ইরানের ওপর ‘কড়া নজর’ রাখছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ‘কড়া নজর’ রাখছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা ইরানকে নজরে রাখছি। ইরানের দিকে একটি বড় সামরিক শক্তি পাঠানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, আমি চাই না কিছু ঘটুক। কিন্তু আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা অনেক জাহাজ ওই দিকে পাঠাচ্ছি, শুধু সতর্কতার জন্য। তিনি জানান, ইরানকে লক্ষ্য রেখে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘বিশাল’ নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে পাঠাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপসহ অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে। এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে চলমান মহড়ার মাঝপথে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও এর স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মোড় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, তার সামরিক হুমকির কারণেই ইরান সরকার ৮০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত থা
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ‘কড়া নজর’ রাখছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমরা ইরানকে নজরে রাখছি। ইরানের দিকে একটি বড় সামরিক শক্তি পাঠানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আমি চাই না কিছু ঘটুক। কিন্তু আমরা তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা অনেক জাহাজ ওই দিকে পাঠাচ্ছি, শুধু সতর্কতার জন্য।
তিনি জানান, ইরানকে লক্ষ্য রেখে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘বিশাল’ নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে পাঠাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপসহ অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে।
এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, দক্ষিণ চীন সাগরে চলমান মহড়ার মাঝপথে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও এর স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মোড় নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, তার সামরিক হুমকির কারণেই ইরান সরকার ৮০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত থাকে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও তিনি আগ্রহী।
তবে ইরান সরকার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
এদিকে বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে হবে না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান যদি আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
মার্কিন প্রেসিডেনট বলেন, তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে ফিরতে পারবে না। যদি করে, তাহলে আবারও একই ঘটনা ঘটবে। তিনি ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো মার্কিন বিমান হামলার কথা উল্লেখ করেন। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে অংশ নেয়।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লেখা এক নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, আমাদের ওপর আবার হামলা হলে, আমরা যা কিছু আছে সব দিয়েই পাল্টা আঘাত করব।
আরাঘচি বলেন, এটি কোনো হুমকি নয়, বরং বাস্তবতা। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বাত্মক সংঘাত হলে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।
What's Your Reaction?