ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে সুশাসন, শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নে জোর
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট’র (আইবিআরপিডি) যৌথ উদ্যোগে ‘ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহ-সংক্রান্ত ভূমিকা বিষয়ক আলোচনা সভা’ শীর্ষক এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (০৪ জুলাই) বিআইবিএম ক্যাম্পাসে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব মো. মোস্তাকুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হাই সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিআইবিএম-এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক জনাব আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম’র মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট’র (আইবিআরপিডি) যৌথ উদ্যোগে ‘ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহ-সংক্রান্ত ভূমিকা বিষয়ক আলোচনা সভা’ শীর্ষক এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (০৪ জুলাই) বিআইবিএম ক্যাম্পাসে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান জনাব মো. মোস্তাকুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হাই সরকার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিআইবিএম-এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক জনাব আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম’র মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জনাব মো. মোস্তাকুর রহমান, এফসিএমএ বলেন, দেশের অধিকাংশ আমানতকারী ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণে আগ্রহী। তাই শরিয়াহ কাউন্সিলকে আরও কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গভর্নেন্স বা সুশাসনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, আগামী বছর ‘বাংলা কিউআর’ সারা দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হাই সরকার বলেন, পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাঁর মতে, ব্যাংকের সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও কার্যকারিতা আরও উন্নত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. মো. কবির আহমেদ বলেন, নতুন কাঠামোতে শরিয়াহ কমপ্লায়েন্সের ওপর ব্যাপক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ খাতের সুষ্ঠু বিকাশে কার্যকর শরিয়াহ গভর্নেন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতির বক্তব্যে বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর শরিয়াহ গভর্নেন্স ও শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
তিনি বলেন, শরিয়াহ নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ কেবল ইসলামিক ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি করে না, বরং এ খাতের স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা এবং শরিয়াহ সুপারভিশন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিআইবিএম গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক জনাব আশরাফুল আলম বলেন, দেশের ইসলামিক ব্যাংকিং আইন প্রণয়নের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইন কার্যকর হলে ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সুসংহত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
আলোচনা সভায় ৩টি কারিগরি উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশাসন এবং কার্যকর শরিয়াহ তদারকি জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য,বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
What's Your Reaction?