আর্জেন্টিনা কি ভাঙতে পারবে ব্রাজিলের ৬৪ বছরের পুরোনো রেকর্ড?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশ নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। গত আসরের ফাইনালে তারা ফ্রান্সকে হারিয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছরের ট্রফি খরা ঘুচায়। আলবিসেলেস্তেরা প্রথমবার শিরোপা জেতে ১৯৭৮ সালে, এরপর জেতে ১৯৮৬ সালে, তারপর দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অবশেষে ২০২২ সালে তারা ট্রফি ঘরে তোলে। উত্তর আমেরিকায় আর্জেন্টিনা হট ফেভারিট হিসেবে গেলেও তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর কোনো দলই টানা বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেনি। ব্রাজিল ১৯৫৮ এর পর ১৯৬২ সালেও বিশ্বকাপ জেতে। সেটিই ছিল কোনো দলের টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি। আর্জেন্টিনা কি পারবে ব্রাজিলের ৬৪ বছরের পুরোনো সেই রেকর্ড ভাঙতে? আর্জেন্টিনা দলের অবশ্য সেই সক্ষমতা ঠিকই আছে। কেননা লিওনেল স্কালোনি যে ২৬ জন খেলোয়াড় বেছে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৭ জনই কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন। এই অভিজ্ঞ দল চাপ সামলাতে, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং ম্যাচের গতিপথ নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। তিনি খেলাধুলার প্রায় সব বড় দলীয় ও ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন এবং বয়স বাড়লেও দলে গ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে অংশ নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। গত আসরের ফাইনালে তারা ফ্রান্সকে হারিয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছরের ট্রফি খরা ঘুচায়। আলবিসেলেস্তেরা প্রথমবার শিরোপা জেতে ১৯৭৮ সালে, এরপর জেতে ১৯৮৬ সালে, তারপর দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর অবশেষে ২০২২ সালে তারা ট্রফি ঘরে তোলে।
উত্তর আমেরিকায় আর্জেন্টিনা হট ফেভারিট হিসেবে গেলেও তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর কোনো দলই টানা বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেনি। ব্রাজিল ১৯৫৮ এর পর ১৯৬২ সালেও বিশ্বকাপ জেতে। সেটিই ছিল কোনো দলের টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি।
আর্জেন্টিনা কি পারবে ব্রাজিলের ৬৪ বছরের পুরোনো সেই রেকর্ড ভাঙতে? আর্জেন্টিনা দলের অবশ্য সেই সক্ষমতা ঠিকই আছে। কেননা লিওনেল স্কালোনি যে ২৬ জন খেলোয়াড় বেছে নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ১৭ জনই কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলে ছিলেন। এই অভিজ্ঞ দল চাপ সামলাতে, কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং ম্যাচের গতিপথ নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।
এবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। তিনি খেলাধুলার প্রায় সব বড় দলীয় ও ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন এবং বয়স বাড়লেও দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
সম্ভাব্যভাবে এটিই শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে এই আটবার ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকার। এছাড়া তিনি ছয়বার ইউরোপীয় গোল্ডেন বুট এবং দুইবার বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল জিতেছেন।
মিডফিল্ডে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং রদ্রিগো ডি পলের ত্রয়ী আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছেন কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মেসি, যিনি এখন অনেক সময় সহায়ক ভূমিকায় খেলে থাকেন। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা এমন একটি দল, যারা যেকোনো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগও শক্তিশালী, যেখানে আছেন নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও নিকোলাস ওটামেন্ডি। তারা হয়তো সবচেয়ে ঝলমলে ডিফেন্স নয়, তবে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং দৃঢ়।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির বড় শক্তি তার কৌশলগত অভিযোজন ক্ষমতা। এর ফলে দলটি বল দখলভিত্তিক খেলা, আক্রমণাত্মক খেলা, গভীর রক্ষণ বা দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক—সব ধরনের কৌশলেই খেলতে সক্ষম।
আর্জেন্টিনার দুর্বলতা কী? লিওনেল মেসি এবং নিকোলাস ওটামেন্ডি ইতিমধ্যে ৩৮ বছর বয়সে পৌঁছে গেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে মাসব্যাপী টুর্নামেন্টে তরুণ ও দ্রুতগতির দলের বিপক্ষে এটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। দলের আরও কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় একই সমস্যার মুখোমুখি। এই আসরে অভিজ্ঞতা কি গতিকে ছাড়িয়ে যাবে—তা সময়ই বলবে।
চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্টে নামার কারণে আর্জেন্টিনার ওপর থাকবে বাড়তি চাপ। পাশাপাশি ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে ১-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার মতো শুরুর পুনরাবৃত্তি এড়াতেও সতর্ক থাকতে হবে।
আর্জেন্টিনা আছে গ্রুপ ‘জে’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া এবং জর্ডান। কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা সবচেয়ে শক্তিশালী দল হলেও আলজেরিয়া এবং অস্ট্রিয়া চমক দেখানোর ক্ষমতা রাখে।
এমএমআর
What's Your Reaction?