আদালত অবমাননার নোটিশ অবমাননা করে পাউবোর ৩ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি
হাইকোর্টে বিচারাধীন আদালত অবমাননা মামলাকে অবমাননা করে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তিন কর্মকর্তাকে। এ লক্ষ্যে সিনিয়র কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে জুনিয়র তিন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে ‘চলতি দায়িত্ব’। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন পদোন্নতি-বঞ্চিত এক সিনিয়র কর্মকর্তা। শুনানি শেষে হাইকোর্টের এক বেঞ্চ সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেওয়া অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করেন। স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও সেই আদেশ অগ্রাহ্য করে এগিয়ে নেওয়া হয় তিন জুনিয়র কর্মকর্তার পদোন্নতির নোট। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পাউবোর মহাপরিচালককে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হয়। তবে সেই নোটিশ অগ্রাহ্য করে তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে পদোন্নতির সারসংক্ষেপ পাঠান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে। আরও পড়ুন ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ নেই রিটকারী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. রাফিউস সাজ্জাদের আইনজীবী তাপস কুমার বিশ্বাসের দেওয়া তথ্যমতে, রাফিউস সাজ্জাদের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা ছিল। পাউবোর (কর্মকর্তা-কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা-২০১৩ মোতাবেক এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন আইন-২০০০
হাইকোর্টে বিচারাধীন আদালত অবমাননা মামলাকে অবমাননা করে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তিন কর্মকর্তাকে। এ লক্ষ্যে সিনিয়র কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে জুনিয়র তিন কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে ‘চলতি দায়িত্ব’।
বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন পদোন্নতি-বঞ্চিত এক সিনিয়র কর্মকর্তা। শুনানি শেষে হাইকোর্টের এক বেঞ্চ সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেওয়া অধিকতর তদন্তের আদেশ স্থগিত করেন।
স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও সেই আদেশ অগ্রাহ্য করে এগিয়ে নেওয়া হয় তিন জুনিয়র কর্মকর্তার পদোন্নতির নোট। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পাউবোর মহাপরিচালককে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হয়। তবে সেই নোটিশ অগ্রাহ্য করে তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে পদোন্নতির সারসংক্ষেপ পাঠান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে।
রিটকারী বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. রাফিউস সাজ্জাদের আইনজীবী তাপস কুমার বিশ্বাসের দেওয়া তথ্যমতে, রাফিউস সাজ্জাদের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা ছিল। পাউবোর (কর্মকর্তা-কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা-২০১৩ মোতাবেক এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন আইন-২০০০ অনুযায়ী, পাউবোর মহাপরিচালক কর্তৃক মামলাটি নিষ্পত্তি করার কথা।
কিন্তু তৎকালীন মহাপরিচালক মামলাটি নিষ্পত্তি না করে তদন্ত প্রতিবেদন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন। পরে মন্ত্রণালয় গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা-২০১৩ এর প্রবিধি ৫১(২)(৩) অনুযায়ী অধিকতর তদন্তপূর্বক পাউবোর মহাপরিচালককে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী পাউবো একটি নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে।
অথচ বিভাগীয় মামলাটি প্রবিধি ৫২ ধারা অনুযায়ী দায়ের করায় এটা অধিকতর তদন্তের জন্য নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠনের সুযোগ নেই। পাউবোর মহাপরিচালক চাকরি প্রবিধানমালা-২০১৩ এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস-২০২৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী আইনসঙ্গতভাবে বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি করেননি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. রাফিউস সাজ্জাদ রিট করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ অধিকতর তদন্তের আদেশটি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন।
যদিও এ আদেশের পর বিভাগীয় মামলাটি আইনসঙ্গতভাবে নিষ্পত্তি করতে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। কিন্তু পাউবো মহাপরিচালক আইনসঙ্গতভাবে সেটি নিষ্পত্তি না করে মো. রাফিউস সাজ্জাদের জুনিয়র কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. রূহুল আমিন ও মো. মুখলেসুর রহমানকে গত ২৪ মে থেকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে চলত্বি দায়িত্ব দেন।
পরবর্তী সময়ে আরও একজন জুনিয়র কর্মকর্তা মো. শাহজাহান সিরাজকেও দেওয়া হয় অতিরিক্ত মহাপরিচালকের চলতি দায়িত্ব। সিনিয়র কর্মকর্তা মো. রাফিউস সাজ্জাদের বিভাগীয় মামলাটি ঝুলিয়ে রেখে অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে জুনিয়র তিন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত মহাপরিচালকের ‘চলতি দায়িত্ব’ দেওয়া হয়।
এই প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৯ জুন প্রকৌশলী রাফিউস সাজ্জাদের বিভাগীয় মামলা দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে পাউবোর মহাপরিচালককে পুনরায় আদেশ দেন। হাইকোর্টের এই আদেশকেও অগ্রাহ্য করেন মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ। এ প্রেক্ষাপটে পাউবোর ডিজিকে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট তাপস কুমার বিশ্বাসের দেওয়া এই নোটিশও অগ্রাহ্য করেন তিনি। তিন জুনিয়র কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি দিতে মন্ত্রণালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠান।
এফএইচ/কেএসআর
What's Your Reaction?

