আইনমন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় আসাদুজ্জামান

ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। বিপুল এ জয়ের পর থেকেই তাকে আইনমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার আলোচনা জোরালো হয়েছে।  নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২০ ভোট, যা এ আসনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা গেছে, আসাদুজ্জামান কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসন আমলে তিনি ছিলেন একজন আপোশহীন যোদ্ধা। টেলিভিশন টকশোতে তার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিল সরকারের জন্য আতঙ্কের কারণ। বিগত সময়ে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক হিসেবে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।   শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের আইন অঙ্গনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাবেক সফল অ্যাটর্ন

আইনমন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় আসাদুজ্জামান
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। বিপুল এ জয়ের পর থেকেই তাকে আইনমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার আলোচনা জোরালো হয়েছে।  নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ২০ ভোট, যা এ আসনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা গেছে, আসাদুজ্জামান কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসন আমলে তিনি ছিলেন একজন আপোশহীন যোদ্ধা। টেলিভিশন টকশোতে তার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিল সরকারের জন্য আতঙ্কের কারণ। বিগত সময়ে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক হিসেবে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।   শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের আইন অঙ্গনে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাবেক সফল অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রেক্ষাপটে তাকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান অনেকে। শৈলকুপা পৌর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার দায়িত্ব তিনি দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলে বিচারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা। দিগনগর এলাকার ভোটার নাসিমা খাতুনের ভাষ্য, তাকে শুধু সংসদ সদস্য নয়, জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান তারা। এতে ঝিনাইদহের মানুষের মর্যাদা বাড়বে। শৈলকুপা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ও সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবদুল মজিদ বলেন, খুলনা বিভাগের মধ্যে তিনি একজন উজ্জ্বল আইনবিদ ও রাজনীতিক। তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান এলাকার মানুষ। শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন বাবর ফিরোজ বলেন, অতীতে তিনি সফলভাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইন ও বিচারখাতকে শক্তিশালী করতে তার মতো অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া সময়োপযোগী হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত সততা, দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় যোগাযোগ তার বিপুল জয়ের প্রধান কারণ। নির্বাচনী প্রচারণায় উন্নয়ন, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলাফল ঘোষণার পর শৈলকুপা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকের মতে, এই বড় ব্যবধানের জয় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি আইন অঙ্গনে তার দীর্ঘ অবদানেরও স্বীকৃতি। সব মিলিয়ে, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের জনগণের প্রত্যাশা এখন জাতীয় পর্যায়ে তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্তি। দলীয় সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow