প্রায় শতাধিক স্থান থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় মনু ও ধলাই নদী থেকে। বিশেষ করে জেলার ছড়াগুলো থেকে নিয়মিত সিলিকা বালু লুট হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। অর্ধশতাধিক ছড়া থেকে রাতের আঁধারে একটি মহল বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে করে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন। আরও জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০১৩ সালে প্রজ্ঞাপন দ্বারা মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকা বালু সম্প
মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই নদীর বিভিন্ন এলাকা ও প্রায় শতাধিক পাহাড়ি ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে বালু লুটপাট চলছে। এতে করে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। বিশেষ করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়ি।
জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় সরকারি তালিকা অনুযায়ী ২৭ টি বালু মহাল থাকলেও অবৈধভাবে প্রায় শতাধিক স্থান থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় মনু ও ধলাই নদী থেকে। বিশেষ করে জেলার ছড়াগুলো থেকে নিয়মিত সিলিকা বালু লুট হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। অর্ধশতাধিক ছড়া থেকে রাতের আঁধারে একটি মহল বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে করে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন।
আরও জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০১৩ সালে প্রজ্ঞাপন দ্বারা মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকা বালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরমধ্যে ১৯টি অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়। ইজারা গ্রহীতাদের অনিয়ন্ত্রিত ও বেআইনিভাবে বালু উত্তোলনের ফলে কমলগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।
এ ব্যাপারে ২০১৬ সালের ৮ মার্চ বেলা জনস্বার্থে রীট পিটিশন দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯টি বালুমহালকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া পরবর্তী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। তবে উচ্চ আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগরসহ ৭টি উপজেলার পাহাড়ি বিভিন্ন ছড়া থেকে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ৩ আগস্ট রাতে মনু নদীতে মধ্যরাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় বালু তোলার ড্রেজার মেশিন জব্দ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।
একই দিনে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর এলাকায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন, মজুত ও পরিবহনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও তার ছেলেকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও একজনকে সাতদিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৩১ জুলাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন প্রতিরোধে ভূনবীর ইউনিয়নের আলিসার কুল (বরপাড়া) এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলনকৃত আট হাজার ঘনফুট বালু, এক্সক্যাভেটর মেশিন, বালু উত্তোলনের মেশিন ও পাইপ জব্দ করা হয়।
উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নে ৩০ জুলাই শেভরন গ্যাস কোম্পানি ও গারো লাইনের মধ্যবর্তী স্থানে অবৈধভাবে উত্তোলিত আনুমানিক ৬০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়।
কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নে ১৩ জুলাই বিনা অনুমতিতে মাটি ভরাট ও বালু উত্তোলনের জন্য পৃথক দুইটি মামলায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসংখ্য অভিযানে জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনকারী চক্র খুবই বেপরোয়া। তারা ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে ও ছড়া থেকে শ্রমিক লাগিয়ে বালু উত্তোলনের পর ট্রলার, ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়ি যোগে পরিবহন ও বিক্রয় করছে। প্রশাসন আসার আগেই তারা টের পেয়ে যায়। তখন স্থান ত্যাগ করে। প্রশাসনের লোক চলে যাওয়ার পরই আবার উত্তোলন ও বিক্রয় অব্যাহত রাখে।
কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রুমান মিয়া বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শক্ত কোনো পদক্ষেপ নেই। মাঝেমধ্যে অভিযান হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর জাতীয় পরিষদের সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘প্রশাসনকেই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলন করছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। জেলার ছড়া গুলো থেকে নিয়মিত সিলিকা বালু লুট হচ্ছে। অথচ এই বালু হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদ তা আমরা রক্ষা করতে পারছি না।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা’র সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক এড. শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, ‘ইজারা না নিয়ে বালু উত্তোলন করা অবৈধ। এটি ঠেকানোর দায়িত্ব প্রশাসনের। যারা অবৈধ কাজের সুযোগ করে দিচ্ছেন, তারা উচ্চ আদালতের রায়কে অবমাননা করছেন।’
জেলার সবচেয়ে বেশি ছড়া রয়েছে শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। অবৈধ বালু উত্তোলন বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘সিলিকা বালুর কোয়ারি খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে ইজারা দেওয়া হয়। যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। গত একসপ্তাহে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেন তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা বালু মহাল ইজারা নিয়েছেন তারা নির্দিষ্ট তফশিল ও শর্ত মেনে বালু উত্তোলন করতে হবে। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মাহিদুল ইসলাম/কেজে/জেআইএম
What's Your Reaction?