অসমাপ্ত বিপ্লব সম্পন্নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ

মহান জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের জনগণের প্রতি অসমাপ্ত বিপ্লবের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান এবং সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও জনগণের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নেওয়া সর্বস্তরের মানুষের অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চারিত ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে ভয়, দমন-পীড়ন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। কোটা সংস্কারের দাবিকে ছাড়িয়ে সেই আন্দোলন পরিণত হয় সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে, যার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক রূপান্তর। তারা উল্লেখ করেন, ছাত্র-যুবসমাজের নেতৃত্ব এবং জনগণের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব প্রথম বিজয় অর্জন করে। তবে সরকার পরিবর্তনের মধ্যেই বিপ্লবের ল

অসমাপ্ত বিপ্লব সম্পন্নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ
মহান জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের জনগণের প্রতি অসমাপ্ত বিপ্লবের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ। সোমবার (১৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান এবং সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদ, আহত ও নির্যাতিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও জনগণের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নেওয়া সর্বস্তরের মানুষের অবদানের কথা স্মরণ করেন। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চারিত ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে ভয়, দমন-পীড়ন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। কোটা সংস্কারের দাবিকে ছাড়িয়ে সেই আন্দোলন পরিণত হয় সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে, যার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার মৌলিক রূপান্তর। তারা উল্লেখ করেন, ছাত্র-যুবসমাজের নেতৃত্ব এবং জনগণের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব প্রথম বিজয় অর্জন করে। তবে সরকার পরিবর্তনের মধ্যেই বিপ্লবের লক্ষ্য পূর্ণ হয়নি; রাষ্ট্রের চরিত্রগত পরিবর্তন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখনও জাতির সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। নেতৃদ্বয় আরও বলেন, জুলাই গণহত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তারা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লব কেবল সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল বৈষম্য, দুঃশাসন, দুর্নীতি, বিচারহীনতা ও রাষ্ট্রের ওপর গোষ্ঠীগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে জনগণের ঐতিহাসিক বিদ্রোহ। এ বিপ্লবের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, যেখানে আইনের শাসন, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। ছাত্র-যুবসমাজ, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, বুদ্ধিজীবী ও নারীসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি অসমাপ্ত বিপ্লবের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, জাতীয় ঐক্য, নৈতিক নেতৃত্ব এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তারা আরও বলেন, '১৪ জুলাই কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়; এটি ভয়কে জয় করার দিন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন এবং একটি নতুন বাংলাদেশের শপথ গ্রহণের দিন। জুলাই বিপ্লবের অসমাপ্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।'

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow