ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন মোদী, উদ্দেশ্য কী?

ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতেই বিদেশ সফরে বের হয়েছেন মোদী। মূলত ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করতে সোমবার (৬ জুলাই) তিনি রওনা দিয়েছেন। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মোদি বলেন, আগামী কয়েক দিনে তিনি ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকের মাধ্যমে ভারতের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা আরও শক্তিশালী হবে। এর পাশাপশি দেশের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা। সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান-এর তথ্য মতে, সফরকালে তিন দেশের নেতাদের সঙ্গে মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। ভারতীয় কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই সফরের

ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন মোদী, উদ্দেশ্য কী?

ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করতেই বিদেশ সফরে বের হয়েছেন মোদী। মূলত ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী করতে সোমবার (৬ জুলাই) তিনি রওনা দিয়েছেন।

সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মোদি বলেন, আগামী কয়েক দিনে তিনি ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকের মাধ্যমে ভারতের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা আরও শক্তিশালী হবে। এর পাশাপশি দেশের তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা।

সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান-এর তথ্য মতে, সফরকালে তিন দেশের নেতাদের সঙ্গে মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই সফরের মাধ্যমে উদীয়মান বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ব্যাবসায়িক অংশীদারিত্ব জোরদার এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি ভারতের অঙ্গীকার এবং ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী হবে।

ইন্দোনেশিয়া ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক অংশীদার এবং আসিয়ানের একটি প্রভাবশালী সদস্য। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা এবং কোয়াড জোটের মাধ্যমে ভারতের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, কৃষি, উদ্ভাবন ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী নিউজিল্যান্ড।

‘অ্যাক্ট ইস্ট’(Act East Policy)

‘অ্যাক্ট ইস্ট’ ভারতের একটি পররাষ্ট্রনীতি। এর উদ্দেশ্য পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, কৌশলগত, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা।

এই নীতির প্রধান দিকগুলো হলো—

ক) আসিয়ান (ASEAN) সদস্য দেশসহ পূর্ব এশিয়ার বাজারে ভারতের অর্থনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানো।

খ) ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা, যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব জোরদার করা।

গ) সড়ক, রেল, বন্দর ও ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা।

ঘ) শিক্ষা, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি।

১৯৯০-এর দশকে ‘লুক ইস্ট’ (Look East Policy) নামে একটি নীতি গ্রহণ করেছিল ভারত। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার সেটিকে আরও সক্রিয় ও কৌশলগত রূপ দিয়ে ‘অ্যাক্ট ইস্ট’(Act East Policy) নামে পুনর্গঠন করে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি আরও জোরদার করতেই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে।

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow