ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত হাজারো সেন্ট্রিফিউজ পর্বতের ভূগর্ভে সরিয়ে নিয়েছে ইরান

ইরান গত বছরের শরতে নাতাঞ্জের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হাজার হাজার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজ স্থানান্তর করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের বরাতে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর সেন্ট্রিফিউজগুলো ওই পর্বতের অভ্যন্তরের স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামে পরিচালিত অভিযানে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়।   মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, পর্বতের গভীরে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি স্থানান্তরের মাধ্যমে তেহরান বড় ধরনের সামরিক হামলার মধ্যেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে। পিকঅ্যাক্স পর্বত নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের দক্ষিণে অবস্থিত। সেখানে ইরানের দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো ২০২৫ সালের জুনে হামলার শিকার হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ই

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত হাজারো সেন্ট্রিফিউজ পর্বতের ভূগর্ভে সরিয়ে নিয়েছে ইরান

ইরান গত বছরের শরতে নাতাঞ্জের ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হাজার হাজার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজ স্থানান্তর করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের বরাতে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের পর সেন্ট্রিফিউজগুলো ওই পর্বতের অভ্যন্তরের স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘মিডনাইট হ্যামার’ নামে পরিচালিত অভিযানে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালায়।
 
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, পর্বতের গভীরে সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি স্থানান্তরের মাধ্যমে তেহরান বড় ধরনের সামরিক হামলার মধ্যেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে।

পিকঅ্যাক্স পর্বত নাতাঞ্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের দক্ষিণে অবস্থিত। সেখানে ইরানের দুটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো ২০২৫ সালের জুনে হামলার শিকার হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি জানিয়েছে, পিকঅ্যাক্স পর্বতের নিচে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গ স্থাপনাটি দুই দফা যুদ্ধের কোনোটিতেই লক্ষ্যবস্তু ছিল না।

উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, স্থাপনাটি শক্ত শিলাস্তরের ১০০ মিটারেরও বেশি গভীরে নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ইরানের ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রের চেয়েও গভীর এবং অধিক সুরক্ষিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এত গভীর ভূগর্ভে থাকা স্থাপনায় হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমার পক্ষেও কঠিন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইরান দাবি করে আসছে, ওই স্থাপনাটি কেবল উন্নত সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন ও সংযোজনের কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো কার্যক্রম চালানো হবে না।

তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ওই স্থাপনায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না তেহরান।

সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি ওই স্থাপনায় পরিচালিত কার্যক্রম সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাইলেও, এমন কোনো তথ্য ইরান দেয়নি যা তাদের দাবি যাচাই করা বা সেখানে পারমাণবিক উপাদান নেই এটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গভীর শিলাস্তরের সুরক্ষার কারণে স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে ওই স্থাপনাটি ধ্বংস করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সুড়ঙ্গের প্রবেশপথের আশপাশের সব ধরনের তৎপরতার ওপর নিবিড় নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow