ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা লুঙ্গি পরা যাবে কি না

হজ ও উমরাহ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য ইবাদত, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই নির্ধারিত হয় কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে। এই পবিত্র সফরের সূচনাতেই আসে ‘ইহরাম’, যা শুধু একটি পোশাক নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতীক। ইহরামের অবস্থায় কী পরা যাবে আর কী যাবে না, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রায়ই নানা জিজ্ঞাসা ও ভুল ধারণা দেখা যায়। বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ‘লুঙ্গি’ একটি বহুল ব্যবহৃত পোশাক হওয়ায়, ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা লুঙ্গি পরা যাবে কি না—এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। অনেকে মনে করেন, ইহরামের সময় যেকোনো সেলাই করা কাপড়ই নিষিদ্ধ; আবার কেউ কেউ বাস্তবতার কারণে সেলাই করা লুঙ্গি ব্যবহার করতে চান। ফলে ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় তৈরি হয় বিভ্রান্তি। এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে ইহরাম অবস্থায় সেলাই বিহীন লুঙ্গি পরা প্রমাণিত। এজন্য উত্তম হলো, ইহরাম অবস্থায় সেলাই বিহীন লুঙ্গি পরিধান ক

ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা লুঙ্গি পরা যাবে কি না

হজ ও উমরাহ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য ইবাদত, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই নির্ধারিত হয় কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনার আলোকে। এই পবিত্র সফরের সূচনাতেই আসে ‘ইহরাম’, যা শুধু একটি পোশাক নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতীক।

ইহরামের অবস্থায় কী পরা যাবে আর কী যাবে না, এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রায়ই নানা জিজ্ঞাসা ও ভুল ধারণা দেখা যায়। বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ‘লুঙ্গি’ একটি বহুল ব্যবহৃত পোশাক হওয়ায়, ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা লুঙ্গি পরা যাবে কি না—এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়।

অনেকে মনে করেন, ইহরামের সময় যেকোনো সেলাই করা কাপড়ই নিষিদ্ধ; আবার কেউ কেউ বাস্তবতার কারণে সেলাই করা লুঙ্গি ব্যবহার করতে চান। ফলে ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকায় তৈরি হয় বিভ্রান্তি।

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে ইহরাম অবস্থায় সেলাই বিহীন লুঙ্গি পরা প্রমাণিত। এজন্য উত্তম হলো, ইহরাম অবস্থায় সেলাই বিহীন লুঙ্গি পরিধান করা। 

তবে কেউ যদি সেলাই বিহীন লুঙ্গি পরতে অভ্যস্ত না হয় কিংবা সেলাই বিহীন লুঙ্গি পরিধান করলে সতর বের হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে অথবা অন্য কোনো অসুবিধা থাকে, তাহলে সে সেলাই করা লুঙ্গি পরিধান করতে পারবে। এতে তার ওপর কোনো প্রকার জরিমানা ও দম আসবে না। 

তবে ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য এমন কাপড় পরিধান করা নাজায়েজ, যে কাপড় শরীরের মাপে সেলাই করা হয়েছে। যেমন পাঞ্জাবি, পায়জামা ইত্যাদি। আর যে কাপড় শরীরের মাপে সেলাই করা হয়নি, সেটা পরিধান করা জায়েজ। 

হজরত আবদুল্লাহ ইব্নু উমার রা. হতে বর্ণিত, তিনি জানান, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! ইহরাম অবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী ধরনের কাপড় পরতে আদেশ করেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, জামা, পায়জামা, পাগড়ী ও টুপী পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে, তাহলে সে যেন মোজা পরিধান করে তার গিরার নীচ হতে এর উপরের অংশটুকু কেটে নিয়ে। তোমরা জাফরান ও ওয়ারস লাগানো কোনো কাপড় পরিধান করবে না। (বোখারি : ১৮৩৮)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. হতে বর্ণিত। তিনি জানান, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবিগণ চুল আঁচড়িয়ে, তেল মেখে, লুঙ্গি ও চাদর পরে হজের উদ্দেশে মাদিনা হতে রওয়ানা হন। রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো প্রকার চাদর বা লুঙ্গি পরতে নিষেধ করেননি, তবে শরীরের চামড়া রঞ্জিত হয়ে যেতে পারে এরূপ জাফরানি রঙের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। (বোখারি : ১৫৪৫) 

ইমাম আশরাফ আলি থানবি রাহি. বলেন, কিছু সাধারণ মানুষ মনে করেন যে, ইহরামের চাদরে দুই পাটের মধ্যে সেলাই থাকলে তা বৈধ নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ধারণা। পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ হলো সেই ধরনের সেলাই, যা কাপড়কে শরীরের আকৃতিতে তৈরি করে। যেমন : পাঞ্জাবি , পায়জামা ইত্যাদি। (অগলাতুল আওয়াম : পৃ. ৭৭)

উল্লেখ্য, যে কাপড় শরীরের মাপে সেলাই করা হয়েছে (পাঞ্জাবি, পায়জামা ইত্যাদি), এমন কাপড় ইহরাম অবস্থায় কোনো পুরুষ যদি ১২ ঘণ্টা পরিমাণ সময় পরিধান করে, তাহলে তার ওপর দম ওয়াজিব হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow