আমলারা কোনো দলের পক্ষ নিলে, অতীতের মতো করুণ পরিণতি হতে পারে: এটিএম আজহার
সরকারি কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভূমিকা নিলে অতীতে এমন কাজে জড়িতদের মতো করুণ পরিণতি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। রোববার (৩১ মে) বিকেলে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এটিএম আজহার বলেন, ‘আমরা বলব, যারা জুলাই আন্দোলন দেখেছেন, তারা যেন শিক্ষা গ্রহণ করেন। জনগণের সেবক হিসেবে আমলারা কোনো দলের পক্ষে ভূমিকা নেবেন না। ২৪ সালের জুলাইয়ের পর এ ধরনের কাজে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের যে অবস্থা হয়েছে, একই ধরনের পরিণতি তাদেরও হতে পারে। আমি তাদের সতর্ক করছি, তারা যেন সে বিষয়টি মাথায় রাখেন।’ সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে বৈরী মনোভাব পোষণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ঈদুল ফিতরের সময় পত্রিকায় দেখলাম সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে জনগণের জন্য উপহার দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমরা জানি না। কিন্তু এ টাকা তো বিএনপির দলীয় টাকা না। এটা সরকারের ও জনগণের টাকা। এটা তার হক সকল সংসদ সদস্যদের। আমাদের দেশের আমলাদের কাছে ক্
সরকারি কর্মকর্তারা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভূমিকা নিলে অতীতে এমন কাজে জড়িতদের মতো করুণ পরিণতি হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এটিএম আজহার বলেন, ‘আমরা বলব, যারা জুলাই আন্দোলন দেখেছেন, তারা যেন শিক্ষা গ্রহণ করেন। জনগণের সেবক হিসেবে আমলারা কোনো দলের পক্ষে ভূমিকা নেবেন না। ২৪ সালের জুলাইয়ের পর এ ধরনের কাজে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের যে অবস্থা হয়েছে, একই ধরনের পরিণতি তাদেরও হতে পারে। আমি তাদের সতর্ক করছি, তারা যেন সে বিষয়টি মাথায় রাখেন।’
সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে বৈরী মনোভাব পোষণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ঈদুল ফিতরের সময় পত্রিকায় দেখলাম সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে জনগণের জন্য উপহার দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমরা জানি না। কিন্তু এ টাকা তো বিএনপির দলীয় টাকা না। এটা সরকারের ও জনগণের টাকা। এটা তার হক সকল সংসদ সদস্যদের। আমাদের দেশের আমলাদের কাছে ক্ষমতাবানদের তুষ্ট করাই তাদের কাছে প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে থাকে এ সময়ে সেই সুযোগেই তারা উৎসাহিত হয়ে সেই কাজগুলো করছে।’
ঈদ স্বস্তিদায়ক হয়নি উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর এ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘রাস্তাঘাটে মাইলের পর মাইল যানজট যেভাবে শৃঙ্খলা রক্ষা করা দরকার সেভাবে রক্ষা করা হয়নি। একদিকে ঢাকা থেকে ঘরে ফেরার মানুষেরা যানজটে নাকাল। অন্যদিকে কোরবানির ঈদের পশু পরিবহনের ট্রাক থামিয়ে চাঁদাবাজি করা হয়েছে। এতে করে রাস্তায় কৃত্রিম যানজটের তৈরি হয়েছে। এটা সরকার চাইলে বন্ধ করতে পারত, কিন্তু হয়নি। এরপর চাঁদাবাজিতে ব্যবসায়ীদেরকে অতিষ্ঠ করা হয়েছে এর কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে।’
সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি শুরুতেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখিয়েছেন।’
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার সংসদে বিষয়টি মীমাংসা না করলে সংসদ ও বাইরে আন্দোলন করে দাবি আদায় করবে। এবং সারাদেশে ১১ দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে এতেও যদি সরকারের টনক না নড়ে তাহলে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সর্বাত্মক আন্দোলন করে জনগণের দাবি আদায় বাধ্য করব।’
এটিএম আজহার বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছিলেন সে সময় কাঁটাতারের বেড়া দেয়া, বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে হত্যা করতে সাহস পায়নি।’
বিএনপি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে অনেকটা পিছিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভারতকে আধিপত্যবাদী শক্তি উল্লেখ করে এটিএম আজহার বলেন, ‘প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গেই ভারতের ভালো সম্পর্ক নেই। ধর্মের কারণে ভারতে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চলছে এবং বাংলাদেশে পুশইন অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি এখনো না থাকায় শক্তভাবে প্রতিবাদ করতে পারছি না। যদি আমরা স্বাধীনভাবে এবং শক্তভাবে প্রতিবাদ করতে পারতাম তাহলে একটা দেশ যতই শক্তিশালী হোক না কেন পাশের দেশের প্রতি আধিপত্য তৈরি করতে পারত না।’
What's Your Reaction?