উজানের ঢলে ফুঁসছে যমুনা, বন্যার আশঙ্কা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকের আবাদি ফসল, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান বলেন, যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট পানি বিপদ সীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে উপজেলার সাপধরী, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়। এতে আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজি পাট সহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবারের বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা ঋণ করে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। দ্রুত সরকারি সহায়

উজানের ঢলে ফুঁসছে যমুনা, বন্যার আশঙ্কা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকের আবাদি ফসল, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আব্দুল মান্নান বলেন, যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট পানি বিপদ সীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে উপজেলার সাপধরী, চিনাডুলী, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়। এতে আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজি পাট সহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবারের বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে পড়েছেন বাসিন্দারা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা ঋণ করে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাপধরী ইউনিয়নের প্রজাপতি গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম প্রামনিক বলেন, আমার তিন বিঘা জমির পাট বন্যায় তলিয়ে গেছে, বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে পাট নষ্ট হয়ে যাবে।

একই গ্রামের রফিক মন্ডল বলেন, আমার ৪০ শতাংশ জমির সবজি কিছুটা তলিয়ে গেছে পানি বৃদ্ধি পেলে বাকিটুকু তলিয়ে যাবে, আকস্মিক বন্যায় তার সবজি চাষ ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এদিকে, বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক গ্রামীণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কৃষি ও জনজীবনে বন্যার ক্ষতির প্রভাব বাড়তে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ইসলামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, যমুনার বুকে চারটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হেক্টর জমির পাট বীজতলা ও সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow