আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সক্রিয় ঋণ কর্মসূচি (প্রোগ্রাম) নেই। তবে নতুন নির্বাচিত সরকার তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইএমএফের সঙ্গে নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাবে কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আইএমএফের প্রতিনিধিদলের পাঁচদিনের বাংলাদেশ সফরের সমাপনী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আরিফ হোসেন খান। বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আইএমএফের একটি বড় প্রতিনিধিদল পাঁচদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে। এ সময় তারা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে। সফরের অংশ হিসেবে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকে তাদের সমাপনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ আরও পড়ুন অর্থমন্ত্রী / আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তুষ্ট আইএমএফ, নতুন ঋণেও ইতিবাচক অগ্রগতি তিনি বলেন, ‌‌‘এটি কোনো কনসালটেশন মিটিং নয়, কোনো নেগোসিয়েশন মিটিংও নয়। আইএমএফের প্রতিনিধিদল মূলত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং বা

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সক্রিয় ঋণ কর্মসূচি (প্রোগ্রাম) নেই। তবে নতুন নির্বাচিত সরকার তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইএমএফের সঙ্গে নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাবে কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আইএমএফের প্রতিনিধিদলের পাঁচদিনের বাংলাদেশ সফরের সমাপনী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আরিফ হোসেন খান। বাংলাদেশ ব্যাংকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আইএমএফের একটি বড় প্রতিনিধিদল পাঁচদিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছে। এ সময় তারা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে। সফরের অংশ হিসেবে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকে তাদের সমাপনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‌‌‘এটি কোনো কনসালটেশন মিটিং নয়, কোনো নেগোসিয়েশন মিটিংও নয়। আইএমএফের প্রতিনিধিদল মূলত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং বা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশে এসেছে।’

প্রতিনিধিদল দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা, মুদ্রানীতি, বিনিময় হার, রাজস্ব ও আর্থিক নীতিসহ (ফিসকাল পলিসি) বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেছে। সফর শেষে তারা আইএমএফের সদরদপ্তরে ফিরে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করবে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ ও প্রয়োজন বিবেচনা করে নতুন কোনো কর্মসূচি নিয়ে এগোনো সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী সময়ে আইএমএফের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও দর-কষাকষির (নেগোসিয়েশন) জন্য আবার বাংলাদেশ সফর করবেন।

তিনি বলেন, ‘আগের সফরগুলোর সঙ্গে এবারের সফরের মিল নেই। এটি একেবারেই স্বাভাবিক একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশন।’

একক ঋণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আইএমএফ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা করে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই সরকারের সিদ্ধান্ত ও নীতির প্রতিফলন।

কোনো কর্মসূচি অব্যাহত রাখা বা নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত— সবই সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন। এসব সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। তাই এ নিয়ে কোনো জটিলতা হবে বলে আমি মনে করি না।’

এদিকে, মাসে তিনবারের বেশি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব প্রসঙ্গে আরিফ হোসেন খান বলেন, এ ধরনের একটি আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিষয়টি আমরা আলোচনা করে দেখবো। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থও বিবেচনায় রাখে। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যাতে শুধু একটি পক্ষ লাভবান হয় এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। সবদিক বিবেচনা করেই বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।’

ইএআর/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow