ইসলামী ব্যাংক বিএনপি সরকারের হাতেই নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভবিষ্যৎ বিএনপি ও বর্তমান সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামী ব্যাংকের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তাই ব্যাংকটির মর্যাদা ও আর্থিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ব্যাংককে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ব্যাংকটিকে ঘিরে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা উশৃঙ্খলতা সহ্য করা হবে না। ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক প্রার্থীর দৃশ্যমান আয়ের উৎস না থাকলেও তারা বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন, যা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ঘিরে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো অনি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভবিষ্যৎ বিএনপি ও বর্তমান সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইসলামী ব্যাংকের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তাই ব্যাংকটির মর্যাদা ও আর্থিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ব্যাংককে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ব্যাংকটিকে ঘিরে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা উশৃঙ্খলতা সহ্য করা হবে না।
ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক প্রার্থীর দৃশ্যমান আয়ের উৎস না থাকলেও তারা বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন, যা রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।
ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ঘিরে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি। তিনি যুক্তি দেন, কোনো ব্যাংকের গ্রাহক চেয়ারম্যানের নাম দেখে আমানত রাখেন না; বরং আমানতের নিরাপত্তা ও লভ্যাংশই তাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উত্তোলনের দাবিকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার মতে, ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে একটি উগ্র গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করার মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার তথ্য তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেখানো মুনাফার একটি অংশ ছিল ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা কৃত্রিমভাবে উপস্থাপিত। তিনি দাবি করেন, খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির কারণে বর্তমানে ব্যাংকটি আর্থিক চাপে রয়েছে এবং ২০২৬ সালের শুরুতে নিট লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের সময়ও গ্রাহকেরা ব্যাপকভাবে আমানত প্রত্যাহার করেননি। তাই চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে আমানতকারীরা ব্যাংক ছাড়ছেন—এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংককে তার প্রকৃত ও বৈধ মালিকানার কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান গভর্নরের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক একজন দক্ষ গভর্নর পেয়েছে, যিনি নিয়মের মধ্যে থেকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হচ্ছেন। ঋণগ্রস্ত হওয়ার কারণে তাকে সমালোচনা করারও যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
What's Your Reaction?