আমি এখনো সেদিনের কথা ভুলতে পারি না : ঐন্দ্রিলা

জীবনের অন্ধকার অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে কখনো কখনো মানুষ হারিয়ে ফেলে বাঁচার সব মানে। সুখ-সাফল্যের ঝলমলে আলোয় ঘেরা তারকাদের জীবনও যে ভয়াবহ ভাঙনের সাক্ষী হতে পারে, তারই এক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমের একটি পডকাস্টে অতিথি হয়ে তিনি খুলে বলেছেন জীবনের সেই দুঃসহ সময়ের কথা, যখন অসহনীয় যন্ত্রণা আর চরম হতাশার চাপে তিনি ও তার মা আত্মহননের সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন। জানা যায়, ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ঐন্দ্রিলার বাবা শান্তনু সেন। তখন ঐন্দ্রিলার বয়স ২০ বছর। সেই দিনের ঘটনা বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এখনো সেদিনের কথা ভুলতে পারি না। আমি কোলাঘাটের কাছে একটি শুটিংয়ে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে আমার মা ছিলেন। মাত্র আধা ঘণ্টা আগেই বাবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল। হঠাৎ মায়ের কাছে একটি ফোন আসে, বাবার এক্সিডেন্ট হয়েছে, আমরা যেন তাড়াতাড়ি চলে যাই।‘ কলকাতার বেহালা শীলপাড়া এলাকায় একেবারে মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন ঐন্দ্রিলা। তার মা গৃহবধূ হলেও মেয়ের পড়াশোনা, অভিনয় নিয়েই বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন। আর সংসারের বাকি সব দেখাশোনা

আমি এখনো সেদিনের কথা ভুলতে পারি না : ঐন্দ্রিলা

জীবনের অন্ধকার অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে কখনো কখনো মানুষ হারিয়ে ফেলে বাঁচার সব মানে। সুখ-সাফল্যের ঝলমলে আলোয় ঘেরা তারকাদের জীবনও যে ভয়াবহ ভাঙনের সাক্ষী হতে পারে, তারই এক স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সেন।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমের একটি পডকাস্টে অতিথি হয়ে তিনি খুলে বলেছেন জীবনের সেই দুঃসহ সময়ের কথা, যখন অসহনীয় যন্ত্রণা আর চরম হতাশার চাপে তিনি ও তার মা আত্মহননের সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

জানা যায়, ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ঐন্দ্রিলার বাবা শান্তনু সেন। তখন ঐন্দ্রিলার বয়স ২০ বছর। সেই দিনের ঘটনা বর্ণনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এখনো সেদিনের কথা ভুলতে পারি না। আমি কোলাঘাটের কাছে একটি শুটিংয়ে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে আমার মা ছিলেন। মাত্র আধা ঘণ্টা আগেই বাবার সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল। হঠাৎ মায়ের কাছে একটি ফোন আসে, বাবার এক্সিডেন্ট হয়েছে, আমরা যেন তাড়াতাড়ি চলে যাই।‘

কলকাতার বেহালা শীলপাড়া এলাকায় একেবারে মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন ঐন্দ্রিলা। তার মা গৃহবধূ হলেও মেয়ের পড়াশোনা, অভিনয় নিয়েই বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকতেন। আর সংসারের বাকি সব দেখাশোনা করতেন ঐন্দ্রিলার বাবা। 

এ অভিনেত্রীর কথায়, ‘আমরা জানতাম না এটিএম থেকে কীভাবে টাকা তুলতে হয়, কীভাবে ইলেকট্রিক বিল দিতে হয়।’
বাবার ওপরে নির্ভরশীল থাকার ব্যাপারটি আরও ব্যাখ্যা করে ঐন্দ্রিলা বলেন, ‘আমি এবং মা সম্পূর্ণ বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। শ্মশানে বসেও আমি বলেছিলাম, ‘বাবাকে বলো বাবা সব এনে দেবে।’ বাবাকে যে এত তাড়াতাড়ি হারিয়ে ফেলব, সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। আমি হয়তো ভাবতেও পারিনি, আমার সঙ্গে আমার বাবা নেই। সেই সময়টা ভীষণ কঠিন ছিল।’ 

এ পরিস্থিতিতে ঐন্দ্রিলা ও তার মা আত্মহননের চিন্তাও করেছিলেন। এ তথ্য স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমরা বাজার করতে জানতাম না, কোথায় গহনা থাকে সেটাও জানতাম না। এক কথায় আমি আর আমার মা সম্পূর্ণ বাবার ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। একটা সময় আমি আর মা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমরা আত্মহত্যা করব। অনেক কষ্টে সেই সময় থেকে বেরিয়ে এসেছি।‘

উল্লেখ্য, রবি কিনাগী নির্মিত ‘বন্ধন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ঐন্দ্রিলার। ২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জিৎ-কোয়েল অভিনীত এ সিনেমায় পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পরের বছরই ‘সকাল সন্ধ্যা’ ও ‘রাজু আঙ্কেল’ সিনেমায় অভিনয় করেন ঐন্দ্রিলা। ২০০৬ সালে ‘খেলা’ ধারাবাহিকে দেখা যায় তাকে। তাছাড়া ‘সাতপাকে বাঁধা’, ‘ফাগুন বউ’ ধারাবাহিকেও অভিনয় করেন তিনি। 

এরপর অঙ্কুশ হাজরার সঙ্গে ‘ম্যাজিক’, ‘লাভ ম্যারেজ’, ‘মির্জা’-এর মতো সিনেমায় দেখা গেছে তাকে এবং বর্তমানে ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’ সিনেমার প্রচারণার কাজে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow