ঈদযাত্রায় গুলিস্তানে জনস্রোত, কাউন্টারে মিলছে না টিকিট
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটছেন রাজধানীবাসী। মহানগরীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে দেখা যাচ্ছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে মাঝেমধ্যেই মুষলধারে নামা বৃষ্টির কারণে তাদের পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে। মঙ্গলবার (২৬ মে) গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। টার্মিনালজুড়ে টাঙানো রয়েছে বিভিন্ন রুট ও ভাড়ার তালিকা। যাত্রীদের জন্য করা হয়েছে অস্থায়ী ছাউনির ব্যবস্থাও। তবে অধিকাংশ দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত টিকিট। যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল, খুলনা, যশোর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও নড়াইলগামী অধিকাংশ পরিবহনের টিকিট আগেই শেষ হয়ে গেছে। এই টার্মিনাল থেকে ওয়েলকাম পরিবহন, দোলা পরিবহন, ইমাদ পরিবহন, পালকি পরিবহনসহ বিভিন্ন কোম্পানির বাস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নানা রুটে চলাচল করে। টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা টিকিটের আশায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও কাউন্টারে থাকা কর্মীরা নিজেদের মধ্যে গল্পে ব্যস্ত। যাত্রীরা বারবার টিকিটের খোঁজ করল
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ির পথে ছুটছেন রাজধানীবাসী। মহানগরীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে দেখা যাচ্ছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তবে মাঝেমধ্যেই মুষলধারে নামা বৃষ্টির কারণে তাদের পড়তে হচ্ছে দুর্ভোগে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। টার্মিনালজুড়ে টাঙানো রয়েছে বিভিন্ন রুট ও ভাড়ার তালিকা। যাত্রীদের জন্য করা হয়েছে অস্থায়ী ছাউনির ব্যবস্থাও। তবে অধিকাংশ দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত টিকিট।
যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরিশাল, খুলনা, যশোর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও নড়াইলগামী অধিকাংশ পরিবহনের টিকিট আগেই শেষ হয়ে গেছে।
এই টার্মিনাল থেকে ওয়েলকাম পরিবহন, দোলা পরিবহন, ইমাদ পরিবহন, পালকি পরিবহনসহ বিভিন্ন কোম্পানির বাস দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নানা রুটে চলাচল করে।
টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা টিকিটের আশায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেও কাউন্টারে থাকা কর্মীরা নিজেদের মধ্যে গল্পে ব্যস্ত। যাত্রীরা বারবার টিকিটের খোঁজ করলেও সংক্ষিপ্তভাবে জানানো হচ্ছে- ‘টিকিট নেই’। প্রায় সব কাউন্টারের চিত্রই ছিল একই রকম।
পিরোজপুরগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের যাত্রী শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি ফিরছেন, তাই প্রচণ্ড ভিড়। অনেক কষ্ট করে ভিড় ঠেলে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে।’
খুলনাগামী ওয়েলকাম পরিবহনের যাত্রী হালিমা বেগম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যা না হলেও গাড়ির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এটাকেই এবারের ঈদযাত্রার দুর্ভোগ মনে হচ্ছে। সামনে কী হয় জানি না।’
গোপালগঞ্জগামী যাত্রী রুবেল খান জানান, ঈদের আগে গোপালগঞ্জের সরাসরি কোনো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ অধিকাংশ বাসই গোপালগঞ্জ হয়ে পিরোজপুর, বাগেরহাট কিংবা খুলনা যায়। ফলে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে দূরের গন্তব্যের ভাড়ায় টিকিট কাটতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে গোপালগঞ্জ থেকে এসি বাসে ৬৫০ টাকায় ঢাকায় এসেছি। কিন্তু এখন ঈদের পরদিন গোপালগঞ্জ যেতে ৮৫০ টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে।’
এদিকে, টিকিট সংকট ও বাড়তি ভাড়ার সুযোগে কিছু অনিয়মও দেখা গেছে। ঢাকা মহানগরীর অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ‘এয়ারপোর্ট পরিবহন’-এর একটি বাসে গোপালগঞ্জগামী যাত্রী তোলা হচ্ছিল। ওই বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৬০০ টাকা।
অন্যদিকে, টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যাত্রীদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ছিনতাইকারী ও পকেটমার থেকে সাবধান থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
কেএইচ/একিউএফ
What's Your Reaction?