আরাফার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ

সলাম ধর্মের স্তম্ভসমূহের ভেতর হজ অন্যতম স্তম্ভ। সঠিকভাবে হজ আদায়ের মাধ্যমে মানুষ গুনাহমুক্ত হয়ে যায়। হজের আমলসমূহের ভেতর এমন আমল, স্থান ও মূহুর্ত রয়েছে, যেখানে আমল করলে আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেন। এর মধ্যে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ফজিলতের দিন। এদিন হজের প্রধান আমল সম্পাদনার দিন। আরাফার ময়দানে উপস্থিত না হলে হাজিদের হজ আদায় হয় না। এই দিনটি হাজিগণসহ সারাবিশ্বের প্রতিটি মুসলিমের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। নবী করিম (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আরাফার দিনের রোজার বিনিময়ে পূর্বের এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (মুসনাদে আহমদ: ২৪৭৭০) কালবেলা পাঠকদের জন্য নিচে আরাফার দিনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল তুলে ধরা হলো— ৯ জিলহজ রোজা রাখা আরাফার দিন রোজা রাখা অনেক বড় সওয়াবের কাজ। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ইয়াওমে আরাফার রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা আগের এক বছরের ও পরের এক বছরের গোনাহ মাফ করবেন। (মুসলিম: ১১৬২) একদিনের রোজার বিনিময়ে একজন মুমিনের সারা বছরের গোনাহ মোচনের এক বিশাল সুযোগ। মুমিন বান্দাগণ এমন মৌসুমেরই অপেক্ষায় থাকেন। ফ

আরাফার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ

সলাম ধর্মের স্তম্ভসমূহের ভেতর হজ অন্যতম স্তম্ভ। সঠিকভাবে হজ আদায়ের মাধ্যমে মানুষ গুনাহমুক্ত হয়ে যায়। হজের আমলসমূহের ভেতর এমন আমল, স্থান ও মূহুর্ত রয়েছে, যেখানে আমল করলে আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেন। এর মধ্যে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ফজিলতের দিন। এদিন হজের প্রধান আমল সম্পাদনার দিন। আরাফার ময়দানে উপস্থিত না হলে হাজিদের হজ আদায় হয় না। এই দিনটি হাজিগণসহ সারাবিশ্বের প্রতিটি মুসলিমের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ।

নবী করিম (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আরাফার দিনের রোজার বিনিময়ে পূর্বের এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (মুসনাদে আহমদ: ২৪৭৭০)

কালবেলা পাঠকদের জন্য নিচে আরাফার দিনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল তুলে ধরা হলো—

৯ জিলহজ রোজা রাখা

আরাফার দিন রোজা রাখা অনেক বড় সওয়াবের কাজ। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ইয়াওমে আরাফার রোজার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা আগের এক বছরের ও পরের এক বছরের গোনাহ মাফ করবেন। (মুসলিম: ১১৬২)

একদিনের রোজার বিনিময়ে একজন মুমিনের সারা বছরের গোনাহ মোচনের এক বিশাল সুযোগ। মুমিন বান্দাগণ এমন মৌসুমেরই অপেক্ষায় থাকেন। ফলে এ সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। 

তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা

পবিত্র জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আসর নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা ওয়াজিব। এটি এসব দিনের বিশেষ আমল। উচ্চস্বরে একবারই তাকবির বলা ওয়াজিব। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) পথে-ঘাটে, হাঁটা-বসায়, বাজারে-ঘরে এবং নামাজের পরে তাকবির বলতে থাকতেন। (বোখারি-ফাতহুল বারি: ২/৫৩০-৫৩৬)

তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা

আরাফার দিন হলো ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দিন। এদিন আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের ওপর অঝোর ধারায় রহমত ও মাগফিরাত বর্ষণ করেন। তাই নিজের সব গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায়ও তাদেরকে শাস্তি দেবেন না। (সুরা আনফাল: ৩৩)

নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইস্তিগফার করবে আল্লাহ তায়ালা তার সকল সংকট থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা করে দেন, তার সকল পেরেশানী দূর করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (আবু দাউদ: ১৫১৮)

দোয়া

দোয়ার জন্য আরাফার দিনের চেয়ে উত্তম কোনো দিন নেই, দোয়া কবুল হওয়ার শ্রেষ্ঠ দিন আরাফার দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া (তিরমিজি: ৩৫৮৫)। তাই নিজের পবিত্র সব মনোবাঞ্ছা রবের দরবারে কবুল করাতে চাইলে আরাফার দিনে বেশি বেশি প্রার্থনা বা দোয়া করুন।

কোরআন তিলাওয়াত করা

কোরআন তিলাওয়াতে রয়েছে বহুবিধ কল্যাণ ও উপকারিতা। জাগতিক, পরলৌকিক, বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক। পৃথিবীর বুকে পবিত্র কোরআনই একমাত্র কিতাব, যার তিলাওয়াতে রয়েছে অক্ষরে অক্ষরে নেকি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পড়ল তার জন্য রয়েছে একটি নেকি। আর একটি নেকি দশ নেকির সমতুল্য। নবীজি (সা.) আরও বলেছেন, আমি বলছি না যে, আলিফ লাম মিম- একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ (জামে তিরমিজি: ২৯১০)। তাই আরাফার এই বিশেষ দিনে কোরআন তেলাওয়াত একটি বিশেষ আমল হতে পারে।

দান ও নফল ইবাদত করা

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রিয়। তাই ৯ জিলহজ সাধ্যমতো অভাবী মানুষকে সাহায্য করা এবং বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া উচিত।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তুমি বলো, নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা রিজিক বাড়িয়ে দেন, (যাকে ইচ্ছা) কমিয়ে দেন। আর তোমরা যা কিছুই দান করো, তিনি তার জায়গায় অন্য কিছু দিয়ে দেন। আর তিনিই তো শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা: ৩৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো দান-সদকাই সম্পদে ঘাটতি সৃষ্টি করে না। (সহিহ মুসলিম: ২৫৮৮)

এ তো পুরস্কারের একটি দিক। কেউ যখন কিছু দান করে, আল্লাহ তায়ালা পুরস্কারস্বরূপ তাকে এর বদলে সম্পদ আরও বাড়িয়ে দেন। তাই দান করলে সম্পদ কমে যাওয়ার ভয় নেই। মুমিনের বিশ্বাস এমনই। কাজেই সারা বছরের মতো আরাফার দিনেও বেশি বেশি দান-সদকা করতে পারেন।

শরীরের অঙ্গসমূহকে গোনাহমুক্ত রাখা

আরাফার দিনে শুধু জিহ্বা দিয়ে জিকির নয়, বরং চোখ, কান ও হাতসহ শরীরের সমস্ত অঙ্গকে সব ধরণের পাপাচার থেকে দূরে রাখতে হবে। এদিন যারা নিজেদেরকে গোনাহ থেকে হেফাজত করবে, আল্লাহ তাদের বিশেষ অনুগ্রহ দান করবেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, বান্দা চিন্তা-ভাবনা ছাড়া এমন কথা বলে ফেলে, যার কারণে সে (পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব পরিমাণ) জাহান্নামের অতলে নিক্ষিপ্ত হবে। (বোখারি: ৬৪৭৭)

শেষকথা

আরাফার মহান ফজিলতপূর্ণ দিনে প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের উচিত, আমলের মাধ্যমে নিজের গোনাহ দূর করে নেওয়া। দুনিয়া ও আখেরাতে নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি করে নেওয়া। এসব বিশেষ বিশেষ ফজিলত আল্লাহর পক্ষ থেকে মহান দান। এই দানের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া আমাদের কর্তব্য।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow