ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের সফর ঘিরে রাজপথে হাজার হাজার মানুষ
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আয়োজিত এসব বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য হার্জোগকে দায়ী করেন এবং তার সফরের বিরোধিতা জানান। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সিডনির বন্ডি বিচে হানুক্কাহ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণের ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে বহুনগর সফরে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন হারজগ। ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হন। ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের আমন্ত্রণে চলতি সপ্তাহে দেশটি সফর করছেন তিনি। তবে এই সফর ঘিরে প্যালেস্টাইনপন্থি গোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় হারজগ পরোক্ষভাবে জড়িত। সোমবার সন্ধ্যায় সিডনির কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলায় (সিবিডি) হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে ফিলিস্তিনপন্থি স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, বন্ডির হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ ছিল, কিন্
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রতিবাদে দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আয়োজিত এসব বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য হার্জোগকে দায়ী করেন এবং তার সফরের বিরোধিতা জানান।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সিডনির বন্ডি বিচে হানুক্কাহ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণের ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশের উদ্দেশ্যে বহুনগর সফরে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন হারজগ। ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হন। ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের আমন্ত্রণে চলতি সপ্তাহে দেশটি সফর করছেন তিনি।
তবে এই সফর ঘিরে প্যালেস্টাইনপন্থি গোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় হারজগ পরোক্ষভাবে জড়িত।
সোমবার সন্ধ্যায় সিডনির কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক জেলায় (সিবিডি) হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে ফিলিস্তিনপন্থি স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, বন্ডির হত্যাকাণ্ড ভয়াবহ ছিল, কিন্তু আমাদের অস্ট্রেলীয় নেতৃত্ব ফিলিস্তিনি জনগণ ও গাজার মানুষের বিষয়ে কোনো স্বীকৃতি দেয়নি। হারজগ দখলদারিত্ব নিয়ে সব প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন।
বিক্ষোভ চলাকালে এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আকাশে পুলিশ হেলিকপ্টার টহল দেয় এবং ঘোড়ায় টহলরত পুলিশ সদস্যদের দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ পিপার স্প্রে ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়।
সিডনি কর্তৃপক্ষ হারজগের সফরকে ‘মেজর ইভেন্ট’ ঘোষণা করে বিরল ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দেয়। এর মধ্যে ছিল জনসমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা, নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা, লোকজনকে এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া এবং যানবাহন তল্লাশি। তবে বিক্ষোভ আয়োজনকারী প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানালেও সিডনির একটি আদালতে তারা ব্যর্থ হয়।
অন্যদিকে, বিক্ষোভস্থল থেকে এক কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাজারো ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা হারজগকে স্বাগত জানান। সেখানে বন্ডি বিচ হামলায় নিহতদের স্মরণ করা হয়।
সোমবার সকালে হার্জোগ তার সফর শুরু করেন বন্ডি বিচে। সেখানে তিনি নিহতদের স্মরণে এক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং হামলায় নিহত ১৫ জনের পরিবারের সদস্য ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তিনি বলেন, এটি শুধু ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর নয়, সব অস্ট্রেলিয়ানের ওপর হামলা ছিল। আমাদের গণতন্ত্র যে মূল্যবোধকে লালন করেসেগুলোর ওপরই আঘাত করা হয়েছে। এগুলো হলো মানবজীবনের পবিত্রতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও মর্যাদা।
তবে একই দিনে ইসরায়েল সরকারের কট্টর সমালোচক সংগঠন জুইশ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে। এতে এক হাজারের বেশি ইহুদি অস্ট্রেলীয় শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতার স্বাক্ষর রয়েছে। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজকে হার্জোগের আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
What's Your Reaction?