আড়িয়াল খাঁ নদে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

মাদারীপুর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর সেতুর অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন তিন ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। গত এক যুগ ধরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েও মেলেনি প্রতিকার। ফলে কৃষি পণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও জরুরি চিকিৎসার জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকাই এখন তাদের ভরসা। সূত্র জানায়, মাদারীপুর শহরের কোলঘেঁষে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদ। এক সময় এই নদ দিয়ে মাদারীপুর শহর থেকে ঢাকায় লঞ্চ চলাচল করলেও এখন আর সেই প্রেক্ষাপট নেই। কালের বিবর্তনে নৌপথের এই যাতায়াত ব্যবস্থা হারিয়ে গেছে। তবে যে স্থানে লঞ্চ রাখা হতো ও যাত্রা শুরু হতো সেই এলাকাটিতে এখনও মানুষ লঞ্চঘাট এলাকা বলে থাকে। এই লঞ্চঘাটের অপরপাশে রয়েছে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর গ্রাম। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাদের ফসল কেনা-বেচার জন্য নদ পার হয়ে শহরে আসতে হয়। এছাড়াও মহিষেরচর এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য এই নৌপথ দিয়েই আসতে হয়। অনেক সময় রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শুধু পাঁচখোলা ইউনিয়ন নয়, এই নৌপথ দিয়ে কালিকাপুর ও ছিলারচর ইউনিয়নের মানুষও যাতায়াত করে থাকেন। অথচ এ

আড়িয়াল খাঁ নদে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

মাদারীপুর শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর সেতুর অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন তিন ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

গত এক যুগ ধরে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েও মেলেনি প্রতিকার। ফলে কৃষি পণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও জরুরি চিকিৎসার জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকাই এখন তাদের ভরসা।

সূত্র জানায়, মাদারীপুর শহরের কোলঘেঁষে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদ। এক সময় এই নদ দিয়ে মাদারীপুর শহর থেকে ঢাকায় লঞ্চ চলাচল করলেও এখন আর সেই প্রেক্ষাপট নেই। কালের বিবর্তনে নৌপথের এই যাতায়াত ব্যবস্থা হারিয়ে গেছে। তবে যে স্থানে লঞ্চ রাখা হতো ও যাত্রা শুরু হতো সেই এলাকাটিতে এখনও মানুষ লঞ্চঘাট এলাকা বলে থাকে।

এই লঞ্চঘাটের অপরপাশে রয়েছে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর গ্রাম। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাদের ফসল কেনা-বেচার জন্য নদ পার হয়ে শহরে আসতে হয়। এছাড়াও মহিষেরচর এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য এই নৌপথ দিয়েই আসতে হয়। অনেক সময় রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে আনতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

শুধু পাঁচখোলা ইউনিয়ন নয়, এই নৌপথ দিয়ে কালিকাপুর ও ছিলারচর ইউনিয়নের মানুষও যাতায়াত করে থাকেন। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এখনও একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তা ছাড়া বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে গেলে কয়েক কিলোমিটার পথ বাড়তি ঘুরতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে। তাই পারাপারের ভরসা ইঞ্জিনচালিত নৌকা।

আড়িয়াল খাঁ নদে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

স্থানীয় জয়নাল বেপারী বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ নদের এই পথে দিয়ে তিন ইউনিয়নের প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষকে নানা কাজে শহরে যাতায়াত করতে হয়। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে নদের ওপারের মানুষগুলোর জীবনের মান উন্নয়ন হবে। তাই দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান জানায়, স্কুল খোলা থাকলে এ পথেই যাতায়াত করি। ঠিকমতো ঘাটে ট্রলার থাকে না, তাই মাঝে মাঝে স্কুলে যেতে দেরি হয়। তা ছাড়া বর্ষার সময় নৌকায় পার হতে ভয়ও লাগে। কিন্তু কী করবো, এই পাড়ে প্রাইমারি স্কুলটি বেশ দূরে। হেঁটে যেতে আরও বেশি সময় লাগে। তাই নদ পার হয়ে এপারে আসি। কাছাকাছি স্কুল থাকায় সহজ হয়। কিন্তু এই নদই আমাদের যত সমস্যা। তাই এখানে একটি সেতু হলে অনেক উপকার হয়।’

গর্ভবতী কেয়া আক্তার বলেন, ‘ডায়াবেটিকস থাকায় প্রায় সময় শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে হয়। কিন্তু নৌকায় করে নদ পাড় হতে ভয় লাগে। তবুও আসতে হয়। কারণ বিকল্প পথ দিয়ে গেলে সময় ও টাকা বেশি লাগে। তা ছাড়া অনেক সময় যাতায়াতের জন্য বাহনও পাওয়া যায় না। এত কষ্টের কথা চিন্তা করে সরকারের উচিত একটি সেতু নির্মাণ করে দেওয়া।’

সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘আড়িয়াল খাঁ নদের উপর একটি সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের, তবে এখনও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তা ছাড়া এই গ্রামের মানুষ প্রায় এক যুগ ধরে সেতুর জন্য মানববন্ধন, স্মারকলিপি দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। কবে এখানে একটি সেতু হবে তা আল্লাহই জানেন। নতুন সরকারের কাছে এখানে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’

মাদারীপুরের সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনিয়া বলেন, ‘এই এলাকার মানুষজনের দীর্ঘদিনের দাবি একটি সেতু নির্মাণের। তাই লঞ্চঘাট এলাকায় একটি সেতু নির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে। প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। কিছু তথ্য ও মৌজা ম্যাপ অধিদপ্তরে পাঠানোও হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন করে একটি সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow