আওয়ামী লীগকে ফেরাতে আমেরিকার ‘মাস্টারপ্ল্যান’ চলছে: রনি
আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘মাস্টারপ্ল্যান’ নিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। শুক্রবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ দাবি করেন। ভিডিওতে রনি বলেন, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের ওপর একটি ‘ইনক্লুসিভ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ প্রয়োগ করছে। সাম্প্রতিক কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ইতোমধ্যে দিল্লি, কাতার এবং একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কূটনীতিক বাংলাদেশ সফর করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্লোজডোর বৈঠক করেছেন। রনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূ
আওয়ামী লীগকে আবারও রাজনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘মাস্টারপ্ল্যান’ নিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। শুক্রবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ দাবি করেন।
ভিডিওতে রনি বলেন, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের ওপর একটি ‘ইনক্লুসিভ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানের জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ প্রয়োগ করছে। সাম্প্রতিক কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ইতোমধ্যে দিল্লি, কাতার এবং একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কূটনীতিক বাংলাদেশ সফর করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্লোজডোর বৈঠক করেছেন।
রনি বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূস—সবার সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা আবার দিল্লিতে যাচ্ছেন। এসব সফর ও বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব তৎপরতার মধ্য দিয়ে একটি ধারণা জোরালো হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মূল্যে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেটি কীভাবে সম্ভব, তা নিয়েই বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্বাচন কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাচ্ছে এবং প্রার্থীরাও মাঠে নেমে প্রচার ও প্রচারণা শুরু করেছেন।
এই অবস্থায় কীভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা বা রিকনসিলিয়েশন সম্ভব—তা নিয়ে আকার-ইঙ্গিতে আলোচনা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। কেউ কেউ নির্বাচন পেছানোর কথা বলছেন, আবার কেউ মত দিচ্ছেন—নির্বাচনের পর যে সরকারই আসুক, নির্দিষ্ট সময় পরে আওয়ামী লীগকে পুনরায় রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন দেওয়া হতে পারে।
গোলাম মাওলা রনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেই একাধিকবার দাবি করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপ স্টেট পলিসি’র কারণে তারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানকে সরকার পতনের দিকে নিয়ে যাওয়ার পেছনে একটি ‘ম্যাটিকুলাস ডিজাইন’ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
তার প্রশ্ন, মাত্র ১৭ মাসের ব্যবধানে কীভাবে আবার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা বা আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের আলোচনা সামনে এলো—এটাই এখন ‘মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন’।
রনির বিশ্লেষণে, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক স্বার্থ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য তারা হয় একটি আমেরিকান মডেলের গণতন্ত্র চায়, নয়তো সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরবের মতো অনুগত শাসক চায়। অন্যথায় বার্মা অ্যাক্ট কার্যকর করা কঠিন হবে, মার্কিন বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ভারত বা চীনের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্মিলিত স্বার্থ অনুযায়ী যদি বাংলাদেশে তথাকথিত ‘লিবারেল ডেমোক্রেসি’ আদলে এক বা একাধিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠে, তাহলে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকবে।
What's Your Reaction?