আগুনেও ছাড়েননি কেউ কাউকে, জড়িয়ে ধরা অবস্থাতেই মেলে দম্পতির মরদেহ

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো এক দম্পতিকে উদ্ধারকারীরা খুঁজে পেয়েছেন পরস্পরকে শক্ত করে জড়িয়ে থাকা অবস্থায়। আগুন থেকে বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবে তারা একটি বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধোঁয়ার বিষাক্ত প্রভাবে তাদের মৃত্যু হয়। বুধবার (৩ মে) সকালে দিল্লির ‘ফ্লোরিশ স্টে বিএনবি’ নামের একটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় মোট ২১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন। উদ্ধারকর্মী মোহাম্মদ শোয়েব জানান, তারা ভবনের নিচতলায় একটি বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য দেখেন, তা তিনি জীবনে ভুলতে পারবেন না। নারীটি টয়লেটের সিটে বসা ছিলেন। তার পাশে একটি চেয়ারে বসা ছিলেন পুরুষটি। তিনি নারীটিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ছিলেন। মনে হচ্ছিল, আগুন থেকে বাঁচতে তারা নিজেদের বাথরুমে আটকে রেখেছিলেন। আমরা তাদের শেষ আলিঙ্গনের মধ্যেই মৃত অবস্থায় পাই, বলেন শোয়েব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আগুনে পুড়ে মারা যাননি; বরং ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারের পর ওই দম্পতিকে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ধ

আগুনেও ছাড়েননি কেউ কাউকে, জড়িয়ে ধরা অবস্থাতেই মেলে দম্পতির মরদেহ

দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো এক দম্পতিকে উদ্ধারকারীরা খুঁজে পেয়েছেন পরস্পরকে শক্ত করে জড়িয়ে থাকা অবস্থায়। আগুন থেকে বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবে তারা একটি বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধোঁয়ার বিষাক্ত প্রভাবে তাদের মৃত্যু হয়।

বুধবার (৩ মে) সকালে দিল্লির ‘ফ্লোরিশ স্টে বিএনবি’ নামের একটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় মোট ২১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।

উদ্ধারকর্মী মোহাম্মদ শোয়েব জানান, তারা ভবনের নিচতলায় একটি বাথরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য দেখেন, তা তিনি জীবনে ভুলতে পারবেন না।

নারীটি টয়লেটের সিটে বসা ছিলেন। তার পাশে একটি চেয়ারে বসা ছিলেন পুরুষটি। তিনি নারীটিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ছিলেন। মনে হচ্ছিল, আগুন থেকে বাঁচতে তারা নিজেদের বাথরুমে আটকে রেখেছিলেন। আমরা তাদের শেষ আলিঙ্গনের মধ্যেই মৃত অবস্থায় পাই, বলেন শোয়েব।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আগুনে পুড়ে মারা যাননি; বরং ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধারের পর ওই দম্পতিকে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ধোঁয়ার প্রভাবে তাদের শরীর কালচে হয়ে গিয়েছিল।

শোয়েব, মোহাম্মদ আফজাল খান, ওয়াসিম রাজা, আশরাফ খান ও আমির খানসহ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক দিল্লি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

উদ্ধারকর্মী ও ম্যাক্স হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী আশরাফ খান জানান, ভবনের ভেতরের দৃশ্য ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ।

তিনি বলেন, বেজমেন্ট দিয়ে ভবনে ঢোকার পর রিসেপশনের কাছে প্রথমেই এক তরুণীর সম্পূর্ণ দগ্ধ মরদেহ দেখতে পাই। বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছর হবে। তার হাত-পা শক্ত হয়ে গিয়েছিল।

কয়েক কদম এগিয়ে তিনি একটি হুইলচেয়ারে বসা অবস্থায় আরেকজন ব্যক্তির পোড়া মরদেহ দেখতে পান। এরপর ভবনের ভেতরে তিনজন বিদেশি নাগরিককে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়।

উদ্ধারকারীদের দাবি, আগুনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বেসমেন্ট ও নিচতলায়। শুধু বেজমেন্ট থেকেই অন্তত আটজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি কক্ষে উদ্ধারকারীরা বিছানার কিনারায় বসা অবস্থায় এক দম্পতির মরদেহ খুঁজে পান। তাদের দুজনই আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিলেন।

উদ্ধারকর্মীদের অভিযোগ, হোটেলটিতে জরুরি নির্গমন পথ (ইমার্জেন্সি এক্সিট) ছিল না। মূল সিঁড়িটিই ছিল ভবনের কেন্দ্রে ও সেটিই ছিল উপরের তলাগুলোতে ওঠানামার একমাত্র পথ।

কীভাবে আগুন লাগল?

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হোটেলের বেসমেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত উপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৭টি ফায়ার টেন্ডার মোতায়েন করা হয়। উদ্ধার করা হয় অন্তত ৫৮ জনকে, যাদের কাছাকাছি ম্যাক্স হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেশ কয়েকটি গুরুতর অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। হোটেলটির অগ্নি-নিরাপত্তা ছাড়পত্র (ফায়ার এনওসি) ছিল না। এছাড়া ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি থাকলেও সেখানে ২৫টি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল।

জানালাগুলোও স্থায়ীভাবে বন্ধ ছিল ও মূল দরজা ছিল সেন্সরনিয়ন্ত্রিত। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হোটেলের মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, ভয় পেয়ে তিনি নিজের জ্বলতে থাকা হোটেলের পাশ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে গিয়েছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow