ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকীতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করল ইরান

ইসলামি বিপ্লবের ৪৭ তম বার্ষিকী উপলক্ষে তেহরানে একাধিক ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। তেহরানের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পাশাপাশি আয়োজিত প্রদর্শনীতে সৌমার, নূর ও কাদির নামের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজ কাসেম, ইমাদ ও জোলফাঘার নামের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কয়েকটি আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘ট্রু প্রমিস-১, ২ ও ৩’ অভিযানে এবং কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল। এদিকে তেহরানে দেশটির ইসলামি বিপ্লব ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের জাতিকে লক্ষ্য করে যে সব ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।  তিনি আরও বলেন, ইরানি জনগণের শক্তি ও ঐক্য আমাদের শত্রুর মনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। পারমাণবিক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চাইছে না এবং যেকোনো ধরনের যাচ

ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকীতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করল ইরান

ইসলামি বিপ্লবের ৪৭ তম বার্ষিকী উপলক্ষে তেহরানে একাধিক ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। তেহরানের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পাশাপাশি আয়োজিত প্রদর্শনীতে সৌমার, নূর ও কাদির নামের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজ কাসেম, ইমাদ ও জোলফাঘার নামের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রদর্শিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কয়েকটি আগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরিচালিত ‘ট্রু প্রমিস-১, ২ ও ৩’ অভিযানে এবং কাতারের আল উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল।

এদিকে তেহরানে দেশটির ইসলামি বিপ্লব ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি, আমাদের জাতিকে লক্ষ্য করে যে সব ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব। 

তিনি আরও বলেন, ইরানি জনগণের শক্তি ও ঐক্য আমাদের শত্রুর মনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

পারমাণবিক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র চাইছে না এবং যেকোনো ধরনের যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ যে অবিশ্বাসের উঁচু দেয়াল তৈরি করেছে, তা আলোচনাকে ফলাফলে পৌঁছাতে দিচ্ছে না। 

তিনি আরও বলেন, একই সময়ে আমরা পূর্ণ দৃঢ়তা নিয়ে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সংলাপে যুক্ত আছি।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও মুদ্রার দরপতন ঘিরে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, পরে তা সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে বিস্তৃত হয়। তিনি সরকারের সীমাবদ্ধতার জন্য ক্ষমা চান এবং বলেন, সমস্যাগুলো সমাধানে সম্ভব সব রকমের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত। আমরা জনগণের সেবক। আমরা জনগণের সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাই না।

তিনি দাবি করেন, ইরানের শত্রুরা বাজে প্রচারণা চালিয়ে অস্থিরতা উসকে দিয়েছে। তিনি এসব বিক্ষোভকে দাঙ্গা বলে উল্লেখ করে বলেন, আমাদের শত্রুরা সমাজে গভীর ক্ষত তৈরি করতে এবং বিভাজন বাড়াতে যে চেষ্টা করছে, আমাদের সেই ক্ষত সারিয়ে তুলতে হবে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভিও এদিনের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজিত এসব সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। ওই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ছয় দশকের পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তার নেতৃত্বেই ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পাহলভি শাসনের পতন ঘটে। ইমাম খোমেনি বহু বছর ইরাক ও ফ্রান্সে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে ঐতিহাসিক এই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেন।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow