আইজিসিসিতে দক্ষিণ এশীয় দৃষ্টিকোণে স্থাপত্য কর্মশালা
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত ‘স্থাপত্য প্রকল্পের ধারণা নির্মাণ ও দক্ষিণ এশীয় দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন প্রখ্যাত স্থপতি অধ্যাপক রফিক আজম। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) গুলশানে আইজিসিসি প্রাঙ্গণে এ কর্মশালা হয়। কর্মশালায় দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ প্রেক্ষাপট-নির্ভর স্থাপত্য নকশা নিয়ে গভীরতর ধারণা তৈরি হয়। কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ডুয়েট, এনএসইউ, অস্ট এবং এআইইউবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। স্থান, জলবায়ু, ভূদৃশ্য, সংস্কৃতি ও সমাজ কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারতজুড়ে স্থাপত্য ধারণাকে প্রভাবিত করে—সে বিষয়ে আলোচনার এক সজীব মঞ্চ তৈরি হয় কর্মশালায়। এতে জোর দেওয়া হয় যে ফর্ম, কাঠামো বা উপকরণের আগে প্রতিটি অর্থপূর্ণ প্রকল্পের উৎপত্তি হয় স্থানের সতর্ক পাঠ থেকে। অধ্যাপক রফিক আজম অংশগ্রহণকারীদের দিকনির্দেশনা, ভূসংস্থান, গাছপালা, জলব্যবস্থা, সূর্যপথ, বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতসহ ভৌত ও পরিবেশগত উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করতে শেখান। সঙ্গে ইতিহাস, সাহিত্য, সিনেমা, নৃতত্ত্ব, সমাজবিজ্ঞান ও
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত ‘স্থাপত্য প্রকল্পের ধারণা নির্মাণ ও দক্ষিণ এশীয় দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন প্রখ্যাত স্থপতি অধ্যাপক রফিক আজম।
বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) গুলশানে আইজিসিসি প্রাঙ্গণে এ কর্মশালা হয়। কর্মশালায় দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ প্রেক্ষাপট-নির্ভর স্থাপত্য নকশা নিয়ে গভীরতর ধারণা তৈরি হয়। কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ডুয়েট, এনএসইউ, অস্ট এবং এআইইউবিসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। স্থান, জলবায়ু, ভূদৃশ্য, সংস্কৃতি ও সমাজ কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারতজুড়ে স্থাপত্য ধারণাকে প্রভাবিত করে—সে বিষয়ে আলোচনার এক সজীব মঞ্চ তৈরি হয় কর্মশালায়।
এতে জোর দেওয়া হয় যে ফর্ম, কাঠামো বা উপকরণের আগে প্রতিটি অর্থপূর্ণ প্রকল্পের উৎপত্তি হয় স্থানের সতর্ক পাঠ থেকে। অধ্যাপক রফিক আজম অংশগ্রহণকারীদের দিকনির্দেশনা, ভূসংস্থান, গাছপালা, জলব্যবস্থা, সূর্যপথ, বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতসহ ভৌত ও পরিবেশগত উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করতে শেখান। সঙ্গে ইতিহাস, সাহিত্য, সিনেমা, নৃতত্ত্ব, সমাজবিজ্ঞান ও স্থানীয় অর্থনীতি থেকে আসা সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মাত্রাও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা দলে ভাগ হয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের নির্বাচিত স্থানগুলো নিয়ে অনুসন্ধান চালান এবং তারা পর্যবেক্ষণ, মানচিত্রাঙ্কন, স্কেচ ও বিশ্লেষণমূলক অঙ্কনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক, জলবায়ু-সচেতন এবং দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করে এমন স্থাপত্য ধারণা তৈরি করেন। এ ছাড়া এতে অন্যতম গুরুত্ব দেওয়া হয় ডিজাইন থিংকিং প্রক্রিয়ার ওপর, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় প্রেক্ষাপটকে সম্মান ও উদযাপন করে এমন ধারণা তৈরি করতে পারেন।
আইজিসিসির পরিচালক অ্যান মেরি জর্জ স্থাপত্য অনুশীলনে স্থানীয় প্রেক্ষাপটের গভীরতর উপলব্ধি গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্থাপত্যকে দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং তরুণ শিক্ষার্থীদের টেকসই, সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল ও স্থানভিত্তিক নকশা তৈরি করতে উৎসাহিত করেন। এ ধরনের উদ্যোগ উদ্ভাবনী ধারণা জাগিয়ে তুলবে এবং স্থাপত্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা মজবুত করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কর্মশালা শেষ হয় টেকসই, সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল ও প্রেক্ষাপট-অর্থপূর্ণ স্থাপত্য অনুশীলন প্রচারের এক অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, যা আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে অবদান রাখবে।
অধ্যাপক রফিক আজম একজন বিশিষ্ট স্থপতি ও শিক্ষাবিদ। স্থাপত্যে তার অবদান এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময় প্রচারে তিনি পরিচিত। ২০০৬ সাল থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তিনি বাস্তুসংস্থান ও প্রেক্ষাপটভিত্তিক নকশার ওপর জোর দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিবেশের সঙ্গে পুনঃসংযোগ স্থাপনে অনুপ্রাণিত করেছেন। সম্প্রতি আইসিসিআর এর অ্যাকাডেমিক ভিজিটর প্রোগ্রাম ২০২৬ এর আওতায় তিনি ভারত সফর করেন এবং ভারতীয় ও বাংলাদেশি স্থপতিদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে একাডেমিক ও পেশাগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার আহ্বান জানান।
What's Your Reaction?