আইএমএফের ঋণ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তিকে সম্মান করবে সরকার
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে করা ঋণ কর্মসূচির চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে সরকার সম্মান করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা’ বিষয়ে এক সেমিনারে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এ সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম। নিজস্ব সক্ষমতায় পুঁজি গঠনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিতুমীর বলেন, ‘আমরা নিজস্ব কায়দায় কীভাবে পুঁজি গঠন করবো? এটা হচ্ছে আমাদের প্রথম কাজ। টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য দেশের ভেতর থেকেই সম্পদ সৃষ্টির পথ খুঁজতে হব
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে করা ঋণ কর্মসূচির চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিকে সরকার সম্মান করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনা’ বিষয়ে এক সেমিনারে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এ সেমিনারে সংগঠনের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।
নিজস্ব সক্ষমতায় পুঁজি গঠনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিতুমীর বলেন, ‘আমরা নিজস্ব কায়দায় কীভাবে পুঁজি গঠন করবো? এটা হচ্ছে আমাদের প্রথম কাজ। টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য দেশের ভেতর থেকেই সম্পদ সৃষ্টির পথ খুঁজতে হবে।’ একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিদ্যমান নীতি-আচরণ ও চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বাধ্যবাধকতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
আইএমএফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কতগুলো অভ্যাস থাকে। এগুলো হচ্ছে গ্লোবাল নর্মস বা বৈশ্বিক মানদণ্ড। কোথাও এগুলো লেখা আছে, কোথাও লেখা নেই। কোনো দেশ যদি আন্তর্জাতিক সংস্থা বা চুক্তির অংশীদার হয়, তবে সেই চুক্তির শর্তাবলি- যেমন মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং ও আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন- মানা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ঋণ বা ক্রেডিট ফ্যাসিলিটির ক্ষেত্রে এই দায়বদ্ধতা থেকে যায়। তবে সে চুক্তি বা শর্ত যদি দেশের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৎকালীন সরকার ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরও ৮০০ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হওয়ায় কর্মসূচিটির মোট আকার দাঁড়ায় সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে। তবে আইএমএফ রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে জুনের মধ্যে ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সংস্থাটি বরং অতিরিক্ত শর্তসহ নতুন ঋণ চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
তিতুমীর বলেন, পতিত সরকার অতীতে অর্থনৈতিক বাস্তবতা আড়াল করে আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারস্থ হয়ে ‘বেইলআউট’ নিয়েছে। এতে জনগণের প্রতি জবাবদিহির ঘাটতি ছিল। বিভিন্ন খাতে, বিশেষত বিদ্যুৎ খাতে পৃষ্ঠপোষকতামূলক নীতি বজায় রাখতে কঠোর শর্তে ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অর্থনীতিতে কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি একবার স্বাক্ষরিত হলে তা সম্মান করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তবে এর প্রয়োগে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কিছুটা নমনীয়তা থাকা উচিত। নীতিনির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সতর্ক করেন, অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
রাজস্ব নীতি প্রসঙ্গে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রবণতা দীর্ঘদিনের। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অতীতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলেও বারবার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন- যে লক্ষ্যমাত্রা বারবার অর্জিত হয়নি, তা আবার নির্ধারণ করলে বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় থাকে?
কর নীতির ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এমন একটি করব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না, যা ব্যবসায়ীদের বড় অংশ গ্রহণযোগ্য মনে করে না। নীতি প্রণয়নে সমান সুযোগ ও ন্যায্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে বাস্তববাদী হওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিতুমীর জানান, জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। যেমন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশ এবং ২০৩২ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা, যা তার মতে বাস্তবসম্মত।
তিনি বলেন, অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বুঝে, জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
আইএইচও/একিউএফ
What's Your Reaction?