ইনফান্তিনোর গোপন প্রেমিকাকে বড় অংকের অর্থ দিয়েছিলো উয়েফা!
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যেই এবার তার উয়েফায় থাকাকালীন সময়ের একটি পুরোনো ঘটনা সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উয়েফার সেক্রেটারি জেনারেল থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক ছিল- এমন এক নারীকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনটির দাবি, ওই নারী উয়েফা ছাড়ার সময় একটি ‘ডিপার্চার পেমেন্ট’ বা বিদায়ী অর্থ পেয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তার এমবিএ কোর্সের ফি’ও উয়েফা বহন করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অর্থ দেওয়ার সঙ্গে ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো যোগসূত্র ছিল- এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে উয়েফা ও ইনফান্তিনো উভয় পক্ষই। কী দাবি উঠেছে? দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনো যখন উয়েফার সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন, তখন ওই নারীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই নারী উয়েফা থেকে চলে গেলে তাকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয় বলে দাবি করা
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যেই এবার তার উয়েফায় থাকাকালীন সময়ের একটি পুরোনো ঘটনা সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উয়েফার সেক্রেটারি জেনারেল থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথিত সম্পর্ক ছিল- এমন এক নারীকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনটির দাবি, ওই নারী উয়েফা ছাড়ার সময় একটি ‘ডিপার্চার পেমেন্ট’ বা বিদায়ী অর্থ পেয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তার এমবিএ কোর্সের ফি’ও উয়েফা বহন করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অর্থ দেওয়ার সঙ্গে ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো যোগসূত্র ছিল- এমন অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে উয়েফা ও ইনফান্তিনো উভয় পক্ষই।
কী দাবি উঠেছে?
দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনো যখন উয়েফার সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন, তখন ওই নারীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ছিল। পরবর্তী সময়ে ওই নারী উয়েফা থেকে চলে গেলে তাকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থের পাশাপাশি স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ করার জন্য তার কোর্স ফি’ও উয়েফা পরিশোধ করেছিল। তবে ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
উয়েফার ব্যাখ্যা
স্কাই নিউজ-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে উয়েফা জানিয়েছে, ওই নারীকে একটি ‘ডিপার্চার পেমেন্ট’ দেওয়া হয়েছিল এবং স্থানীয় একটি বিজনেস স্কুলে এমবিএ কোর্সের ফি’ও পরিশোধ করা হয়েছিল। উয়েফার ভাষ্য, সে সময়কার কর্মীদের জন্য বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ীই ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।
সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘সে সময় কর্মীদের বিদায়ের ক্ষেত্রে যে নিয়ম কার্যকর ছিল, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই অর্থ দেওয়া হয়েছিল।’
উয়েফা আরও জানিয়েছে, ২০১৬ সালের পর তাদের কর্মীদের জন্য বিদ্যমান নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির সব পর্যায়ের কর্মীর ক্ষেত্রেই আধুনিক ও হাইপ্রোফাইল প্রতিষ্ঠানের উপযোগী নিয়ম কার্যকর রয়েছে। অর্থাৎ, উয়েফার দাবি অনুযায়ী ওই অর্থ কোনো বিশেষ সুবিধা হিসেবে দেওয়া হয়নি; বরং তৎকালীন কর্মী-নীতির আওতায়ই দেওয়া হয়েছিল।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার
ফিফার পক্ষ থেকেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, উয়েফায় দায়িত্ব পালনকালে ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে কোনো কর্মী কখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অনুপযুক্ত আচরণ বা কোনো বিধি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত মানহানিকর।’
ফিফার দাবি, কর্মীদের বিদায়, বিচ্ছেদ বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেওয়ার মতো সব সিদ্ধান্তই সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের অনুমোদন এবং সে সময়কার প্রযোজ্য নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে।
ইনফান্তিনো ২০০০ সালে উয়েফায় যোগ দেন এবং ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এরপরই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে বসেন তিনি।
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়েও চাপে ইনফান্তিনো
নতুন এই অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইনফান্তিনো নিজেই বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে রয়েছেন। বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য প্রধান প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই কাঠামোর একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনাটি ঘিরে ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন ও উয়েফার পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি ওঠে।
শেষ পর্যন্ত প্রবল বিরোধিতার মুখে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয় ফিফাকে। তবে এর মধ্য দিয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
বিশেষ করে ইউরোপীয় ফুটবলের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ তার নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্বিবেচনা করছে। ফলে ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইনফান্তিনোর পাশে আর্জেন্টিনা
তবে এমন পরিস্থিতিতেও ইনফান্তিনো একেবারে একা নন। তার নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
ফিফা সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এএফএ ইনফান্তিনোর প্রায় এক দশকের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছে। তাদের দাবি, ইনফান্তিনোর সময়ে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তি এবং প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী হয়েছে।
এএফএ বলেছে, বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়ন এবং স্পষ্ট, স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি বৃদ্ধিই ছিল ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান দিক।
ফলে একদিকে যখন ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রশ্ন সামনে আসছে, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল শক্তি তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করছে।
সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর জন্য সময়টা বেশ কঠিন। পুরোনো একটি ঘটনা নিয়ে নতুন অভিযোগ, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে বিদ্রোহ এবং সামনে নেতৃত্বের লড়াই- সবকিছু মিলিয়ে ফিফার শীর্ষ পদে তার দীর্ঘদিনের আধিপত্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরীক্ষার মুখে। তবে নতুন অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিবেদনে ওঠা ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ ইনফান্তিনো ও উয়েফা উভয় পক্ষই অস্বীকার করেছে।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?