আর্জেন্টিনা ভক্তদের সহযোগিতায় ব্রাজিলের ৪০০ ফুট পতাকা

ফুটবল বিশ্বকাপের এখনও বাকি প্রায় তিন সপ্তাহ। তবে ইতোমধ্যে বইতে শুরু করেছে বিশ্বকাপের হাওয়া। চলছে উন্মাদনা। সমর্থকরা জানান দিতে শুরু করেছে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।  কাজেই দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা। তাই আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপকে ঘিরে নওগাঁতেও শুরু হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। তবে এবার শত্রুতা নয়, বরং এক অনন্য সম্প্রীতির চিত্র দেখা গেল জেলার পোরশা উপজেলায়। সেখানকার কাচারী পাড়া গ্রামের ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ প্রিয় দল ব্রাজিলের সমর্থনে টানিয়েছে ৪০০ ফুট দীর্ঘ একটি পতাকা। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো পতাকাটি তৈরিতে ব্রাজিলের পাশাপাশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। আমাদের দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই যেখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কথার লড়াই আর উত্তেজনা, সেখানে কাচারী পাড়া গ্রামের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই পতাকা নির্মাণ ও টাঙানোর পেছনে অবদান রেখেছেন আল আমিন, নাকিব, শামীমের মতো কট্টর ব্রাজিল ভক্তরা; আবার সমান তালে সহযোগিতা করেছেন মঞ্জিল ও মাসরুলের মতো কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও। উদ্

আর্জেন্টিনা ভক্তদের সহযোগিতায় ব্রাজিলের ৪০০ ফুট পতাকা

ফুটবল বিশ্বকাপের এখনও বাকি প্রায় তিন সপ্তাহ। তবে ইতোমধ্যে বইতে শুরু করেছে বিশ্বকাপের হাওয়া। চলছে উন্মাদনা। সমর্থকরা জানান দিতে শুরু করেছে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ। 

কাজেই দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা। তাই আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপকে ঘিরে নওগাঁতেও শুরু হয়েছে তুমুল উন্মাদনা। তবে এবার শত্রুতা নয়, বরং এক অনন্য সম্প্রীতির চিত্র দেখা গেল জেলার পোরশা উপজেলায়।

সেখানকার কাচারী পাড়া গ্রামের ফুটবলপ্রেমী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ প্রিয় দল ব্রাজিলের সমর্থনে টানিয়েছে ৪০০ ফুট দীর্ঘ একটি পতাকা। তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো পতাকাটি তৈরিতে ব্রাজিলের পাশাপাশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন।

আমাদের দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই যেখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কথার লড়াই আর উত্তেজনা, সেখানে কাচারী পাড়া গ্রামের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই পতাকা নির্মাণ ও টাঙানোর পেছনে অবদান রেখেছেন আল আমিন, নাকিব, শামীমের মতো কট্টর ব্রাজিল ভক্তরা; আবার সমান তালে সহযোগিতা করেছেন মঞ্জিল ও মাসরুলের মতো কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থকরাও। উদ্যোক্তারা জানান, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সবার সামনে ও সম্মানের স্থানে রেখে তার সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ব্রাজিলের পতাকাটি। 

উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের কাচারী পাড়া গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকার ছোট-বড় সবাই মিলে নিজেদের পকেট থেকে চাঁদা তুলে সাড়ে আট হাজার টাকা ফান্ড তৈরি করেন। সেই অর্থ দিয়েই তৈরি করা হয় ৪০০ ফুটের বিশাল এই ব্রাজিলিয়ান পতাকা। 

এলাকার আমিনুল ইসলাম বাচ্চু মাস্টারের বাড়ি থেকে শুরু করে রাশেদা মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত পুরো এলাকা এখন এই পতাকা শোভা পাচ্ছে। বিশেষ করে প্রিয় তারকা ও স্ট্রাইকার নেইমার জুনিয়র দলে থাকায় স্থানীয় ব্রাজিল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এখন আকাশচুম্বী।

আর্জেন্টিনার সমর্থকরা বলেন- এখানে আমরা যারা কাজ করেছি, সবাই শুধু ব্রাজিলের সমর্থক নই। আমাদের মধ্যে আর্জেন্টিনার সমর্থকও আছেন। বিশ্বকাপ মানেই আনন্দ। আমরা সবাই মিলেমিশে একসাথে খেলা উপভোগ করতে চাই এবং এই আনন্দঘন মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই সকলে মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছি।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের প্রচলিত নিয়ম মেনে এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সমুন্নত ও যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে যদি কেউ নিজ পছন্দের দলের পতাকা টাঙায়, তাতে কোনো আইনি বাধা নেই। 

আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধের জায়গা থেকে ফুটবলকে ঘিরে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশকে তিনি স্বাগত জানান। তবে একই সঙ্গে সতর্কবার্তা দিয়ে ইউএনও বলেন, সমর্থকদের প্রিয় দল নিয়ে কোনো ধরনের হাঙ্গামা, বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে উপজেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগেই নওগাঁর পোরশার এই সম্প্রীতির বার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। ফুটবল যে কেবল বিভেদ নয়, বরং মিলনমেলাও তৈরি করতে পারে তা-ই প্রমাণ করল কাচারী পাড়ার যুবসমাজ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow