ইউটিউবের শিক্ষক থেকে বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদের (বর্তমান প্রয়াগরাজ) ‘সফটওয়েজ কোচিং ইনস্টিটিউট’। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল। ক্লাসরুমে ঢোকার আগে ২২ বছরের এক তরুণের বুকটা দুরুদুরু কাঁপছে। মাত্র কিছুদিন আগেই কানপুরের এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষ থেকে ‘ড্রপআউট’ করে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। পকেটে টান, অভাবের সংসার। এই কোচিংয়ে আজ তার প্রথম ডেমো ক্লাস। এর আগে অন্য একটি ইনস্টিটিউটে পড়িয়ে মাসে পাঁচ হাজার রুপি পেতেন। এখানে সুযোগ পেলে আয় দ্বিগুণ হবে—এই আশায় রাত জেগে দশম শ্রেণির পদার্থবিদ্যা বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘কাজ’ মুখস্থ করে এসেছেন। কিন্তু ক্লাসরুমের দরজায় আসতেই তরুণ শিক্ষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রথমত, ওই কোচিং থেকে পর পর চারজন পদার্থবিদ্যার শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। পরিচালক তাকে বললেন, ‘আগের শিক্ষকেরা প্রথম অধ্যায় পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করে ফেলেছেন। আপনি সরাসরি দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে শুরু করুন।’ ক্লাসরুমে গিজগিজ করছে ৪০ জন শিক্ষার্থী। এত বড় ক্লাসে পড়ানোর অভিজ্ঞতা তার আগে কখনো ছিল না। কোনো রকমে ভয় চেপে ক্লাসে ঢুকে তরুণ শিক্ষক পড়াচ্ছেন ‘ওয়ার্ক’ বা কাজ কী। কিন্তু কিছুদূর যেতেই ছন্দপতন।

ইউটিউবের শিক্ষক থেকে বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদের (বর্তমান প্রয়াগরাজ) ‘সফটওয়েজ কোচিং ইনস্টিটিউট’। ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল। ক্লাসরুমে ঢোকার আগে ২২ বছরের এক তরুণের বুকটা দুরুদুরু কাঁপছে। মাত্র কিছুদিন আগেই কানপুরের এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষ থেকে ‘ড্রপআউট’ করে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। পকেটে টান, অভাবের সংসার। এই কোচিংয়ে আজ তার প্রথম ডেমো ক্লাস। এর আগে অন্য একটি ইনস্টিটিউটে পড়িয়ে মাসে পাঁচ হাজার রুপি পেতেন। এখানে সুযোগ পেলে আয় দ্বিগুণ হবে—এই আশায় রাত জেগে দশম শ্রেণির পদার্থবিদ্যা বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘কাজ’ মুখস্থ করে এসেছেন।

কিন্তু ক্লাসরুমের দরজায় আসতেই তরুণ শিক্ষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রথমত, ওই কোচিং থেকে পর পর চারজন পদার্থবিদ্যার শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। পরিচালক তাকে বললেন, ‘আগের শিক্ষকেরা প্রথম অধ্যায় পড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরক্ত করে ফেলেছেন। আপনি সরাসরি দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে শুরু করুন।’ ক্লাসরুমে গিজগিজ করছে ৪০ জন শিক্ষার্থী। এত বড় ক্লাসে পড়ানোর অভিজ্ঞতা তার আগে কখনো ছিল না।

কোনো রকমে ভয় চেপে ক্লাসে ঢুকে তরুণ শিক্ষক পড়াচ্ছেন ‘ওয়ার্ক’ বা কাজ কী। কিন্তু কিছুদূর যেতেই ছন্দপতন। কাজ বুঝতে গেলে আগে ‘ফোর্স’ বা বল কী বুঝতে হবে, যা ছিল প্রথম অধ্যায়ে। শিক্ষার্থীরা আগের অধ্যায় কিছুই বোঝেনি, আর এই তরুণও প্রথম অধ্যায় প্রস্তুতি নিয়ে আসেননি। নিরুপায় হয়ে তিনি সেখানেই ‘বল’ পড়ানো শুরু করলেন। সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে এক শিক্ষার্থী বলে উঠল, ‘স্যার, বইয়ের সংজ্ঞার সঙ্গে তো আপনার কথা মিলছে না!’ আরেকজন বলল, ‘আপনি যা পড়াচ্ছেন তা তো চ্যাপ্টারেই নেই!’

আরও পড়ুন>>
শ্রমিক থেকে পানি ব্যবসায়ী, আজ চীনের শীর্ষ ধনী
অনলাইনে বইবিক্রেতা থেকে শত কোটির মালিক
পরের ধনে পোদ্দারি করেই শত কোটি ডলারের মালিক

তরুণ শিক্ষক মুহূর্তের জন্য ঘাবড়ে গেলেন। টেবিল থেকে বইটা নিয়ে পাঁচ মিনিট চোখ বুলালেন। তারপর চক হাতে বোর্ডে লিখলেন বলের একক ‘নিউটন’ এবং ‘ডাইন’। পুরো ক্লাস হা করে তাকিয়ে রইল। তরুণ বুঝতে পারলেন, শুকনো তত্ত্বে কাজ হবে না। স্কুল-কলেজ জীবনে থিয়েটার ও পথনাটক করা সেই তরুণের ভেতরের ‘অভিনেতা’ এবার জেগে উঠল। তিনি বোর্ডে লিখলেন ‘ওয়ান নিউটন ইক্যুয়াল টু টেন টু দ্য পাওয়ার ফাইভ ডাইন’ (1 Newton = 10^5 Dyne)।

এরপরই তিনি স্বভাবসুলভ নাটুকে গলায় চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘ইয়ে ডাইনি নেহি, ডাইন হ্যায়!’ (এটা ডাইনি নয়, ডাইন)।

পুরো ক্লাসরুম হাসিতে ফেটে পড়ল। ব্যস, মুহূর্তেই বরফ গলে গেল। পরবর্তী এক ঘণ্টা শিক্ষার্থীরা চোখের পলক না ফেলে তার ক্লাস শুনল। এভাবেই সেদিন শিক্ষক হিসেবে নিজের প্রথম অগ্নিপরীক্ষায় পাস করেছিলেন আজকের ভারতের ‘এডটেক’ দুনিয়ার রকস্টার ‘অলখ পাণ্ডে। তাকে আজ বিশ্ব চেনে ‘ফিজিক্স ওয়ালা’ নামে।

alakh

শৈশবের তীব্র অভাব ও ভিটেমাটি হারানোর কষ্ট

১৯৯১ সালের ২ অক্টোবর উত্তর প্রদেশের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন আলাখ পান্ডে। বাবা সতীশ পান্ডে ছিলেন পেশায় ঠিকাদার এবং মা রজত পান্ডে একজন শিক্ষিকা। শৈশব থেকেই আলাখের জীবনটা আর দশটা শিশুর মতো সহজ ছিল না। নবম শ্রেণিতে ওঠার পর তাদের সংসারে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। বাবার ব্যবসায়ে ধস নামে। অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়ে যে, সংসারের ঋণ শোধ করতে এবং বেঁচে থাকার তাগিদে তাদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই—নিজেদের বাড়িটি বিক্রি করে দিতে হয়।

পরিবারকে সাহায্য করতে মাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই আলাখ টিউশনি করা শুরু করেন। প্রতিদিন মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়ে তিনি টিউশনি করতে যেতেন। মাস শেষে যে সামান্য কয়েকশ রুপি পেতেন, তা তুলে দিতেন মায়ের হাতে। অভাবের সেই দিনগুলোই আলাখকে শিখিয়েছিল—বেঁচে থাকার লড়াই কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে।

অলখ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার একমাত্র সাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। নতুন একটা সাইকেল কেনার সামর্থ্যও তখন আমাদের ছিল না।’

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়েও ভাগ্য সহায় হয়নি। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নিয়েছিলেন পদার্থবিদ্যার প্রতি ভালোবাসায়। কিন্তু ল্যাব ছিল ফাঁকা, শিক্ষকেরা ক্লাসে আসতেন না। এক গভীর হতাশায় ডুবে যান তিনি।

পড়াশোনার জন্য নেওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার রুপির ব্যাংক ঋণ কীভাবে শোধ করবেন, সেই চিন্তায় যখন অলখ কাঁদছেন, তখন পাশে দাঁড়ান তার বড় বোন অদিতি। চাকরিজীবী বোন ভাইকে বলেছিলেন, ‘তুই বাড়ি চলে আয়, ঋণের চিন্তা করতে হবে না। তুই বড় কিছুর জন্য জন্মেছিস।’

শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বর্ষে এসে অলখ কলেজ ড্রপআউট করার সিদ্ধান্ত নেন, অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া অসমাপ্ত রেখেই বাড়ি ফিরে যান।

alakh

‘টাকলা গ্যাং’ ও ইউটিউবের উন্মাদনা

২০১৬ সালে অলখ পাণ্ডে ইউটিউবে ‘ফিজিক্সওয়ালা (Physics Wallah) নামে একটি চ্যানেল খোলেন। লক্ষ্য ছিল, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যেসব শিক্ষার্থীর দামি কোচিংয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, তাদের কাছে বিনাখরচে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। শুরুতে তার কাছে ভালো কোনো ক্যামেরা বা আলোক সরঞ্জাম ছিল না। একটি সাধারণ স্মার্টফোন দিয়ে তিনি পদার্থবিদ্যার জটিল সব টপিকের ভিডিও তৈরি করতে শুরু করেন।

প্রথম এক বছর তার ভিডিওতে ভিউ আসতো না বললেই চলে। কিন্তু অলখ হাল ছাড়েননি। তিনি নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে থাকেন।

আরও পড়ুন>>
লুই ভুটন থেকে টিফানি/ যেভাবে লাক্সারি সাম্রাজ্যের রাজা হলেন বার্নার্ড আর্নল্ট
টিকটক দিয়ে বিশ্ব মাত, ৩৮ বছরেই শীর্ষ ধনীর কাতারে
২১ লাখের কর্মীবাহিনী/ যেভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাকরিদাতা হলো ওয়ালমার্ট

পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার এই শিক্ষকের পড়ানোর স্টাইল ছিল অনন্য। তিনি ক্লাসে আসতেন মলিন জিন্স পরে, যার পকেটে ও পায়ে মার্কার দিয়ে পদার্থবিদ্যার সূত্র লেখা থাকত। কখনো গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতেন, কখনো মুখের অদ্ভুত সব অভিব্যক্তি দিয়ে হাসাতেন, আবার কঠিন নিয়মের বেড়াজালে শিক্ষার্থীদের কড়া শাসনে রাখতেন।

তার এই দেশি ধাঁচের ‘হিংলিশ’ (হিন্দি ও ইংরেজির মিশ্রণ) লেকচার ভারতের ছোট ছোট শহরের শিক্ষার্থীদের মনে জায়গা করে নেয়। অলখের উন্মাদনা এতটাই ছড়িয়েছিল যে, তিনি যখন নিজের মাথা ন্যাড়া করেন, তাকে অনুকরণ করে হাজার হাজার শিক্ষার্থীও মাথা ন্যাড়া করে ফেলে! অলখ হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি কখনো কোনো কাল্ট তৈরি করতে চাইনি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে টাকলা গ্যাং বানিয়ে ফেলেছিল। আমি ওদের শুধু পড়াশোনায় মন দিতে বলতাম।’

alakh

অ্যাপ ক্র্যাশ ও কোচিং ব্যবসার ‘নোংরা যুদ্ধ’

২০২০ সালের মে মাস। ইউটিউবে তখন অলখের সাবস্ক্রাইবার ২২ লাখ ছাড়িয়েছে। করোনা মহামারির লকডাউনে শিক্ষার্থীরা যখন দিশেহারা, তখন অলখ ও তার পার্টনার প্রতীক মহেশ্বরী মিলে ‘ফিজিক্সওয়ালা’ অ্যাপ চালু করেন। বার্ষিক কোর্স ফি ধরা হয় মাত্র ৯৯৯ রুপি, যেখানে বড় বড় করপোরেট কোচিংগুলো লাখো রুপি নিত।

প্রথমদিনই লাইভ ক্লাসে অংশ নিতে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী একসঙ্গে অ্যাপে লগইন করার চেষ্টা করে। ট্রাফিকের এই বিপুল চাপ নিতে না পেরে ক্র্যাশ করে অ্যাপের সার্ভার। পরপর চারদিন অ্যাপ বন্ধ ছিল। অলখ ভেঙে পড়েছিলেন, ভেবেছিলেন শিক্ষার্থীরা হয়তো ভাববে তিনি প্রতারণা করছেন। তিনি টাকা রিফান্ড করাও শুরু করেছিলেন। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কারিগরি সমস্যা সমাধান হতেই শিক্ষার্থীরা আবার দলে দলে ফিরে আসে।

২০২১ সালের শুরুতে অলখের এই আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী এক বড় এডটেক জায়ান্ট কোম্পানি তাকে দমানোর চেষ্টা করে। তারা অলখকে তাদের কোম্পানির ১০ শতাংশ শেয়ারের বিনিময়ে ৭৫ কোটি রুপির লোভনীয় অফার দেয়। কিন্তু অলখ তা ফিরিয়ে দেন।

এরপরই শুরু হয় নোংরা খেলা। সেই প্রতিযোগী কোম্পানি ফিজিক্সওয়ালার জনপ্রিয় শিক্ষকদের কোটি কোটি টাকার লোভ দেখিয়ে ভাগিয়ে নেওয়া শুরু করে। একে একে শিক্ষকেরা ইস্তফা দিতে থাকেন। চারদিকে রটে যায়, ফিজিক্স ওয়ালা এবার শেষ।

কিন্তু অলখ পাণ্ডে দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি তখন রূপ নিলেন ‘দাবাং’ সিনেমার চুলবুল পাণ্ডের মতো ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ অবতারে। ইউটিউবে একটি বিস্ফোরক ভিডিও আপলোড করে ক্যামেরার সামনে আঙুল উঁচিয়ে থমথমে গলায় বললেন, ‘তোমরা আমার একজন শিক্ষক নিয়ে যাবে? আমি মাঠে নেমে ১০০ জন অলখ পাণ্ডে দাঁড় করিয়ে দেব!’

ভিডিওটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। কোটি শিক্ষার্থীর আবেগ আর সমর্থনে ফিজিক্স ওয়ালা সে যাত্রায় নতুন উদ্যমে বেঁচে ফেরে। এরপর আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা’ সিনেমার স্টাইলে ভিডিও বানিয়ে অলখ প্রতিদ্বন্দ্বীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘পিডব্লিউ (ফিজিক্স-ওয়ালা শব্দের প্রথম দুই অক্ষর) নাম শুনে পাওরুটিওয়ালা ভেবেছো নাকি? ইয়ে ফিজিক্সওয়ালা হ্যায়, ঝুকেগা নেহি!’

alakh

প্রথম রাউন্ডেই ইউনিকর্ন: ‘প্রফিট ওয়ালা’র দর্শন

২০২২ সালের জুন মাস। ফিজিক্স ওয়ালা ভারতের এডটেক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব রেকর্ড গড়ে। নিজেদের প্রথম ফান্ডিং রাউন্ডেই বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৫০ কোটি রুপি) তহবিল সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। আর এর সঙ্গেই ফিজিক্স ওয়ালার বাজারমূল্য ছাড়িয়ে যায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন (১১০ কোটি) ডলার। ভারতের ১০১তম ‘ইউনিকর্ন’ স্টার্টআপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন অলখ পাণ্ডে।

নয়ডার ১০ তলা অফিসে বসে শরীরে আঁকা পদাথ্যবিদ্যা সংক্রান্ত ট্যাটুগুলোতে হাত বুলাতে বুলাতে অলখ হাসেন। তার অফিসের প্রতিটি ঘরের নাম পদার্থবিদ্যা সংক্রান্ত—তার নিজের কক্ষের নাম ‘এনার্জি’, অন্য ঘরগুলোর নাম ‘লাইট’, ‘ফোর্স’ কিংবা ‘গ্রাভিটি’।

আজ ফিজিক্সওয়ালা কেবল অনলাইনেই সীমাবদ্ধ নেই। ভারতের বিভিন্ন শহরে ‘পিডব্লিউ বিদ্যাপীঠ' নামে তাদের অফলাইন কোচিং সেন্টারও রয়েছে। অলখ পাণ্ডে এখন হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক, ভারতের শীর্ষ ধনী শিক্ষকদের একজন। কিন্তু তার সাধারণ জীবনযাপন এবং মাটির মানুষ হিসেবে পরিচিতি আজও আগের মতোই অটুট রয়েছে।

তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, অনেকে তো আপনাকে ‘প্রফিট ওয়ালা’ (মুনাফাখোর) বলে, আপনার ব্যবসার লাভ কেমন? অলখ চওড়া হেসে উত্তর দেন, ‘আমি লোকসানে চলা ব্যবসা করতেই পারি না, লোকসান দেখলে আমি ডিপ্রেশনে চলে যাব! আমরা টেকসইভাবে, কম খরচে কোটি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে চাই।’

ভারতের মতো যে দেশে শিক্ষা আজ হাজার কোটি টাকার করপোরেট ব্যবসা, সেখানে অলখ পাণ্ডে এক ব্যতিক্রমী বাতিঘর। তবে অলখ মনে করেন, দিনশেষে তার আসল সম্পত্তি ব্যাংক ব্যালেন্স বা ইউনিকর্ন তকমা নয়; তার আসল সম্পদ হলো ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো শিক্ষার্থীর নিখাদ ভালোবাসা। অলখ প্রমাণ করেছেন, উদ্দেশ্য যদি সৎ হয় এবং কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকে, তবে এক টুকরো ব্ল্যাকবোর্ড আর একটা ভাঙা মোবাইল ফোন দিয়েই পৃথিবীকে বদলে দেওয়া সম্ভব।

সূত্র: ফোর্বস ইন্ডিয়া, বিজনেস লাইন, মানি কন্ট্রোল, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow