ইরান নয়, আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি, হামলাটি ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে চালিয়েছে, যাতে এর দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত আরও উসকে দেওয়া যায়। প্রেস টিভির বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কিছুদিন আগে আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সীমানার বাইরে একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে ড্রোন আঘাত হানে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে কেন্দ্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সতর্ক করে বলেছেন, যদি হামলাটি কেন্দ্রের মূল অংশে আঘাত হানত, তাহলে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারত। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি হামলা কিংবা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি রিঅ্যাক্টর গলে যাওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বারাকাহ কেন্দ্রটি আবুধাবি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি, হামলাটি ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে চালিয়েছে, যাতে এর দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে আঞ্চলিক সংঘাত আরও উসকে দেওয়া যায়।
প্রেস টিভির বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, কিছুদিন আগে আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সীমানার বাইরে একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে ড্রোন আঘাত হানে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে কেন্দ্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সতর্ক করে বলেছেন, যদি হামলাটি কেন্দ্রের মূল অংশে আঘাত হানত, তাহলে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারত।
তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি হামলা কিংবা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি রিঅ্যাক্টর গলে যাওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বারাকাহ কেন্দ্রটি আবুধাবির আল দাফরা অঞ্চলে সৌদি সীমান্তের কাছে অবস্থিত। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত চারটি রিঅ্যাক্টর থেকে আমিরাতের মোট বিদ্যুতের প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করা হয়।
ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি, হামলার পেছনে ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ছিল আমিরাত ও ইরানের মধ্যে বৈরিতা বাড়ানো এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন সংকট সৃষ্টি করা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ফলস ফ্ল্যাগ কৌশল ব্যবহার করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
তবে আমিরাত সরকার সরাসরি কোনো দেশকে দায়ী করেনি। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনটি ড্রোন আমিরাতের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে দুটি ভূপাতিত করা হলেও একটি জেনারেটরে আঘাত হানে।
ইরানের দাবি, আমিরাতের উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে প্রযুক্তিগত অসঙ্গতি রয়েছে। তাদের মতে, ইরান থেকে হামলা চালানো হলে ড্রোনগুলো উত্তর দিক থেকে আসার কথা, কিন্তু আমিরাত বলছে সেগুলো পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ড্রোনগুলো ইরাক থেকে এসে থাকে, তাহলে সেগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা পেরিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হতো। সে ক্ষেত্রে সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখানোও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইরান আরও বলেছে, পারস্য উপসাগরে নিজেদের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্র থাকার কারণে তারা কখনোই এমন হামলার ঝুঁকি নেবে না, যা পুরো অঞ্চলে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউক্রেন মিলে ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের অনুরূপ ড্রোন তৈরি করে বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে হামলা চালাচ্ছে, যাতে এর দায় ইরানের ওপর বর্তায়। এসব হামলার উদ্দেশ্য আঞ্চলিক দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য করা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
What's Your Reaction?