আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ চুক্তি সইয়ের নীতিগত অনুমোদন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট সইয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।   বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।   বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি গঠন করা হয়েছে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) এবং ৭০ শতাংশ মালিকানা থাকবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) হাতে।   আরও পড়ুন অবশেষে চূড়ান্ত অনু

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ চুক্তি সইয়ের নীতিগত অনুমোদন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত স্পেশাল পারপাস কোম্পানি (এসপিসি) বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং ল্যান্ড লিজ অ্যাগ্রিমেন্ট সইয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।  

বুধবার (১৭ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।  

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ‘বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি গঠন করা হয়েছে।  

প্রস্তাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) এবং ৭০ শতাংশ মালিকানা থাকবে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) হাতে।  

বেজার ৩০ শতাংশ শেয়ার হিসেবে প্রকল্প এলাকায় অধিগ্রহণ করা জমির ৫০ বছরের লিজ মূল্যকে মূলধন হিসেবে গণ্য করা হবে। অন্যদিকে সিআরবিসি তাদের ৭০ শতাংশ অংশীদারির বিপরীতে নগদ মূলধন বিনিয়োগ করবে। এ অর্থ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে।  

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তিগুলো সম্পাদনের ক্ষেত্রে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হলো।  

তিনি জানান, বর্তমানে প্রকল্পটি নীতিগত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চুক্তি সম্পাদনের অনুমোদন দিলেও বিনিয়োগের পরিমাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পের ধরন এবং বাস্তবায়ন কাঠামোসহ বিস্তারিত বিষয় পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত করা হবে।  

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির যে প্রচেষ্টা চলছে, এই শিল্পাঞ্চল তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।  

চীনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিজেদের ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের কাছাকাছি অবস্থান করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একই দেশের বিনিয়োগকারীরা একত্রে কাজ করলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিচালন কার্যক্রম সহজ হয়।  

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, সাংবাদিকরা যেমন একসঙ্গে থাকতে চান, আমলারাও কাছাকাছি থাকতে চান। তেমনই চীনারাও চাইবেন তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগ কার্যক্রম এমন এক এলাকায় পরিচালনা করতে— যেখানে তাদের মতো অন্য চীনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের সমন্বিত শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠলে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও অনুকূল হবে এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সহজ হবে। 

তবে শিল্পাঞ্চলে কী ধরনের শিল্প কারখানা স্থাপিত হবে, কত টাকা বিনিয়োগ আসবে কিংবা প্রকল্পের কাজ কবে শুরু হবে— এসব বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।  

তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমরা মূলত চুক্তি সম্পাদনের জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছি। পরবর্তী ধাপে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, বিনিয়োগ কাঠামো এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। 

এমএএস/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow