ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশে অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের

স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেও ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। এতে অনেকে সন্দেহ কারণে সমালোচনা বাড়তে থাকে যে, ওয়াশিংটন চুক্তির প্রকৃত শর্ত গোপন করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সংস্করণের খসড়া ফাঁস হতে শুরু করলে হোয়াইট হাউজ সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোন ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পুরো সমঝোতা স্মারক পড়ে শোনান। ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করা হয়, সমঝোতা স্মারকে ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ওই মজুত থেকে তাত্ত্বিকভাবে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। স্মারকে বলা হয়েছে, এই ইস্যু সমাধানে আগামী দুই মাসে একটি আলাদা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। অন্তত ন্যূনতম পর্যায়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই ইউরেনিয়ামকে নিম্নমাত্রায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। ‘ইউরেনিয়াম এখন তেমন মূল্যবান নয়’ সংবাদ সম্মেলনে ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বিষয়টির গুরুত্বও কমিয়ে দেখান। তিনি দাবি করেন, ইরান ওই ইউরেনিয়ামে এখন প্রবেশই করতে পারবে না। ট্রাম

ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশে অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের

স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেও ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। এতে অনেকে সন্দেহ কারণে সমালোচনা বাড়তে থাকে যে, ওয়াশিংটন চুক্তির প্রকৃত শর্ত গোপন করার চেষ্টা করছে।

বিভিন্ন সংস্করণের খসড়া ফাঁস হতে শুরু করলে হোয়াইট হাউজ সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোন ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা পুরো সমঝোতা স্মারক পড়ে শোনান।

ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করা হয়, সমঝোতা স্মারকে ইরানকে তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ওই মজুত থেকে তাত্ত্বিকভাবে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।

স্মারকে বলা হয়েছে, এই ইস্যু সমাধানে আগামী দুই মাসে একটি আলাদা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। অন্তত ন্যূনতম পর্যায়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরানের ভেতরেই ইউরেনিয়ামকে নিম্নমাত্রায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।

‘ইউরেনিয়াম এখন তেমন মূল্যবান নয়’

সংবাদ সম্মেলনে ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বিষয়টির গুরুত্বও কমিয়ে দেখান। তিনি দাবি করেন, ইরান ওই ইউরেনিয়ামে এখন প্রবেশই করতে পারবে না।

ট্রাম্প আবারও বলেন, গত বছরের মার্কিন বোমা হামলার পর ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের গভীরে তথাকথিত ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ চাপা পড়ে আছে। তার দাবি, ওই মজুত উদ্ধার করার সক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, আসলে এটি তেমন মূল্যবান নয়। তবে মনস্তাত্ত্বিক কারণে আমরা এটি পেতে চাই। কেউ সেটি স্পর্শ করছে না। আমাদের স্পেস ফোর্সের ক্যামেরাও ওই স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।

তবে প্রকাশ্যে কখনো নিশ্চিত করা হয়নি যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সব মজুত ওই তিনটি স্থাপনাতেই রয়েছে। এছাড়া ইরানের কাছে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ আরও ইউরেনিয়াম অন্য স্থানেও সংরক্ষিত আছে বলে জানা যায়, যা পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক অস্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব।

এরপরও ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই মাসের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। তার ভাষায়, তারা আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং তথাকথিত সমৃদ্ধ উপাদান হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা করবে। তবে একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান এই দাবির বিরোধিতা করতেই পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow