ইরান: বিশ্বের বুকে নতুন পরাশক্তির উত্থান?
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে মোকাবিলা করেছে, সবচেয়ে ধুরন্ধর গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্র সামাল দিয়েছে; রক্তাক্ত হয়েছে, হারিয়েছে বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃত্বকে- তবু ভেঙে পড়েনি। দিনের পর দিন বীরের মতো মাথা উচু করে লড়েছে, শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষকে বাধ্য করেছে আলোচনার টেবিলে আসতে। ৪০ দিন আগেও যা পুরোপুরি অসম্ভব মনে হচ্ছিল, আজ সেটাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অহং মাটিতে মিশিয়ে কার্যত যুদ্ধজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান। ফলে চারদিকে আজ একটাই প্রশ্ন- বিশ্বের বুকে কি নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটেছে? রাজনীতি, জোট বা প্রোপাগান্ডা—সব কিছু সরিয়ে রেখে যদি কেবল বাস্তবতার দিকে তাকানো হয়, তবে একটি সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই: ইরান এমন একটি দেশ যা মাথা নত করতে রাজি নয়। একে কেউ হয়তো কৌশল বলবেন, কেউ বলবেন টিকে থাকার লড়াই, কিংবা একরোখা জেদ—তবে একে উপেক্ষা করা অসম্ভব। পরাশক্তির মুখোমুখি ইরান কোনো ছোটোখাটো শক্তির বিরুদ্ধে লড়েনি, তারা সরাসরি টক্কর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে অন্য যে কোনো দেশ পিছিয়ে আসতো বা চুপচাপ আপস করে নিত
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে মোকাবিলা করেছে, সবচেয়ে ধুরন্ধর গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্র সামাল দিয়েছে; রক্তাক্ত হয়েছে, হারিয়েছে বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃত্বকে- তবু ভেঙে পড়েনি। দিনের পর দিন বীরের মতো মাথা উচু করে লড়েছে, শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষকে বাধ্য করেছে আলোচনার টেবিলে আসতে। ৪০ দিন আগেও যা পুরোপুরি অসম্ভব মনে হচ্ছিল, আজ সেটাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অহং মাটিতে মিশিয়ে কার্যত যুদ্ধজয়ী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইরান। ফলে চারদিকে আজ একটাই প্রশ্ন- বিশ্বের বুকে কি নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটেছে?
রাজনীতি, জোট বা প্রোপাগান্ডা—সব কিছু সরিয়ে রেখে যদি কেবল বাস্তবতার দিকে তাকানো হয়, তবে একটি সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই: ইরান এমন একটি দেশ যা মাথা নত করতে রাজি নয়। একে কেউ হয়তো কৌশল বলবেন, কেউ বলবেন টিকে থাকার লড়াই, কিংবা একরোখা জেদ—তবে একে উপেক্ষা করা অসম্ভব।
পরাশক্তির মুখোমুখি
ইরান কোনো ছোটোখাটো শক্তির বিরুদ্ধে লড়েনি, তারা সরাসরি টক্কর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, যারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে অন্য যে কোনো দেশ পিছিয়ে আসতো বা চুপচাপ আপস করে নিতো। কিন্তু ইরান তা করেনি। তারা সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থেকেছে।
আঞ্চলিক শক্তি মোকাবিলা
এরপর আসে ইসরায়েলের কথা—যাদের কাছে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা ব্যবস্থা। কিন্তু ইরান অনবরত তাদের সঙ্গে লড়ে যাচ্ছে, চাপ সহ্য করছে এবং পাল্টা জবাব দিচ্ছে। এটি কেবল লোকদেখানো প্রতিরোধ নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম অশান্ত একটি অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সক্রিয় লড়াই।
একাকী লড়াই
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ইরানের পেছনে শক্ত কোনো ‘নিরাপত্তা ঢাল’ নেই। এই মুহূর্তে চীন বা রাশিয়ার মতো বড় শক্তিগুলোর কাছ থেকে কোনো সরাসরি সামরিক সহায়তা বা গ্যারান্টি ছাড়াই তারা এগিয়েছে। এটি কেবল একটি সুচিন্তিত ঝুঁকি এবং সেই ঝুঁকি নেওয়ার অসীম সাহস মাত্র।
আঘাত সয়েও টিকে থাকা
হামলা, ক্ষয়ক্ষতি বা শীর্ষ নেতাদের হারানো—এসব ইরানের জন্য কোনো কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতা। ইরান বড় বড় ধাক্কা খেয়েছে, তাদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও দেশটির প্রশাসনিক বা সামরিক কাঠামো ভেঙে পড়েনি। তারা প্রতিবার নিজেকে সামলে নিয়েছে এবং লড়াই চালিয়ে গেছে। এই ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা সহজে আসে না।
নতুন পরাশক্তি?
রাজনীতি বা যুদ্ধের শেষ পরিণতি নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু কেউ যদি একটু দূর থেকে নিরপেক্ষভাবে দেখে, তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: সাম্প্রতিক ইতিহাসে খুব কম দেশই এত চাপের মুখে এমন অটুট মনোবল দেখাতে পেরেছে।
ফলে, ইরান এখনই পরাশক্তি—এমন দাবি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দেশটির ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে, এ বিষয়ে অনেকেই একমত।
কেএএ/
What's Your Reaction?