অর্থাভাবে ড্রেস কিনতে না পাড়া ৭৯ শিক্ষার্থীদের পাশে জেলা প্রশাসক
আর্থিক সংকটের কারণে স্কুল ড্রেস কিনতে না পারা জামালপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৯ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নতুন ইউনিফর্ম পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সুবিধাবঞ্চিত এসব শিক্ষার্থী। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ড্রেস তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখানে মূলত শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাদাম, চা কিংবা ছোটোখাটো বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে পরিবারের আয়-রোজগারে সহযোগিতা করে। অভাবের কারণে অনেকেই স্কুল ড্রেস তৈরি করতে পারেনি। ফলে ইউনিফর্ম না থাকায় কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ছিল। তাদের নিয়মিত স্কুলে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতে হতো। সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম না থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী। পরে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ড্রেসের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতি
আর্থিক সংকটের কারণে স্কুল ড্রেস কিনতে না পারা জামালপুর শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৯ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস তুলে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নতুন ইউনিফর্ম পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সুবিধাবঞ্চিত এসব শিক্ষার্থী।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ড্রেস তুলে দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখানে মূলত শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অনেক শিক্ষার্থী পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাদাম, চা কিংবা ছোটোখাটো বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে পরিবারের আয়-রোজগারে সহযোগিতা করে। অভাবের কারণে অনেকেই স্কুল ড্রেস তৈরি করতে পারেনি। ফলে ইউনিফর্ম না থাকায় কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ছিল। তাদের নিয়মিত স্কুলে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতে হতো।
সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম না থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী। পরে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ড্রেসের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই ৭৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করা হয়।
নতুন ইউনিফর্ম পেয়ে আনন্দের কথা জানায় শিক্ষার্থীরা। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবির বলেন, এতদিন আমরা ইউনিফর্ম ছাড়া স্কুলে এসেছি। আজ স্কুল ড্রেস পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এখন নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকব।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মৃত্তিকা বলে, আমরা স্কুল ড্রেস পেয়ে অনেক খুশি। আগে অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম দেখে খারাপ লাগত। এখন আমরাও ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসতে পারব। এতে পড়াশোনার প্রতি আমাদের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল নাহার বলেন, কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসক আমাদের বিদ্যালয়ের ওয়াশরুম উদ্বোধন করতে এসে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম না থাকার বিষয়টি দেখেন। পরে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে ড্রেসের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুর শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ধরে রাখতে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
হৃদয় আহম্মেদ/কেএইচকে/এএসএম
What's Your Reaction?