আজ পহেলা বৈশাখ, উৎসবের রঙে রঙিন বাংলা

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’— নতুন সূর্যের উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে আজ সূচনা হলো নতুন বঙ্গাব্দ ১৪৩৩। পুরোনো বছরের সব ব্যর্থতা, জীর্ণতা আর অবসাদ পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন, সুখ ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় আজ উৎসবে মেতেছে গোটা জাতি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসব এখন প্রাণের স্পন্দনে রূপ নিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এক স্বস্তিকর ও গণতান্ত্রিক আবহে এবার বর্ষবরণ করছে বাংলাদেশ। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও অস্থিরতার নেতিবাচক ছায়া থাকলেও, নববর্ষের এই ক্ষণ বাঙালির হৃদয়ে শান্তির বার্তা বয়ে আনছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে অবস্থানরত বাঙালিরা আজ এই মিলনমেলায় শামিল হয়েছেন। একই সঙ্গে পার্বত্য জনপদের বাসিন্দারাও তাদের ঐতিহ্যবাহী রীতির মধ্য দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে নতুন বছরকে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে তারা উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে পহেলা বৈশাখকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভ

আজ পহেলা বৈশাখ, উৎসবের রঙে রঙিন বাংলা

‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’— নতুন সূর্যের উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে আজ সূচনা হলো নতুন বঙ্গাব্দ ১৪৩৩। পুরোনো বছরের সব ব্যর্থতা, জীর্ণতা আর অবসাদ পেছনে ফেলে নতুন স্বপ্ন, সুখ ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় আজ উৎসবে মেতেছে গোটা জাতি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসব এখন প্রাণের স্পন্দনে রূপ নিয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এক স্বস্তিকর ও গণতান্ত্রিক আবহে এবার বর্ষবরণ করছে বাংলাদেশ। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও অস্থিরতার নেতিবাচক ছায়া থাকলেও, নববর্ষের এই ক্ষণ বাঙালির হৃদয়ে শান্তির বার্তা বয়ে আনছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে অবস্থানরত বাঙালিরা আজ এই মিলনমেলায় শামিল হয়েছেন। একই সঙ্গে পার্বত্য জনপদের বাসিন্দারাও তাদের ঐতিহ্যবাহী রীতির মধ্য দিয়ে বরণ করে নিচ্ছে নতুন বছরকে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে তারা উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে পহেলা বৈশাখকে অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নববর্ষকে জাতিসত্তার পরিচয় ও গণতন্ত্রের শক্তি হিসেবে বর্ণনা করে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে প্রবর্তিত ‘ফসলি সন’ কালক্রমে আজ বাঙালির ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ মেলা, চৈত্রসংক্রান্তির পূজা আর ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’র গণ্ডি পেরিয়ে নববর্ষ এখন বাঙালির প্রধান নাগরিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। তবুও এর মূল সুরটি আজও কৃষিজীবী মানুষের মাটির টানেই স্পন্দিত।

রাজধানীর রাজপথ আজ বর্ণিল সাজে সজ্জিত। ভোরের আলো ফুটতেই রমনার বটমূলে ছায়ানটের চিরাচরিত সুরের মূর্ছনায় শুরু হয়েছে দিনের কর্মসূচি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হবে বর্ণাঢ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। ধানমন্ডিসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলায় তরুণ-তরুণীদের লাল-সাদা পোশাকে সেজে ওঠা ঢাকা শহর যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিসিকের বৈশাখী মেলা এবং শেরেবাংলা নগরে এসএমই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শুরু হয়েছে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রদর্শনী। শুধু ঢাকাই নয়, নেত্রকোনার ‘খনার মেলা’ থেকে চট্টগ্রামের ‘হাটহাজারীর মেলা’— সবখানেই আজ উৎসবের আমেজ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow