ইরানে কাটানো মামুনের বিভীষিকাময় ২০ দিন
আতঙ্ক, বিস্ফোরণ আর মৃত্যুভয়ের মধ্যে টানা ২০ দিন; এ কোনো সিনেমার গল্প নয়, বাস্তব জীবনের এক নির্মম অধ্যায়। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও গ্রামের মো. মামুন সেই ভয়াল সময়ের কথা বলতে গিয়ে এখনও শিউরে ওঠেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। সেদিন কারখানায় কাজ করছিলেন মামুন। চারপাশে বিকট শব্দ হলেও প্রথমে বুঝতে পারেননি। বাইরে বের হতেই চোখে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা আর ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া আকাশ। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, কারখানার পাশে মিসাইল আঘাত হেনেছে। চারদিকে মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছে, আর প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিতে গিয়ে পায়ে মারাত্মক আঘাত পান তিনি।
যুদ্ধ শুরুর পর জীবন যেন থমকে যায়। এক রুমে বন্দি হয়ে দিন-রাত কাটাতে হয় তাকে। বাইরে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, চারদিকে শুধু মিসাইলের বিকট শব্দ। প্রতিটি মুহূর্ত কাটে আতঙ্কে। এক রাতও ঘুমাতে পারেননি। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হয়নি।
প্রিয়জনেরা কেমন আছে, সেই অনিশ্চয়তা তাকে আরও ভেঙে দেয়। অর্থের অভাব, খাবারের সংকট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ভয়াবহ। অনেক সময় ৩-৪ দিন না খেয়েই থাকতে হয়েছে। কোনোভাবে শুকনো রুট
আতঙ্ক, বিস্ফোরণ আর মৃত্যুভয়ের মধ্যে টানা ২০ দিন; এ কোনো সিনেমার গল্প নয়, বাস্তব জীবনের এক নির্মম অধ্যায়। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বনগাঁও গ্রামের মো. মামুন সেই ভয়াল সময়ের কথা বলতে গিয়ে এখনও শিউরে ওঠেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। সেদিন কারখানায় কাজ করছিলেন মামুন। চারপাশে বিকট শব্দ হলেও প্রথমে বুঝতে পারেননি। বাইরে বের হতেই চোখে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা আর ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া আকাশ। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, কারখানার পাশে মিসাইল আঘাত হেনেছে। চারদিকে মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছে, আর প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিতে গিয়ে পায়ে মারাত্মক আঘাত পান তিনি।
যুদ্ধ শুরুর পর জীবন যেন থমকে যায়। এক রুমে বন্দি হয়ে দিন-রাত কাটাতে হয় তাকে। বাইরে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, চারদিকে শুধু মিসাইলের বিকট শব্দ। প্রতিটি মুহূর্ত কাটে আতঙ্কে। এক রাতও ঘুমাতে পারেননি। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হয়নি।
প্রিয়জনেরা কেমন আছে, সেই অনিশ্চয়তা তাকে আরও ভেঙে দেয়। অর্থের অভাব, খাবারের সংকট—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে ভয়াবহ। অনেক সময় ৩-৪ দিন না খেয়েই থাকতে হয়েছে। কোনোভাবে শুকনো রুটি খেয়ে দিন পার করেছেন মামুন।
দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে খবর পান, ইরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সে দেশে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এই খবর তার মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করে। অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে দেশে ফেরেন তিনি।
মাতৃভূমির মাটিতে পা রাখার সেই মুহূর্ত তার কাছে ছিল নতুন জীবনের মতো।
মামুন বলেন, দেশে ফিরে মনে হয়েছে যেন নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি। যুদ্ধ কেবল একটি দেশের সীমাবদ্ধ ঘটনা নয়। এটি মানুষের জীবন, স্বপ্ন এবং নিরাপত্তাকে ধ্বংস করে দেয়। মো. মামুনের গল্প সেই নির্মম বাস্তবতারই এক জীবন্ত দলিল, যেখানে বেঁচে ফেরাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।