আবারও শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার ঘোষণা

হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্স আগামী শনিবার (১২ জুলাই) আবারও প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সম্প্রতি গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে দানবাক্স গুলো প্রকাশ্যে খোলা হবে। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।  তিনি জানান, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি নির্ধারিত এক মাসের সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কমিটির একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। কমিটির দুই দফা বৈঠকের মাধ্যমে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী শনিবার দুপুর ১২টায় মাজারের দানবাক্স সবার উপস্থিতিতে খোলা হবে। পরে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা শেষে ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আগের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পুরো অর্থ জমা দেওয়া হবে। রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন তৈর

আবারও শাহজালাল মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার ঘোষণা

হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্স আগামী শনিবার (১২ জুলাই) আবারও প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সম্প্রতি গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে দানবাক্স গুলো প্রকাশ্যে খোলা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। 

তিনি জানান, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি নির্ধারিত এক মাসের সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কমিটির একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হবে। কমিটির দুই দফা বৈঠকের মাধ্যমে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী শনিবার দুপুর ১২টায় মাজারের দানবাক্স সবার উপস্থিতিতে খোলা হবে। পরে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা শেষে ব্যাংক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আগের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পুরো অর্থ জমা দেওয়া হবে।

রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমে তার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ সমাধান তুলে ধরা হবে। পবিত্র মাজারের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো গড়ে তোলাই কমিটির লক্ষ্য।

এর আগে, গত ২২ জুন প্রথমবারের মতো প্রায় সাত শতকের প্রচলিত রীতি পরিবর্তন করে সবার উপস্থিতিতে মাজারের তিনটি ঐতিহ্যবাহী দানের ডেক ও একটি দানবাক্স খোলা হয়। প্রকাশ্যে অর্থ গণনা শেষে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে সেই অর্থ সোনালী ব্যাংকে জেলা প্রশাসনের নামে খোলা নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হয়।

জানা গেছে, মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ১২ জুন উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। ওই দিন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। এরপর ১৮ জুন নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন এবং পুরোনো তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়।

এ উদ্যোগকে ঘিরে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এক পক্ষ এটিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানালেও, অন্য পক্ষ মাজার পরিচালনায় প্রশাসনের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

পরবর্তীতে গত ২৬ জুন মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো নির্ধারণে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবার এবং মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জেলা প্রশাসক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow