ঈদে বাড়ি ফাঁকা? গাছের পানির ব্যবস্থা করবেন যেভাবে

ঈদের ছুটি, অফিস সফর কিংবা কয়েক দিনের ভ্রমণে বাড়ির বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা হলেই গাছপ্রেমীদের একটাই দুশ্চিন্তা-গাছগুলোর যত্ন নেবে কে? নিয়মিত পানি না পেলে প্রিয় গাছগুলো দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। তবে কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করলে বাড়িতে না থাকলেও গাছের পানির চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। অটোমেটিক ইরিগেশন স্পাইক ব্যবহার গাছে ধীরে ধীরে পানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য অটোমেটিক ইরিগেশন স্পাইক বেশ কার্যকর। এটি মূলত এমন একটি বিশেষ নল, যার সঙ্গে পানিভর্তি বোতল লাগানো যায়। বোতলের মুখে স্পাইকটি আটকে সেটিকে টবের মাটিতে গেঁথে দিতে হয়। এরপর স্পাইকের নিয়ন্ত্রণ অংশ খুলে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়ার ব্যবস্থা করা যায়। ঠিক স্যালাইনের মতো কত দ্রুত পানি পড়বে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করে এক লিটার পানির বোতল কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত পানি সরবরাহ করতে পারে। মূলত এটি ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতিতে কাজ করে। বড় নার্সারি বা বাগানসামগ্রীর দোকানে এই স্পাইক সহজেই পাওয়া যায়। দড়ির সাহায্যে পানি সরবরাহ খুব সহজ একটি উপায় হলো পাটের দড়ি ব্যবহার করা। এর জন্য একটি বালতি ও কিছু পাটের দড়ি লাগবে। প্রথমে টবের পাশে পানিভর্তি বালতি রাখু

ঈদে বাড়ি ফাঁকা? গাছের পানির ব্যবস্থা করবেন যেভাবে

ঈদের ছুটি, অফিস সফর কিংবা কয়েক দিনের ভ্রমণে বাড়ির বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা হলেই গাছপ্রেমীদের একটাই দুশ্চিন্তা-গাছগুলোর যত্ন নেবে কে? নিয়মিত পানি না পেলে প্রিয় গাছগুলো দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। তবে কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করলে বাড়িতে না থাকলেও গাছের পানির চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব।

অটোমেটিক ইরিগেশন স্পাইক ব্যবহার

গাছে ধীরে ধীরে পানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য অটোমেটিক ইরিগেশন স্পাইক বেশ কার্যকর। এটি মূলত এমন একটি বিশেষ নল, যার সঙ্গে পানিভর্তি বোতল লাগানো যায়। বোতলের মুখে স্পাইকটি আটকে সেটিকে টবের মাটিতে গেঁথে দিতে হয়। এরপর স্পাইকের নিয়ন্ত্রণ অংশ খুলে ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়ার ব্যবস্থা করা যায়। ঠিক স্যালাইনের মতো কত দ্রুত পানি পড়বে, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করে এক লিটার পানির বোতল কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত পানি সরবরাহ করতে পারে। মূলত এটি ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতিতে কাজ করে। বড় নার্সারি বা বাগানসামগ্রীর দোকানে এই স্পাইক সহজেই পাওয়া যায়।

দড়ির সাহায্যে পানি সরবরাহ

খুব সহজ একটি উপায় হলো পাটের দড়ি ব্যবহার করা। এর জন্য একটি বালতি ও কিছু পাটের দড়ি লাগবে। প্রথমে টবের পাশে পানিভর্তি বালতি রাখুন। এরপর দড়ি ভিজিয়ে এক প্রান্ত বালতির পানিতে ডুবিয়ে দিন এবং অন্য প্রান্ত টবের মাটির কয়েক ইঞ্চি ভেতরে পুঁতে রাখুন। মাটি শুকিয়ে গেলে দড়ির মাধ্যমে ধীরে ধীরে পানি টবে চলে আসবে। যাওয়ার আগে পরীক্ষা করে দেখে নিন পদ্ধতিটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না। দীর্ঘ সময়ের জন্য বাইরে থাকলে বড় বালতি ব্যবহার করাই ভালো।

আরও পড়ুন:

বোতলের মাধ্যমে ধীরগতির সেচ

একাধিক গাছে পানি দেওয়ার জন্য বড় প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা যেতে পারে। বোতলের মুখে ছোট ছোট ছিদ্র করে সেটিকে পানিভর্তি অবস্থায় উল্টো করে টবের মাটিতে কিছুটা গভীরে বসিয়ে দিন। তবে এর আগে মাটি ভিজিয়ে নেওয়া জরুরি। এরপর মাটি শুকাতে শুরু করলে বোতল থেকে ধীরে ধীরে পানি বের হয়ে মাটিতে পৌঁছাবে। এতে কয়েক দিন গাছ আর্দ্র থাকবে।

খবরের কাগজ দিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখা

বাড়ি ছাড়ার দিন গাছগুলোতে ভালোভাবে পানি দিয়ে নিন। এরপর সব টব একসঙ্গে বড় কোনো প্লাস্টিকের ট্রে বা বোলের মধ্যে রাখুন। পুরোনো খবরের কাগজ পানিতে ভিজিয়ে মুঠো করে টবগুলোর চারপাশে সাজিয়ে দিন। ভেজা কাগজ দীর্ঘ সময় আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে, ফলে টবের মাটি সহজে শুকিয়ে যাবে না এবং গাছও সতেজ থাকবে।

যাওয়ার আগে যা মনে রাখবেন

বাড়ির বাইরে থাকার সময়ের দৈর্ঘ্য ও গাছের ধরন অনুযায়ী যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। তবে আগে থেকেই কয়েক দিন পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া ভালো, কোন পদ্ধতিতে আপনার গাছ সবচেয়ে ভালো থাকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-গাছকে সরাসরি রোদে রাখা যাবে না। এতে মাটির পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাই এমন স্থানে টব রাখুন, যেখানে পর্যাপ্ত আলো থাকবে কিন্তু তীব্র রোদ পড়বে না।

এসব উপায়ে সাধারণত চার থেকে সাত দিন পর্যন্ত গাছে পানির জোগান দেওয়া সম্ভব। এর পরও দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হলে প্রতিবেশী, বন্ধু বা পরিচিত কাউকে গাছের দায়িত্ব দিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা।

জেএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow