ইরান ইস্যুতে সামরিক নয়, কূটনৈতিক সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের জেরে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডায় ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিলের এক সম্মেলনে মঞ্চে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইটকফকে জিজ্ঞেস করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে পারে। উত্তরে তিনি বলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানের আশাই করছেন। উইটকফ জানান, ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক চুক্তি হলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। প্রথমত, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয়ত, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমানো। তৃতীয়ত, ইরানের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ, যা প্রায় দুই হাজার কেজি এবং যার সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। চতুর্থত, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম। তিনি বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এসব বিষয়ে সমঝোতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কাঠামোয় ফিরতে চাইলে আলোচনার মাধ

ইরান ইস্যুতে সামরিক নয়, কূটনৈতিক সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার ক্ষেত্রে সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের জেরে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ফ্লোরিডায় ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিলের এক সম্মেলনে মঞ্চে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উইটকফকে জিজ্ঞেস করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে পারে। উত্তরে তিনি বলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানের আশাই করছেন।

উইটকফ জানান, ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক চুক্তি হলে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। প্রথমত, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয়ত, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমানো। তৃতীয়ত, ইরানের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ, যা প্রায় দুই হাজার কেজি এবং যার সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। চতুর্থত, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম।

তিনি বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এসব বিষয়ে সমঝোতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কাঠামোয় ফিরতে চাইলে আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। অন্য পথটি আরও খারাপ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ইরানের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে উইটকফ বলেন, যারা সরকার পতনের দাবি জানাচ্ছেন, তারা অত্যন্ত সাহসী এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে আছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা চলতে থাকলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই দমন-পীড়নে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

তবে সম্প্রতি ট্রাম্প জানান, তেহরান তাকে জানিয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে। এতে ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিক হামলা নাও চালাতে পারে। যদিও একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্যোগও দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সামরিক প্রস্তুতি নেই। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে না, যা বড় হামলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে বিক্ষোভ পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণ করবে। কারণ, ব্যাপক সামরিক হামলায় সরকার পতনের সম্ভাবনা কম এবং এতে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অব্যাহত থাকলে তার গুরুতর পরিণতি হবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশজুড়ে ছয় শতাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। এতে অন্তত দুই হাজার ছয় শতাধিক মানুষ নিহত এবং ষোল হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন। মুদ্রার অবমূল্যায়ন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

ইরান সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো চূড়ান্ত নয়। একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে চাপ বজায় রাখতে সামরিক প্রস্তুতি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও জোরদার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, বিক্ষোভের ভবিষ্যৎ এবং তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বড় ধরনের যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার পথেই সমাধান খোঁজার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow