ইলিশ নেই আড়তে, অলস সময় কাটছে মালিক-শ্রমিকদের
‘আগে এমন সময় ইলিশে সয়লাব থাকতো পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর থাকত প্রতিটি আড়ত। কিন্তু এক মাসের বেশি সময় ধরে বরিশালের সবকটি আড়ত মিলিয়েও ২০ থেকে ২৫ মণ ইলিশ আসছে না। আর আশানুরূপ ইলিশের আমদানি না থাকায় আগের তুলনায় দাম বেড়েছে অনেকটা।’ সোমবার (১৫ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর পোর্টরোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে জাগো নিউজকে এসব কথা বলছিলেন পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মালিক-সমিতির সাবেক অর্থ সম্পাদক ইয়ার হোসেন শিকদার। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মোট ১৭০টি আড়তে ভরা মৌসুমে আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার মণ ইলিশ আসতো। সেখানে এখন ২০-২৫ মণ পর্যন্ত মাছ আসছে। বেচাবিক্রি আগে কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। এখন হচ্ছে মাত্র ১৫-২৫ লাখ টাকার।’ নগরীর পোর্টরোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, আড়তগুলোতে মাছ না থাকায় সেই আগের চিরচেনা হাঁকডাক নেই। অনেক শ্রমিক বসে অলস সময় পার করছেন। কেউ কেউ লুডু খেলে সময় কাটাচ্ছেন। তারা জানান, এখন কাজ নেই তাই ধার দেনা করে চলছি। তবে আর কয়েকদিনের মধ্যেই ইলিশের ভরা মৌসুম। তখন কাজ করে সব দেনা পরিশোধ করবেন। ইলিশ শ্রমিক শাহআলম জাগো নিউজকে বলেন,
‘আগে এমন সময় ইলিশে সয়লাব থাকতো পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর থাকত প্রতিটি আড়ত। কিন্তু এক মাসের বেশি সময় ধরে বরিশালের সবকটি আড়ত মিলিয়েও ২০ থেকে ২৫ মণ ইলিশ আসছে না। আর আশানুরূপ ইলিশের আমদানি না থাকায় আগের তুলনায় দাম বেড়েছে অনেকটা।’
সোমবার (১৫ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর পোর্টরোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে জাগো নিউজকে এসব কথা বলছিলেন পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মালিক-সমিতির সাবেক অর্থ সম্পাদক ইয়ার হোসেন শিকদার।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মোট ১৭০টি আড়তে ভরা মৌসুমে আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার মণ ইলিশ আসতো। সেখানে এখন ২০-২৫ মণ পর্যন্ত মাছ আসছে। বেচাবিক্রি আগে কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। এখন হচ্ছে মাত্র ১৫-২৫ লাখ টাকার।’
নগরীর পোর্টরোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, আড়তগুলোতে মাছ না থাকায় সেই আগের চিরচেনা হাঁকডাক নেই। অনেক শ্রমিক বসে অলস সময় পার করছেন। কেউ কেউ লুডু খেলে সময় কাটাচ্ছেন। তারা জানান, এখন কাজ নেই তাই ধার দেনা করে চলছি। তবে আর কয়েকদিনের মধ্যেই ইলিশের ভরা মৌসুম। তখন কাজ করে সব দেনা পরিশোধ করবেন।
ইলিশ শ্রমিক শাহআলম জাগো নিউজকে বলেন, আগে আড়তে মাছ লোড আনলোড করে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত আয় হতো। এখন কাজ না থাকায় কোনোমতে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হচ্ছে। তাও সব দিন কাজ থাকছে না। তবে কিছু দিনের মধ্যেই এ দুর্দশা কেটে যাবে।
আরেক শ্রমিক শহীদ বলেন, কাজ না থাকায় বসে বসে লুডু খেলে দিন পার করছি। অনেকেই এই কাজ ছেড়ে অন্য জায়গায় কাজ করছে। কিন্তু আমরা আশায় আছি আর কয়েকদিনের মধ্যেই আড়তগুলোতে ইলিশে সয়লাব হবে। তখন দিন রাত কাজ থাকবে, আয়ও বাড়বে, ধার দেনাও পরিশোধ হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১ জুন থেকে শুরু হয়েছে রুপালি ইলিশের মৌসুম। তবে মৌসুম শুরু হলেও নদ-নদীতে ধরা পড়ছে না ইলিশ। বাজারে যা ইলিশ আছে তার দামও আকাশচুম্বি। ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ইলিশের স্বাদ ভুলতে বসেছে এক শ্রেণির মানুষ। তবে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে বলে জানিয়েছেন তারা।
নগরীর পোর্টরোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা যায়, এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৬৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা, ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের (এলসি) ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের দাম নিয়ে পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের লিয়া আড়তের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় নদীতে ইলিশ নেই বললেই চলে। গত কয়েকদিন ধরে মোকামে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মণ ইলিশ আসছে। অথচ এই সময়ে ৫০০ মণ ইলিশ আসতো। ফলে সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি পড়ছে।
মেসার্স দুলাল ফিশের ম্যানেজার মো. রবিন বলেন, দুয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমে পোর্ট রোডের আড়তগুলোয় দিনশেষে ২ হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হতো। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য পুরোপুরি উল্টো। কয়েকদিন ধরে ২০/২৫ মণের ওপর মাছ আসছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ না মেলায় দাম কিছুটা বেড়েছে।
নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে কি না জানতে চাইলে কীর্তনখোলা নদীর জেলে আসলাম বলেন, নদীতে ইলিশও নেই, জাটকাও নেই। আপাতত ধারদেনায় চলছে। তবে বৃষ্টি হলে মাছ ধরা পড়বে বলে তিনি জানান।
কীর্তনখোলা নদীর আরেক জেলে সগির বলেন, তিনি নিষেধাজ্ঞা মেনেই নদীতে নেমেছেন। অথচ নদীতে ইলিশের দেখা নাই। ইলিশ না পেয়ে এমন চলতে থাকলে জাল বেঁচে দেনা পরিশোধ করতে হবে।
মৌসুম শুরু হলেও ইলিশের খরা প্রসঙ্গে বরিশাল মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, জুন থেকে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও ভরা মৌসুম জুলাই থেকে শুরু হয়। বৃষ্টি হলেই সাগর থেকে নদীতে ইলিশ আসবে বলে তিনি আশা করেন। কারণ এ বছর মার্চ থেকে এপ্রিল এই দুই মাস ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে কড়া নজর থাকায় জাটকা নিধন কমেছে। জাটকা রক্ষায় নদীতে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং সাগরে ১১ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা চলমান ছিল। তবে এখন ইলিশ ধরায় কোনো বাধা নেই।
এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?