আমিনুল ইসলামের ‘কাশবনে কুড়িয়ে পাওয়া কবিতা’ 

চলমান অমর একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে আমিনুল ইসলামের ২৩ তম কাব্যগ্রন্থ ‘কাশবনে কুড়িয়ে পাওয়া কবিতা’। বইটি প্রকাশ করেছে পুণ্ড্র প্রকাশন,  ঢাকা। চার ফর্মার বইটিতে  নানা স্বাদের মোট ২৪টি কবিতা আছে ৷ কিছু প্রেমের কবিতা আছে; কিছু আছে স্মৃতির ঘ্রাণ মাখা কবিতা৷ অধিকাংশ কবিতায় প্রেম, প্রকৃতি ও বিশ্ব রাজনীতি এবং বিশ্বায়ন প্রযোজিত পণ্যসংস্কৃতি মিলেমিশে নতুন স্বাদ সৃষ্টি করেছে বিদগ্ধ কাব্যপাঠকের জন্য।  এসকল কবিতায় রাজনীতি আছে তবে পরোক্ষ প্রকাশে অথবা সাংকেতিকতায়। আমিনুল ইসলাম হচ্ছে বিশ্বকবিতার এবং বিশ্বভূগোলের অনুরক্ত।   পর্যটক। এই বইয়ের কবিতাগুলোতে তার সেই বৈশ্বিক অভিজ্ঞানের পরোক্ষ ছাপ পড়েছে।  যেমন ‘নামিরা’  নামক কবিতাটির  কয়েকটি পঙক্তি এমন... ‘জাতিসংঘের কথা বলছো? জাতিসংঘ একটা দ্রৌপদী যাকে/ ঘিরে আছে পারমাণবিক পুরুষাঙ্গ বিশিষ্ট পাঁচ স্বামী। / রবার্ট ব্রুসের মতো যতবার ইহরাম বাঁধি, / জন লেননের Imagine কে সামনে রেখে/ততবারই পরাবাস্তব হাসি হয়ে হেসে ওঠে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের লাইব্রেরি।’   আমিনুল ইসলামের কাব্যভাষা প্রাতিস্বিকতায়  সমৃদ্ধ। এটি কাব্য সমালোচকগণ অনেকেই বলেছেন। এই কাব্যগ্রন্থেও তার উজ্জ্বল পরিচ

আমিনুল ইসলামের ‘কাশবনে কুড়িয়ে পাওয়া কবিতা’ 

চলমান অমর একুশে বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে আমিনুল ইসলামের ২৩ তম কাব্যগ্রন্থ ‘কাশবনে কুড়িয়ে পাওয়া কবিতা’। বইটি প্রকাশ করেছে পুণ্ড্র প্রকাশন,  ঢাকা। চার ফর্মার বইটিতে  নানা স্বাদের মোট ২৪টি কবিতা আছে ৷ কিছু প্রেমের কবিতা আছে; কিছু আছে স্মৃতির ঘ্রাণ মাখা কবিতা৷ অধিকাংশ কবিতায় প্রেম, প্রকৃতি ও বিশ্ব রাজনীতি এবং বিশ্বায়ন প্রযোজিত পণ্যসংস্কৃতি মিলেমিশে নতুন স্বাদ সৃষ্টি করেছে বিদগ্ধ কাব্যপাঠকের জন্য।  এসকল কবিতায় রাজনীতি আছে তবে পরোক্ষ প্রকাশে অথবা সাংকেতিকতায়। আমিনুল ইসলাম হচ্ছে বিশ্বকবিতার এবং বিশ্বভূগোলের অনুরক্ত।

 
পর্যটক। এই বইয়ের কবিতাগুলোতে তার সেই বৈশ্বিক অভিজ্ঞানের পরোক্ষ ছাপ পড়েছে।  যেমন ‘নামিরা’  নামক কবিতাটির  কয়েকটি পঙক্তি এমন... ‘জাতিসংঘের কথা বলছো? জাতিসংঘ একটা দ্রৌপদী যাকে/ ঘিরে আছে পারমাণবিক পুরুষাঙ্গ বিশিষ্ট পাঁচ স্বামী। / রবার্ট ব্রুসের মতো যতবার ইহরাম বাঁধি, / জন লেননের Imagine কে সামনে রেখে/ততবারই পরাবাস্তব হাসি হয়ে হেসে ওঠে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের লাইব্রেরি।’
 

আমিনুল ইসলামের কাব্যভাষা প্রাতিস্বিকতায়  সমৃদ্ধ। এটি কাব্য সমালোচকগণ অনেকেই বলেছেন। এই কাব্যগ্রন্থেও তার উজ্জ্বল পরিচয় পাওয়া যাবে।  তিনি অনেক দীর্ঘ কবিতা আছে এই বইয়ে এবং একইসঙ্গে মাত্র দুই লাইনের কবিতাও আছে। যেমন... ‘পরকীয়ার দায়’ নামক কবিতাটি হচ্ছে... ‘কালা ভাসুরের দোষ ছিল না... দোষ কী বলো রায়ের! / নন্দঘোষ তো খুঁটায় বাঁধা... হাঁড় ভেঙে দাও পায়ের!’ 

গ্রন্থভুক্ত অধিকাংশ কবিতা মাপা অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা। কবিতাগুলো অনেকসময় গদ্যগন্ধী কিন্তু স্রোতের মতো সাবলীল।  আমিনুল ইসলামের প্রেমভাবনা বরাবরই ভিন্ন ধরনের। এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত প্রেমের কবিতাগুলোতেও তার প্রাতিস্বিক প্রেমচেতনার স্বাক্ষর আছে।  তার  প্রেমের কবিতা পড়ার সময় যুগপৎভাবে জগৎ ও জীবনের বিস্তারিত পাঠ নেয়া হয়ে যায়। যেমন " কী লিখবো? হাসছে তারা-- / পথ কি গেছো ভুলে?/ সাঁঝের চিত্রকল্প দেখো/ রং মাখাচ্ছে চুলে।...  / গালিবের শের বুঝতে পারো?/ ডোমনির কী নাম?/ লীনার মনও দীপের রাতি / ঘন শায়েরির ধাম। " (ছাদের ওপর উড়ছে কবিতা) 

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর।  মূল্য ২৩০ টাকা। পুণ্ড্র প্রকাশন,  কনকর্ড এম্পোরিয়াম,  ঢাকা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow