ইউএনও-এসিল্যান্ড না থাকায় জ্বালানি তেল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড না থাকায় জ্বালানি তেল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে। জানা যায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মলিহা খানমকে সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা মো. রাসেল মুন্সী প্রশিক্ষণের জন্য দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করছেন। উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিং না থাকার সুযোগে ব্যবসায়ীরা আইনের তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। মির্জাগঞ্জের পেট্রোল, অকটেন বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অধিক মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সর্বত্র দেখা দিয়েছে পেট্রোল এবং অকটেনের তীব্র সংকট। এতে বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় কিছু ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখে গোপনে প্রতি লিটার পেট্রোল, অকটেন ৪০-৫০ টাকা বৃদ্ধি করে বিক্রি করছেন। বাজার মনিটরিং না থাকার সুযোগে বাসাবাড়িতে তেল মজুত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরবরাহ না থাকার অজুহাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, টানা এক সপ্তাহ ধরে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র পেট্রোল এবং অকটেনের তীব্র সংকট দেখ

ইউএনও-এসিল্যান্ড না থাকায় জ্বালানি তেল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড না থাকায় জ্বালানি তেল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. মলিহা খানমকে সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা মো. রাসেল মুন্সী প্রশিক্ষণের জন্য দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান করছেন। উপজেলা প্রশাসনের মনিটরিং না থাকার সুযোগে ব্যবসায়ীরা আইনের তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

মির্জাগঞ্জের পেট্রোল, অকটেন বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অধিক মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সর্বত্র দেখা দিয়েছে পেট্রোল এবং অকটেনের তীব্র সংকট। এতে বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় কিছু ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখে গোপনে প্রতি লিটার পেট্রোল, অকটেন ৪০-৫০ টাকা বৃদ্ধি করে বিক্রি করছেন। বাজার মনিটরিং না থাকার সুযোগে বাসাবাড়িতে তেল মজুত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরবরাহ না থাকার অজুহাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, টানা এক সপ্তাহ ধরে মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র পেট্রোল এবং অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পেট্রোল অকটেনের সরবরাহ হচ্ছে না বলে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। অপরদিকে, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য দিলে ব্যবসায়ীরা গোপনে পেট্রোল অকটেন বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে অনেক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পেট্রোল, অকটেনের তীব্র সংকট সৃষ্টি করেছেন।

শনিবার বিকেলে উপজেলার সুবিদখালী বন্দরের তিনরাস্তার মোড় সংলগ্ন মুন্নি ট্রেডার্স ও সুবিদখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডের খান পোল্ট্রি ফিড ও ফিশ দোকানে সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, দোকানের সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শতাধিক চালক; ১৩০ টাকা করে প্রতিটি গাড়িতে ২ লিটার করে তেল দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সুবিদখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডে, রাণীপুর ও মহিষকাটা বাজার এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ পেট্রোল - অকটেনের দোকান বন্ধ রয়েছে। দু - একটি দোকান খোলা থাকলেও তাদের কাছে তেল নাই বলে বিক্রেতারা জানান। তেল নিতে আসা অপেক্ষমাণ কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ কম থাকায় কিছু লোকজন গাড়িতে তেল নেওয়ার পর বাসায় গাড়ি রেখে বোতল নিয়ে পুনরায় তেল নিয়ে মজুত করায় এ উপজেলায় দিন দিন তেলের সংকট বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক অভিযোগ বলেন, এখানকার কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা দোকান বন্ধ রেখে  বাসা - বাড়িতে তেল বোতলজাত করে মজুত করে রেখেছেন। তারা আমাদের নিকট তেল বিক্রি না করে, পার্শ্ববর্তী বেতাগী উপজেলা ও চান্দখালী এলাকা থেকে আসা মোটরসাইকেল ও মাহিন্দ্রা চালকদের নিকট ৪০-৫০ বাড়তি মূল্যে তেল বিক্রি করছেন।

উপজেলা সদর সুবিদখালী বন্দরের বাসিন্দা মো. আজাদ ও মুন্না অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা সদরের তেলের দোকানগুলোতে পেট্রোল, অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে উপজেলার রোকেয়া খানম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন কবুতর ব্রিজ এলাকায় রাস্তার পাশের একটি দোকান থেকে ১৭০ টাকা লিটার দামে ৩৪০ টাকায় দুই লিটার পেট্রোল ক্রয় করেছি। অকটেন তেল আরো বেশি মূল্যে বিক্রি করছেন। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক মো. নজরুল ইসলাম, মো. জাকির, বেলাল হোসেন, মো. রাজ্জাক ও সুজন বলেন, বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ তুলে মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করে জীবিকা নির্বাহ করি, কিন্তু তেলের সংকটের কারণে আগের মতো চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। এতে আয় কমে গেছে। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। এনজিওর ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবো তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি। অনেক ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি মূল্যে বিক্রি করছেন। 

সুবিদখালী তিন রাস্তার মোড়ের মুন্নি ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মো. মোকলেছ মুধা বলেন, প্রায় ১ সপ্তাহ পরে বরিশাল ডিপো থেকে আজ (রোববার) দুই হাজার লিটার (১০ ব্যারেল) পেট্রোল পেয়েছি। উপজেলার  আটজন ব্যবসায়ী আট ব্যারেল তেল নিয়ে গেছেন। বাকী দুই ব্যারেল তেল ১৩০ টাকা লিটার প্রতি খুচরা বিক্রি করছি। একটি গাড়িতে ২ লিটার করে দেওয়া হয়েছে, অনেক মোটরসাইকেল চালক ২ লিটারের বেশী তেল চেয়ে না পেয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেন। 

মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উপজেলার লাইসেন্সধারী পেট্রোল-অকটেন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হাওলাদার ট্রেডার্সের পরিচালক মো. ফারুক হাওলাদার জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ অনেক কম পাচ্ছি। বাড়তি টাকা জমা দিয়েও যেটুকু পেট্রোল, অকটেন পাচ্ছি তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ফলে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার ১ ব্যারেল (২০০ লিটার) পেট্রোল পেয়েছিলাম, ৪০ মিনিটের মধ্যে তেল শেষ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) ডিপোতে টাকা পাঠিয়েছি, আগামী পরশু মঙ্গলবার আবার তেল আসলে বিক্রি করতে পারবো। আমি সরকার নির্ধারিত মূল্যের গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি করছি । 

মির্জাগঞ্জ উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাত-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শনি ও রোববার তাকে পাওয়া যায়নি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow