আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে: জামায়াত আমির

দেশে আবারও আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে একটি ছোট গল্প দিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি দড়ি টানা পাখার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এক বিচারক একটি হত্যা মামলার রায় দিতে গিয়ে পরস্পরবিরোধী কথা বলছিলেন। পরে জানা গেল, পিছন থেকে দড়ি টানার সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে।’ এই গল্পের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেন যে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে পার্লামেন্টে যাদের নাড়া দেখেন, প্রশ্ন আসে কে দড়ি টানে? সেই দড়িটা কোথা থেকে টান দেওয়া হয়? জাতি বুঝে। আপনারা বুঝেন না? তিনি সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে বলেন, ‘একসময় গণভোট হারাম, আরেক সময় না এটা অর্ধেক হালাল। একসময় একই অর্ডারের গোস্ত হালাল, কিন্তু ঝোলটা হারাম। আমরা এটা পার্লাম

আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে: জামায়াত আমির

দেশে আবারও আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আন্দোলনকে তিলে তিলে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।

‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে একটি ছোট গল্প দিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি দড়ি টানা পাখার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘এক বিচারক একটি হত্যা মামলার রায় দিতে গিয়ে পরস্পরবিরোধী কথা বলছিলেন। পরে জানা গেল, পিছন থেকে দড়ি টানার সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে।’

এই গল্পের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেন যে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরস্পরবিরোধী সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে পার্লামেন্টে যাদের নাড়া দেখেন, প্রশ্ন আসে কে দড়ি টানে? সেই দড়িটা কোথা থেকে টান দেওয়া হয়? জাতি বুঝে। আপনারা বুঝেন না?

তিনি সরকারের দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে বলেন, ‘একসময় গণভোট হারাম, আরেক সময় না এটা অর্ধেক হালাল। একসময় একই অর্ডারের গোস্ত হালাল, কিন্তু ঝোলটা হারাম। আমরা এটা পার্লামেন্টে বলেছি, আপনারা দেখেছেন আমাদের কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, আমরাও সমানতালে চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ সুযোগ পাই না পাই আমরা কণ্ঠ বন্ধ করিনি, কারণ জনগণ আমাদেরকে তো তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে সেখানে পাঠিয়েছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণ তাকে মুখ বন্ধ করে বসে থাকার জন্য পাঠায়নি, বরং তাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার জন্য পাঠিয়েছে।

সংসদে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সংসদে যাওয়ার আগেই বলেছি, এই সংসদের বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নেওয়ার জন্য আমরা এখানে যাচ্ছি না। অনেক সুবিধা আছে, স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেব, নিবই না, যেটা না নিয়ে পারবো না সেইটা নেব, বাধ্য হবো যেটাতে। অবৈধ কোনো দিকে আমাদের চোখ এবং হাত যাবে না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান কেবল শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের আন্দোলন নয়। তিনি জানান, প্রায় ১৪০০ শহীদের মধ্যে ১২০০ শহীদের বাড়িতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং তিনি সজ্ঞানে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, এই শহীদদের ৬২ শতাংশই শ্রমিক।

তিনি বলেন, তারা কি কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল? কোটার বৈষম্যের বিরুদ্ধে নেমেছিল আমাদের যুবসমাজ, ছাত্র সমাজ। তারা নেমেছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। তারা নেমেছিল একটা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। তারা গুনে ধরা রাজনীতির জন্য জীবন দিতে রাস্তায় নামে নাই।

তিনি সংসদের বর্তমান অবস্থাকে ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘জুলাই নাই আমরাও নাই। জুলাই আছে আমরা আছি, জুলাই আছে সরকার আছে, জুলাই আছে বিরোধী দল আছে, জুলাই নাই কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না ইনশাআল্লাহ। গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমে এই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য আবার জীবন দিতে হলে দেব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘কালকে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে জুলাই শহীদ পরিবার এবং যোদ্ধাদের সাথে আমাদের একটা বৈঠক ছিল। সেখানে আমার প্রিয় সহকর্মী, সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ বলেছেন আগামীর আন্দোলনের সাথে নয়, সামনে থাকবো আমরা ইনশাআল্লাহ। এই সারির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিল, আমাদেরকে সামনে পাবেন, আমিও কথা দিচ্ছি সামনে পাবেন ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, যতদিন জাতির অধিকারের পক্ষে লড়াই করা প্রয়োজন, ততদিন তারা সংসদে থাকবেন, তার বাইরে এক সেকেন্ডও নয়।

আন্দোলনের শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন শুরু করতে হবে এটা কি? এটাও আন্দোলনের অংশ। আমরা সেদিন সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছিলাম। এসে বলেছিলাম, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য এখানে এসেছিলাম। অন্যায়ভাবে এই রায়কে পদদলিত করা হয়েছে। এখন জনগণের রায় নিয়ে আবার জনগণের পার্লামেন্টে আমরা চলে যাচ্ছি।’

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ বাটোয়ারা নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখে, শহীদদের রক্তের সাথে তাদের ওয়াদা বাস্তবায়ন করার জন্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, ‘আপনারা শুধু পাশে থাকবেন, দেশবাসী। এই আন্দোলন আমার জন্যে, আপনাদের জন্য, সবার জন্য। আমরা আমাদের সন্তানদেরকে কারো গোলাম বানাতে চাই না এবং কারো পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে চলবে জাতির উপর ফ্যাসিজম হিসেবে তাও আমরা বরদাস্ত করব না।’

ডা. শফিকুর রহমান রাজনীতির এই দুষ্টচক্র ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সংসদের এক-তৃতীয়াংশ সময় একজনের বদলে আরেকজনের প্রশংসায় ব্যয় হোক, এটা তারা আর দেখতে বা শুনতে চান না।

তিনি বলেন, ‘প্রশংসা হবে জনগণের, সংসদের ভিতরে কথা হবে জনগণের সমস্যা নিয়ে, সেখানে বসে খোলামেলা সমাধান বের হয়ে আসতে হবে। এইটাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো কিছুর চর্চা হোক সংগঠনের, সংসদের ভিতরে আমরা এটা চাই না।’

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংসদে দেখতে পাচ্ছি। ওই সংসদে দাঁড়িয়ে আজকে যারা সরকারি দলের গ্যালারিতে বসেছেন, তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যেভাবে কথা বলা হতো, আজকে দুই একজন আমাদেরকে লক্ষ্য করে সেই রকম কথা বলা শুরু করেছে। আমরা তাদেরকে বলি, জিহ্বা সংযত করুন। এই মনোভাব এবং আচরণ দেখাবেন না। জুলাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেই প্রজন্ম, যেই দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারো চোখ রাঙানি পরোয়া করে না।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরে মজলিস আল্লামা মামিনুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, সংগ্রামী সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং নাগরিক সমাজের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow