আপনার লোকেশনের তথ্য গুগল ম্যাপের সার্ভারে, যেভাবে বিপদ এড়াবেন

নতুন কোনো জায়গায় গেলে অনেকের প্রথম ভরসা হয়ে ওঠে গুগল ম্যাপ। রাস্তা খোঁজা থেকে শুরু করে কাছাকাছি দোকান, অফিস বা হাসপাতাল সবকিছুতেই ম্যাপের উপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর কি আমরা সত্যিই লোকেশন ট্র্যাকিং বন্ধ করি? অনেকেই মনে করেন, লোকেশন অফ করলেই সব শেষ। বাস্তবে বিষয়টা এতটা সহজ নয়। লোকেশন বন্ধ থাকলেও আপনি যদি গুগলের কোনো অ্যাপ ব্যবহার করেন যেমন সার্চ, ইউটিউব বা ক্রোম তাহলে আপনার অবস্থান সংক্রান্ত কিছু তথ্য গুগলের সার্ভারে পৌঁছতে পারে। এইভাবেই ধীরে ধীরে গুগল ম্যাপের ‘টাইমলাইন’-এ জমা হতে থাকে আপনি কখন, কোথায় গিয়েছেন তার বিস্তারিত রেকর্ড। অনেকেই এই টাইমলাইন ডিলিট করেন বা লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ করে দেন, তবু সম্পূর্ণভাবে তথ্য সংরক্ষণ বন্ধ হয় না। পরে এই ডাটাই ব্যবহার করা হয় টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য। এই সমস্যা থেকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত থাকতে হলে নিয়মিত ‘মাই অ্যাক্টিভিটি’ পেজে গিয়ে নিজের অ্যাক্টিভিটি মুছে ফেলা বেশি কার্যকর। এখানে শুধু লোকেশন নয়, ওয়েব সার্চ, অ্যাপ ব্যবহার সবকিছুর রেকর্ডই দেখা ও ডিলিট করা যায়। তবে আরও নিরাপদ উপায় হলো এমন ম্যাপ অ্যাপ ব্যবহার করা, যেগুলো ব্যবহারকারীর

আপনার লোকেশনের তথ্য গুগল ম্যাপের সার্ভারে, যেভাবে বিপদ এড়াবেন

নতুন কোনো জায়গায় গেলে অনেকের প্রথম ভরসা হয়ে ওঠে গুগল ম্যাপ। রাস্তা খোঁজা থেকে শুরু করে কাছাকাছি দোকান, অফিস বা হাসপাতাল সবকিছুতেই ম্যাপের উপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর কি আমরা সত্যিই লোকেশন ট্র্যাকিং বন্ধ করি? অনেকেই মনে করেন, লোকেশন অফ করলেই সব শেষ। বাস্তবে বিষয়টা এতটা সহজ নয়।

লোকেশন বন্ধ থাকলেও আপনি যদি গুগলের কোনো অ্যাপ ব্যবহার করেন যেমন সার্চ, ইউটিউব বা ক্রোম তাহলে আপনার অবস্থান সংক্রান্ত কিছু তথ্য গুগলের সার্ভারে পৌঁছতে পারে। এইভাবেই ধীরে ধীরে গুগল ম্যাপের ‘টাইমলাইন’-এ জমা হতে থাকে আপনি কখন, কোথায় গিয়েছেন তার বিস্তারিত রেকর্ড। অনেকেই এই টাইমলাইন ডিলিট করেন বা লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ করে দেন, তবু সম্পূর্ণভাবে তথ্য সংরক্ষণ বন্ধ হয় না। পরে এই ডাটাই ব্যবহার করা হয় টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য।

এই সমস্যা থেকে তুলনামূলকভাবে মুক্ত থাকতে হলে নিয়মিত ‘মাই অ্যাক্টিভিটি’ পেজে গিয়ে নিজের অ্যাক্টিভিটি মুছে ফেলা বেশি কার্যকর। এখানে শুধু লোকেশন নয়, ওয়েব সার্চ, অ্যাপ ব্যবহার সবকিছুর রেকর্ডই দেখা ও ডিলিট করা যায়। তবে আরও নিরাপদ উপায় হলো এমন ম্যাপ অ্যাপ ব্যবহার করা, যেগুলো ব্যবহারকারীর প্রাইভেসিকে অগ্রাধিকার দেয়।

অনেকে বিকল্প হিসেবে ‘ওয়েজ’ ব্যবহার করেন, কিন্তু সেটিও গুগলের মালিকানাধীন। ফলে ডাটা সংরক্ষণের ঝুঁকি থেকেই যায়। অ্যাপল ম্যাপ প্রাইভেসির দিক থেকে বেশ শক্ত হলেও তা মূলত আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ম্যাপকোয়েস্ট, হিয়ারউইগো বা এ ধরনের কিছু ম্যাপ অ্যাপ তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প হতে পারে, যেগুলো লোকেশন ডেটা নিয়ে অতটা আগ্রাসী নয়।

এর পাশাপাশি স্মার্টফোনের সেটিংস ঠিক করাও অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই লোকেশন বন্ধ রাখলেও ‘লোকেশন হিস্টোরি’, ‘ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি’ কিংবা ‘ব্যাকগ্রাউন্ড লোকেশন অ্যাক্সেস’ চালু রেখে দেন। ফলে অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ফোন নেপথ্যে লোকেশন পাঠাতে থাকে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে লোকেশন সেটিংস-এ গিয়ে প্রতিটি অ্যাপের লোকেশন পারমিশন আলাদা করে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। প্রয়োজন না হলে ‘অ্যালাউ অল দ্য টাইম’-এর বদলে ‘অ্যালাউ অনলি ওয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ নির্বাচন করাই বেশি নিরাপদ।

নিয়মিত গুগল ম্যাপের টাইমলাইনে ঢুকে কোন কোন জায়গার তথ্য জমা হচ্ছে তা দেখে ডিলিট করলে প্রাইভেসি অনেকটাই রক্ষা করা যায়। পুরোপুরি ট্র্যাকিং বন্ধ করা কঠিন হলেও, একটু সচেতন হলেই গুগল ম্যাপ ব্যবহার করেও নিজের লোকেশন তথ্য অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।

আরও পড়ুন
গুগল ম্যাপ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলবেন যেভাবে
নিজের বাড়ির লোকেশন গুগল ম্যাপে যুক্ত করবেন যেভাবে

সূত্র: গুগল হেল্প

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow