আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত না হলে ফল প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়বে না

বাংলাদেশের ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু উৎপাদন নয়, আন্তর্জাতিক মান ও রপ্তানি গন্তব্যভিত্তিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে। রাজধানীর বাড্ডায় জাগো নিউজ কার্যালয়ে ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এমন মত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) উপ-পরিচালক (খাদ্য ও কৃষি) এনামুল হক। শনিবার (২৭ জুন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক। এনামুল হক বলেন, ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্পের জন্য আইএসও ২২০০০ (ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এবং ড্রাই ফ্রুট, আচার, চাটনি, জুসসহ বিভিন্ন পণ্যের সনদ সেবা দিয়ে যাচ্ছে বিএসটিআই। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক সেবা চালুর ফলে উদ্যোক্তাদের এখন আর সরাসরি অফিসে যেতে হয় না। ঘরে বসেই আবেদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সেবায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমেছে। আরও পড়ুন ফলের উৎপাদন বেড়ে কমেছে আমদানি, স্থবির রপ্তানি বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক জানান, বিএসটিআইয়ের সনদ মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য। ত

আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত না হলে ফল প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়বে না

বাংলাদেশের ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু উৎপাদন নয়, আন্তর্জাতিক মান ও রপ্তানি গন্তব্যভিত্তিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে হবে।

রাজধানীর বাড্ডায় জাগো নিউজ কার্যালয়ে ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এমন মত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) উপ-পরিচালক (খাদ্য ও কৃষি) এনামুল হক।

শনিবার (২৭ জুন) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক।

এনামুল হক বলেন, ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্পের জন্য আইএসও ২২০০০ (ফুড সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) এবং ড্রাই ফ্রুট, আচার, চাটনি, জুসসহ বিভিন্ন পণ্যের সনদ সেবা দিয়ে যাচ্ছে বিএসটিআই। এছাড়া অনলাইনভিত্তিক সেবা চালুর ফলে উদ্যোক্তাদের এখন আর সরাসরি অফিসে যেতে হয় না। ঘরে বসেই আবেদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সেবায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা বা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমেছে।

বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক জানান, বিএসটিআইয়ের সনদ মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের নিজস্ব মানদণ্ড ও কমপ্লায়েন্স পূরণ করা বাধ্যতামূলক। উন্নত দেশগুলো শুধু চূড়ান্ত পণ্য পরীক্ষা করে না, বরং মাঠপর্যায়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া, জাত নির্বাচন, কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা এবং কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ (এমআরএল) পর্যন্ত মূল্যায়ন করে।

এনামুল হক বলেন, আফ্রিকা বা কিছু দেশে তুলনামূলক শিথিল নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা থাকলেও অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো অত্যন্ত কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করে। ফলে এসব বাজারে প্রবেশ করতে হলে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।

আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত না হলে ফল প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়বে নাজাগো নিউজ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক এনামুল হক, ছবি: জাগো নিউজ

বিএসটিআইয়ের এই কর্মকর্তা জানান, বিদেশে বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দেশের জৈব-নিরাপত্তার বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রদর্শিত পণ্য সেখানে রেখে আসা বা উপহার হিসেবে বিতরণ করা যায় না; নিজ দায়িত্বে তা দেশে ফিরিয়ে আনতে হয়।

এনামুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আপেল, মাল্টা, আঙুর ও খেজুরের জন্য উন্মুক্ত হলেও আমাদের ফল ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে কার্যকর বাণিজ্য আলোচনা প্রয়োজন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি এবং দক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের আম, জুসসহ বিভিন্ন ফল প্রক্রিয়াজাত পণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরি করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত না হলে ফল প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়বে নাজাগো নিউজ আয়োজিত ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত অতিথিরা, ছবি: জাগো নিউজ

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের সাবেক উপাচার্য, গবেষক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী, বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও ফল বিশেষজ্ঞ ড. মো. মেহেদী মাসুদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইলিয়াছ মৃধা, হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক, ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, কাজু অ্যান্ড কফি অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাতাব আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম ও নওগাঁর কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা।

ইএআর/একিউএফ/এমএমএআর/এমএফএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow