‘আন্তর্জাতিক বাহিনী’ পাঠানোর প্রস্তাব ইসরায়েলের, শর্ত দিলো ইন্দোনেশিয়া

চলতি বছরের মে মাস থেকে ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে দখলদার ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কান এ তথ্য জানিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৫,০০০ সেনা অংশ নেবে। একই সঙ্গে কাজাখস্তান, মরক্কো, আলবেনিয়া ও কোসোভোর সৈন্যরাও এই বাহিনীতে থাকবে। প্রথমে শান্তি রক্ষার এ বাহিনী দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় নির্মিত একটি ফিলিস্তিনি শহরের আশেপাশে মোতায়েন করা হবে এবং পরে গাজার অন্যান্য অংশে বিস্তার করবে। তবে গত ৬ মার্চ তারিখে এই প্রস্তাবে শর্ত দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। ইসরায়েল যদি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকে সমর্থন না করে তবে ইন্দোনেশিয়া বোর্ড অব পিস থেকে সরে যাবে। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ১৬০ জনের বেশি ইসলামিক পণ্ডিতের সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থান ব্যক্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্ত। উপস্থিত দেশগুলোর সামরিক প্রতিনিধি দল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইস

‘আন্তর্জাতিক বাহিনী’ পাঠানোর প্রস্তাব ইসরায়েলের, শর্ত দিলো ইন্দোনেশিয়া

চলতি বছরের মে মাস থেকে ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে দখলদার ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কান এ তথ্য জানিয়েছে।

এই আন্তর্জাতিক বাহিনীতে ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৫,০০০ সেনা অংশ নেবে। একই সঙ্গে কাজাখস্তান, মরক্কো, আলবেনিয়া ও কোসোভোর সৈন্যরাও এই বাহিনীতে থাকবে।

প্রথমে শান্তি রক্ষার এ বাহিনী দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় নির্মিত একটি ফিলিস্তিনি শহরের আশেপাশে মোতায়েন করা হবে এবং পরে গাজার অন্যান্য অংশে বিস্তার করবে।

তবে গত ৬ মার্চ তারিখে এই প্রস্তাবে শর্ত দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। ইসরায়েল যদি ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকে সমর্থন না করে তবে ইন্দোনেশিয়া বোর্ড অব পিস থেকে সরে যাবে।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ১৬০ জনের বেশি ইসলামিক পণ্ডিতের সঙ্গে বৈঠকে এ অবস্থান ব্যক্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্ত।

উপস্থিত দেশগুলোর সামরিক প্রতিনিধি দল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল পৌঁছে গাজা উপত্যকার জরিপ ও অবস্থার পুনর্মূল্যায়ন করবে। এছাড়াও, শতাধিক বিদেশি সৈন্য জর্দানে প্রশিক্ষণ নেবে তারপরে গাজার স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যুক্ত হবে।

বাহিনী পরে ‘হলুদ রেখা’ নামক সীমান্তের আশেপাশে অবস্থান সম্প্রসারণ করবে, যা গাজার ভেতরের একটি অস্থায়ী সীমা হিসবে চিহ্নিত হবে। এই হলুদ রেখা বরাবর ইসরায়েলি বাহিনী স্থগিত অস্ত্রবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি নিয়েছে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাহিনীর মূল কাজের মধ্যে রয়েছে- গাজা উপত্যকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরস্ত্র করা, মানবিক সহায়তা এবং পুনর্নির্মাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া।

এই পদক্ষেপটি ট্রাম্পের ২০-দফা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের অংশ, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রেজুলেশন ২৮০৩ (১৭ নভেম্বর, ২০২৫) দ্বারা সমর্থিত। গাজার অস্থায়ী প্রশাসনের জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাবনায় গঠিত হয়েছে বোর্ড অব পিস, গাজা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল, ন্যাশনাল কমিটি ফর গাজা কাউন্সিল।

 

উল্লেখ্য, গাজার দুই বছরব্যাপী গণহত্যার পর ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ট্রাম্পের অস্ত্রবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। তবে এর পরেও বহুবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১,০০০-এরও বেশি আহত হয়েছে।

এছাড়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়। জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী, গাজা পুনর্নির্মাণে অন্তত প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

সূত্র :আনাদোলু এজেন্সি

কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow